সেই আর্জেন্টিনাই জিতল শিরোপা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫

সেই আর্জেন্টিনাই জিতল শিরোপা

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০১৮

print
সেই আর্জেন্টিনাই জিতল শিরোপা

রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়ে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার রেশ না কাটতেই আবার বড় এক ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনার ফুটবল। স্পেনে অনুষ্ঠিত কোতিফ কাপে ভারতের অনূর্ধ্ব-২০ দলের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দল! হোক না বয়সভিত্তিক ফুটবলে। ভারতের মতো একটা দলের কাছে ফুটবলের মহাপ্রতাপশালী আর্জেন্টিনার হারটা বেমানানই। আর্জেন্টিনার ফুটবল আর কত নিচে নামবে-এমন আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছিল। দানা বাধার আগেই সমালোচনাটাকে কবর দিল আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দল। ভারতের কাছে হেরে যাওয়া সেই আর্জেন্টিনাই জিতে নিল কোতিফ কাপের শিরোপা।

গতকাল স্পেনে অনুষ্ঠিত ফাইনালে রাশিয়া অনূর্ধ্ব-২০ দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোতিফ কাপের দ্বিতীয় শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা। ভারতের কাছে আর্জেন্টাইন যুবাদের ২-১ গোলের হারটা ছিল গ্রুপপর্বে। তবে বাকি ম্যাচগুলো জিতে ঠিকই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টাইনরা। সেখানে প্রতিবেশী উরুগুয়েকে টাইব্রেকারে হারিয়ে পা রাখে ফাইনালে।

আর কাল ফাইনালে রাশিয়াকে হারিয়ে জিতে নিল শিরোপাই। কাল ফাইনালেও অবশ্য প্রথমেই গোল হজম করে বসেছিল আর্জেন্টাইন যুবারা। ম্যাচের ১১ মিনিটেই রাশিয়াকে এগিয়ে দেন ইগর দিভিভ। কিন্তু রাশানরা লিডটা তিন মিনিটও ধরে রাখতে পারেনি। ১৪ মিনিটেই আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান ফাকুন্দো কলিদিদো।

এরপর দুই দলই চেষ্টা করেছে এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালও টাইব্রেকে গড়ায় কিনা, সেই আলোচনা যখন তুঙ্গে তখনই আর্জেন্টিনার নায়ক বনে যান অ্যালান মারিনেল্লি। ৯১ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে করেন চ্যাম্পিয়ন।

সেই ১৯৮৩ সাল থেকে নিয়মিত হয়ে আসা কোতিফ কাপ টুর্নামেন্টটা একটু অদ্ভুতই। কারণ, এক বয়স বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টটিতে অংশ নিত বড় বড় ক্লাবগুলোও। তাই তো বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবগুলোর সাফল্যের খাতায়ও লেখা আছে কোতিফ কাপ শিরোপা। এমন ঘটনাও আছে যে, একটা দেশের জাতীয় দলের পাশাপাশি সেই দেশের ক্লাবও এক সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে নেমেছে।

২০০১ সালের কথাই ধরুন। সেবার ব্রাজিলের পাশাপাশি দেশটির ক্লাব সাও পাওলোও অংশ নেয়। এবং ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলকে আড়াল করে সেবার শিরোপাও জিতে নেয় সাও পাওলোই। পরের বছরই আবার শিরোপা জিতে ব্রাজিল। মেয়েদের কোতিফ কাপে এখনো দেশ এবং ক্লাব মিলেমিশেই খেলছে। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে পুরুষদের কোতিফ কাপে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই থেকে ক্লাব নয়, শুধু বিভিন্ন দেশের বয়সভিত্তিক দলগুলোই খেলে আসছে।

ফলে বিশ্বব্যাপী কোতিফ কাপের আকর্ষণ তেমন না থাকলেও টুর্নামেন্টটি একেবারে ফেলনারও নয়। পরাশক্তি দেশগুলো বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নেয় টুর্নামেন্টটিকে। তবে আর্জেন্টিনা এবার আরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। কারণ, ২০১২ সালে এই কোতিফ কাপের শিরোপা জয়ের পর ফুটবলে আর্জেন্টিনার আর কোনো সাফল্যই নেই।

ফুটবলের বিশ্ব টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার শিরোপা সাফল্যের স্মৃতিতে ধুলোর আস্তরণ আরও পুরো। সর্বশেষ সেই ২০০৭ সালে বিশ্ব যুব বিশ্বকাপ তথা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। সেই থেকে মূল জাতীয় দল হোক বা বয়সভিত্তিক দল, ফুটবলের বিশ্ব টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনাইনদের আর কোনো শিরোপা সাফল্য নেই। এক কোতিফ কাপ ছাড়া। জাতীয় দল বিশ্বকাপে আরও একবার চূড়ান্ত ব্যর্থতার হওয়ার পর তাই এবার কোতিফ কাপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।

দলটির কোচিং দায়িত্ব দিয়েছিল জাতীয় দলের অন্তর্বর্তী কালীন কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। আর্জেন্টাইন যুবারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আগমণী বার্তা জানান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই পা রাখে স্পেনে। কিন্তু গ্রুপপর্বে ভারতের মতো দলের কাছে হার তাদের জন্য বড় একটা আঘাত হয়েই আসে। তবে আঘাত বড় হলেও ভারতের কাছে হারটা যে আর্জেন্টাইন যুবারাদের মনোযোগ শিরোপা লক্ষ্য থেকে টলাতে পারেনি, সেটা এখন স্পষ্টই।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার জন্য এখনো মেসিদের চৌদ্দিগোষ্ঠি উদ্ধার করে চলেছে দেশটির গণমাধ্যম। যুবারাদের এই সাফল্য সেই সমালোচনা থেকে মেসিদের সাময়িকের জন্য হলেও বাচাল। মেসির কাছ থেকে তাই ‘ডাবল’ ধন্যবাদই প্রাপ্য আর্জেন্টাইন যুবাদের।

কেআর

 
.


আলোচিত সংবাদ