রিয়াল-বার্সার বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

রিয়াল-বার্সার বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ!

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮

রিয়াল-বার্সার বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ!

স্পেনের নিম্ন পর্যায়ের লিগ গুলোতে ‘ম্যাচ পাতানো’ রোগ এখন ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। কদিন আগেই ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে দীর্ঘ মেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয়েছে একাধিক ফুটবলারকে। অন্তত ২০০ জন মানুষ ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত বলে তালিকাভুক্ত করেছে স্পেনের পুলিশ। তবে শুধু অখ্যাত ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধেই নয়, ম্যাচ পাতানোর সন্দেহের তীর এবার বিশ্বের সেরা দুই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দিকেও!

হ্যাঁ সত্যিই তাই। তবে সন্দেহের তীরটা যে রিয়াল বা বার্সেলোনার মূল দলের বিরুদ্ধে নয়, সেটা তো বুঝতেই পারছেন। অভিযোগের তীরটা রিয়াল-বার্সার বয়স ভিত্তিক দলেল দিকে। সন্দেহের তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাস্তিয়া ও বার্সেলোনা বি দলের দুটি ম্যাচ।

স্পেনের সেগুন্ডা ডিভিশন ডি, সেগুন্ডা ডিভিশন বি, তেরসেরা ডিভিশন ও কোপা ফেডারেশন-এই লিগগুলোতেই মূলত ম্যাচ পাতানো রোগ ক্যান্সারের মতো ঝেকে বসেছে। ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ ও চলতি ২০১৭-১৮ মৌসুম, এই তিন মৌসুম মিলিয়ে মোট ৫১টি ম্যাচকে সন্দেহের তালিকায় ফেলে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ। সেই তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাস্তিয়া ও বার্সেলোনা বি দলের দুটি ম্যাচও আছে।

শুধু সন্দেহের তালিকা করাই নয়, স্পেনের ২০০ পুলিশ এরই মধ্যে তদন্ত কাজ শুরুও করে দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, সন্দেহের তালিকায় থাকা ওই ম্যাচ দুটিতে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাস্তিয়া ও বার্সেলোনা বি দল। বার্সেলোনা বি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগটা গত ২০১৬-১৭ মৌসুমের একটা ম্যাচকে কেন্দ্র করে। সেগুন্ডা ডিভিশন বি’তে এলডেন্সের বিপক্ষে যে ম্যাচটাতে বার্সেলোনা বি দল পেয়েছিল ১২-০ গোলের বড় জয়।

রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাস্তিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগটা আরও টাটকা। তাদেরকে সন্দেহের কাঠগড়ায় তুলেছে এ মৌসুমেরই একটা ম্যাচ। এবং বার্সেলোনা বি দলের মতো রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাস্তিয়ার ম্যাচটাও সেগুন্ডা ডিভিশন বি লিগের। সেরসেডার বিপক্ষে যে ম্যাচটায় রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাস্তিয়া জিতেছে ২-০ গোলে।

এলডেন্সের বিপক্ষে বার্সেলোনা বি দলের ম্যাচটা নিয়ে সন্দেহের বুদবুদ উঠেছিল তখনই। দুই দলের মাঠের লড়াই-ই নাকি ছড়িয়ে দিচ্ছিল গন্ধ। এলডেন্সের খেলোয়াড়দের অসহায় আত্মসমর্থন নাকি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, স্রেফ হারার জন্যই মাঠে নেমেছে তারা! জয়ের ক্ষুধা দূরের কথা, মাঠে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের প্রতিরোধ করার ন্যুনতম চেষ্টাও নাকি করেনি এলডেন্সের খেলোয়াড়েরা!

রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাস্তিয়ার জয়টা অত বড় নয় বটে। তবে মাঠের খেলাতে নাকি ম্যাচ পাতানোর গন্ধটা স্পষ্টই ছিল! প্রতিপক্ষ যত বড় হুমকিই হোক, মাঠের লড়াইয়ে তা খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিতে সিদ্ধহস্ত রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। এখন দেখার বিষয়, মাঠের বাইরের এই ম্যাচ পাতানো অভিযোগের বিরুদ্ধে রিয়াল-বার্সা কীভাবে লড়াই করে। এবং শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে জিতে কলঙ্কমুক্ত হতে পারে কিনা।

কেআর