মেসির চেয়েও এগিয়ে থেকে বার্নাব্যুতে যাচ্ছেন নেইমার

ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫

মেসির চেয়েও এগিয়ে থেকে বার্নাব্যুতে যাচ্ছেন নেইমার

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:২৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

মেসির চেয়েও এগিয়ে থেকে বার্নাব্যুতে যাচ্ছেন নেইমার

লিওনেল মেসি কতবার যে সান্তিয়ানো বার্নাব্যুর শান্তি নষ্ট করেছেন, তার হিসাব নেই। এই তো গত ২৩ ডিসেম্বরও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দর্শকদের কাঁদিয়েছেন মেসি। সেই মেসি না থাকলেও আগামীকাল বুধবার রিয়াল ও পিএসজির মধ্যকার চ্যাম্পিয়য়ন্স লিগের শেষ ষোল’র প্রথম লেগে থাকছেন নেইমার। বার্নাব্যুর দর্শকদের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হতে যাচ্ছেন তিনিই। বরং মেসির চেয়েও বড় আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারেন নেইমার। মুখের কথা নয়, পরিসংখ্যানই বলছে এই কথা। ফর্ম বিবেচনায় এই মুহূর্তে মেসির চেয়ে নেইমারই এগিয়ে।

আক্ষরিক অর্থেই তাই। এই মৌসুমে রীতিমতো উড়ছেন মেসি। ক্লাব বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মাঠে নামলেই গোল পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, পারফরম্যান্সের মাপকাঠিতে মেসির চেয়েও এগিয়ে নেইমার। শুধু গোল করায় নয়, গোল করানোর কাজেও মেসির চেয়ে নেইমার এগিয়ে।

মৌসুমে এ পর্যন্ত বার্সেলোনার হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচে মোট ৪১টি গোলে প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছেন মেসি। এর মধ্যে ২৭ গোল তিনি করেছেন নিজে। বাকি ১৪টি গোল তিনি করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে। উল্টে দিকে পিএসজির হয়ে সবধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নেইমার খেলেছেন মাত্র ২৭টি ম্যাচ।

তাতেই ব্রাজিলিয়ান তারকা প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছেন পিএসজির মোট ৪৪টি গোলে। এর মধ্যে ২৮টি গোল তিনি নিজে করেছেন। বাকি ১৬টি গোল করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে।

সামগ্রিক পরিসংখ্যানেই শুধু নয়। নেইমার মেসির চেয়ে এগিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরিসংখ্যানেও। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপপর্বের ৬ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন নেইমার। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪টি গোল। সেখানে মেসি গ্রুপপর্বের ৬ ম্যাচে করেছেন মাত্র ২ গোল। সতীর্থদের দিয়েও করিয়েছেন দুটি গোল।

এই পরিসংখ্যান সত্যিকার অর্থেই রিয়াল শিবিরকে ভাবিয়ে তুলেছে। রিয়ালের কোচ জিনেদিন জিদানকে নেইমারের জন্য কষতে হচ্ছে আলাদা ছক। নেইমারকে নিয়ে জিদানকে বাড়তি আতঙ্কিত করে তুলেছে গত শনিবার তুলুজের বিপক্ষে ম্যাচের পরিসংখ্যানও। বার্সেলোনায় মেসি যেমন স্বাধীন খেলোয়াড়, পিএসজিতে নেইমারও ঠিক তাই।

ব্রাজিলিয়ান তারকা সেই স্বাধীন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বড় নজিরটা গড়েছেন শনিবারের ওই ম্যাচটাতে। ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ওই ম্যাচে মোট ১৩৭ বার বল নিজের দখলে নিয়েছেন নেইমার। এর মধ্যে কাটায় কাটায় ১০০টি পাস দিয়েছেন সতীর্থদের!

এটা শুধু ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের কোনো ম্যাচে নয়, ২০০৬ সালের (অপটা পরিসংখ্যান লিপিবদ্ধ করে রাখার প্রক্রিয়া শুরু করার পর থেকে) পর ইউরোপের শীর্ষ ৫টি লিগেরই কোনো এক ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ পাস দেওয়ার কীর্তি। পাশাপাশি ম্যাচের একমাত্র গোলটাও করেছেন তিনিই। মানে তুলুজকে একাই কাঁপিয়ে দিয়েছেন নেইমার।

ফলে কোচ জিদানের পাশাপাশি রিয়ালের খেলোয়াড় এবং সমর্থকরাও নেইমারকে নিয়ে আতঙ্কিত। নেইমার পারবেন উজ্জীবিত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর শান্তি নষ্ট করতে?

পারলে ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করছেন ফুটবলবোদ্ধারা।

কেআর