মেলায় ঘুরতে এসে ফ্যাকাশে তার হাসিমুখ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫

মেলায় ঘুরতে এসে ফ্যাকাশে তার হাসিমুখ

কামরুল হিরন ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

মেলায় ঘুরতে এসে ফ্যাকাশে তার হাসিমুখ

শনিবার শীতের তীব্রতা কম হওয়ায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা খুঁজে পেয়েছে তার আসল রুপ। সূর্যের সঙ্গে হাসি ফুটেছে বিক্রেতাদের মুখেও। ছুটির দিনে মানুষের স্রোত নামতে থাকে মেলা প্রাঙ্গণে। কিন্তু এদের মধ্যেই যৌবনে পা দেয়া এক নারীর হাসিমুখ হঠাৎই ফ্যাকাশে রুপ নেয়।

তখন বিকেল। হাস্যোজ্জ্বল মুখে জেসিকা ইসলাম একটি স্টলে প্রবেশ করলেন মা জাহানারা ইসলামকে নিয়ে। দশ মিনিট বাদেই ফ্যাকাশে মুখে বেরিয়ে এলেন দুজন।

কথা প্রসঙ্গে জানা গেল, এখানে রক্ত পরীক্ষা করে জেসিকার ডায়াবেটিস ধরা পরেছে। মায়ের ডায়াবেটিস পরিমাপ করতে এসে অল্প বয়সেই নিজেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জেনে বিষন্ন সে।

মেলায় আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের অনেকেই খুব আগ্রহ নিয়ে  ডায়াবেটিস পরীক্ষাসহ প্রেসার মাপাচ্ছেন এসএস ইন্টারন্যাশনাল নামের এই স্টলটিতে।

দায়িত্বরত তিনজন কর্মী মেশিনের মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করে অল্প সময়ের ব্যাবধানে জানিয়ে দিচ্ছেন রোগীর ডায়াবেটিসের মাত্রা অথবা নতুন করে কেউ এই রোগে ভুগছেন কি না। এর জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা। এছাড়া এ স্টলে বিক্রি হচ্ছে ডায়াবেটিস ও প্রেসার মাপার যন্ত্র।

স্টলটির কর্ণধার আবদুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমাদের দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখানে পরীক্ষা করতে আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশেরই নতুন করে ডায়াবেটিস ধরা পড়ছে।

তিন জানান, এই স্টলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ জন ক্রেতা-দর্শনার্থী তাদের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাচ্ছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশেরই অজানা তিনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন। এছাড়া ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ রোগী তার শরীরে ডায়াবেটিসের মাত্রা কী অবস্থায় রয়েছে তা পরীক্ষা করাচ্ছেন। সেইসঙ্গে প্রেসারও মাপাচ্ছেন অনেকেই।

আবদুর রহমান বলেন, মূলত বংশগতভাবেই মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চিন্তা,  খাবারে অনিয়ম অথবা ভেজাল খাবার কিংবা পরিবেশগত প্রভাবেও আমাদের দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

কিভাবে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হয়- জানতে চাইলে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, শরীরে ডায়াবেটিস আছে কিনা নিশ্চিত হতে অন্তত তিনটি স্টেজে পরীক্ষা করতে হয়। খালি পেটে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এই পরীক্ষা করতে হবে এবং তার আগে অন্তত আট ঘণ্টা খালি পেটে থাকতে হবে। পরীক্ষায় যদি শর্করার পরিমাণ ৭ অথবা ৭ মাত্রার ওপরে থাকে, তখন বলা যেতে পারে সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

এছাড়া, খাবারের দুই ঘণ্টা পর পরীক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি ১১ দশমিক ১ অথবা এর বেশি মাত্রায় শরীরে শর্করা থাকে, তখন তাকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলা যেতে পারে।

তবে এ দুই পরীক্ষায় ফলাফল স্বাভাবিক থাকলেও রোগী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন, সেটি বলা যাচ্ছে না।

এ ক্ষেত্রে আরেকটি পরীক্ষা রয়েছে, যেখানে ১২০ দিনের রক্তে শর্করার গড় পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষার নাম এইচবিএওয়ানসি। এখানে রক্তের লোহিত কণিকা থেকে পরীক্ষা করা হয়। এটা যদি ৬ দশমিক ৫ বা এর বেশি থাকে, তখন রোগীকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলতে হবে।

এর চিকিৎসা পদ্ধতি প্রসঙ্গে ডা. লেলিন বলেন, ডায়াবেটিসের  চিকিৎসা পদ্ধতিকেও তিন ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথমত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয়ত ব্যায়াম এবং তৃতীয়ত ওষুধ পদ্ধতি। যারা প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন, তারা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যায়াম করলেই এই রোগ ভালো হয়ে যেতে পারে।

আর ব্যায়ামের মধ্যে রয়েছে দ্রুত হাঁটা। অন্তত ১৫০ মিনিট প্রতি সপ্তাহে হাঁটতে হবে। সেটি ২০ মিনিট করে প্রতিদিন বা ৩০ মিনিট করে পাঁচ দিন হাঁটলেও চলবে।

কেএইচ/এমএসআই