বার্সেলোনার এমবাপে-আক্ষেপ!

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫

বার্সেলোনার এমবাপে-আক্ষেপ!

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮

বার্সেলোনার এমবাপে-আক্ষেপ!

কিলিয়ান এমবাপে। ফ্রান্সের এই বিস্ময়বালক রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর জন্যই আক্ষেপের এক নাম! গত মৌসুমে এমবাপেকে কেনার জন্য সবার আগে মাঠে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ১৮০ মিলিয়ন ইউরোর লোভনীয় প্রস্তাবও দিয়েছিল মাদ্রিদ জায়ান্টরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিয়ালকে টেক্কা দিয়ে এমবাপেকে কিনে নেয় পিএসজি। বিশ্বকাপের সুবাদে সেই এমবাপে এখন বিশ্ব তারকা। দলবদলের বাজারে সবচেয়ে ‘হট কেক’। রিয়ালের তবু একটা সান্ত্বনা আছে। কেনার চেষ্টা তারা করেছে। কিন্তু বার্সেলোনার? তাদের তো সেই সান্ত্বনাটুকুও নেই। কেনার সুযোগ পেয়েও যে এমবাপে নামের বিস্ময়কে কিনেনি বার্সেলোনা!

হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলেছে আর কি! এমবাপেকে না কিনে বার্সেলোনা কিনেছে তারই স্বদেশি উসমানে ডেম্বেলেকে। না, বার্সেলোনার কর্তারা আক্ষেপের কথা বিষয়টি প্রকাশ করেননি। তবে তাদের মনের অন্দরে যে আক্ষেপের ঝড় বইছে, সেটা ফুটিয়ে তুলেছেন হোসে মারিয়া মিনগুয়েয়া। এমবাপে কেনার সুযোগের বার্তাটি বার্সেলোনাকে দিয়েছিলেন তিনিই। কিন্তু বার্সেলোনার কর্তারা এমবাপের পরিবর্তে বেছে নেন ডেম্বেলেকে।

এই হোসে মারিয়া মিনগুয়েয়া স্পেনের খ্যাতিমান এজেন্টদের একজন। লিওনেল মেসির সঙ্গে বার্সেলোনার চুক্তির পেছনে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহোর খোঁজটাও বার্সেলোনাকে দিয়েছিলেন তিনিই। তিনিই আর্জেন্টিনা থেকে ন্যু-ক্যাম্পে নিয়ে এসেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

বর্ষিয়ান এই এজেন্ট ন্যু-ক্যাম্পে নিতে চেয়েছিলেন এমবাপেকেও। কিন্তু বার্সেলোনার কর্তারা পিএসজি তারকাকে কেনার চেষ্টাই করেননি। এমবাপে তাদের খেলার ধরনের সঙ্গে যায় না, এই যুক্তিতেই নাকি তার পরিবর্তে ডেম্বেলেকে কেনে বার্সা!

স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক ‘স্পোর্ত’-এ নিজের লেখা কলামে বার্সেলোনার এই আক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরেছেন মিনগুয়েয়া। লিখেছেন, বার্সেলোনা এমবাপেকে কেনার সুযোগ পেয়েও কিনেনি। কিভাবে সুযোগটা এসেছিল, সেই বয়ানও করেছেন মিনগুয়েয়া। ঘটনাটা গত মৌসুমের দলবদলের শুরুর দিকের। এমবাপে তখন ফ্রান্সেরই আরেক ক্লাব মোনাকোতে ছিলেন। কিন্তু তাকে কেনার জন্য তখনো রিয়াল মাদ্রিদ বা পিএসজি ওঠেপড়ে লাগেনি।

ঠিক ওই সময়টাতে এমবাপের খোঁজটা মিনগুয়েয়াকে দেন তার ছেলে। যিনি নিজেও একজন এজেন্ট। এমবাপের বাবা এবং আইনজীবীর সঙ্গে তার ছেলের কথা হয় জানিয়ে মিনগুয়েয়া লিখেছেন, ‘এমবাপের পরিবারের আইনী বিষয়গুলো যিনি দেখতেন, তার সঙ্গে ওর (ছেলে) কথা হয়েছিল। তিনি ওকে বলেছিলেন, বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি করার বিষয়ে এই ছেলে (এমবাপে) ভাবছে না। কারণ, বার্সেলোনার আক্রমণভাগে তখন মেসি, নেইমার, সুয়ারেজের মতো খেলোয়াড়েরা ছিলেন।’

না ভাবলেও সুযোগটা ছিল। কারণ, এমবাপের বাবা নিজে থেকেই মিনগুয়েয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছেলের দলবদলের বিষয় নিয়ে কথা বলেন। অনুরোধ করেন তার ছেলেকে (এমবাপে) বড় কোনো ক্লাব কিনতে চায় কিনা, সেটি দেখার জন্য। এমনকি মিনগুয়েয়াকে নিজের ফোন নম্বরও দেন এমবাপের বাবা। মিনগুয়েয়া লিখেছেন, তিনি এমবাপের বাবার এই বার্তা বার্সেলোনার পরিচালক পর্ষদ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন, ‘সেই বার্তাটা পরিচালকমণ্ডলী থেকে টেকনিক্যাল কমিটি পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কিন্তু তারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়, এমবাপে নাকি ডেম্বেলে?’

শেষ পর্যন্ত তারা ডেম্বেলেকেই বেছে নেয়। এমবাপেকে কেনার কোনো চেষ্টাই করেনি। ডেম্বেলেও প্রতিভাবান। কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপের মাধ্যমে এমবাপে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি অন্য জিনিস। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ দলে বার্সেলোনার ডেম্বেলেও ছিলেন। কিন্তু বেঞ্চ গরম করেই কাটাতে হয়েছে তাকে। এক-দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছেন, সেটাও শেষ দিকে। আর এমবাপে শুধু প্রতিটা ম্যাচই খেলেননি, ফ্রান্সের দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান তারই। বিশ্ববাসীর মন জয় করার পাশাপাশি জিতেছেন বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

এই এমবাপেকে দেখে বার্সা কর্তাদের নিশ্চয় এখন আক্ষেপ হচ্ছে খুব।

কেআর