বুদ্ধিমত্তা কমে যাচ্ছে দূষিত বাতাসে!

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

বুদ্ধিমত্তা কমে যাচ্ছে দূষিত বাতাসে!

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

বুদ্ধিমত্তা কমে যাচ্ছে দূষিত বাতাসে!

বাতাসের গুণমানের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয় স্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি ১.৪ কোটির বেশি মানুষের বসবাস আছে এমন শহরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকাটি প্রস্তুত করেছে। একই সাথে ভারতের রাজধানী দিল্লীকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর এবং মুম্বাইকে চতুর্থ সর্বোচ্চ দূষিত শহর বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে।

দীর্ঘদিন দূষিত বায়ু গ্রহণ বা বায়ু দূষণের মধ্যে বসবাসের কারণে মানুষের বুদ্ধিমত্তা কমে আসতে পারে। গবেষকদের ধারণা, বয়স বাড়ার সঙ্গে এর নেতিবাচক প্রভাব বাড়তে থাকে এবং কম শিক্ষিত মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়। শুধু তাই নয়, দূষণের ফলে মানুষের দেখা দিতে পারে অ্যালঝেইমারের মতো রোগও, যাতে স্মৃতিভ্রম হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের গবেষকরা চীনের প্রায় ২০ হাজার মানুষের ওপর একটি গবেষণা করে। এই গবেষণা থেকেই বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই গবেষণার কৌশল হিসেবে তারা মানুষের গণিত ও মৌখিক দক্ষতাকে বেছে নিয়েছিলেন।

গবেষকদের ধারণা, একবার মানুষের ওপর দূষণের এই প্রভাব শুরু হলে তা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকবে। তারা জানান, বিশ্বের প্রায় ৮০ ভাগ নগরবাসী এখন দূষিত বায়ু গ্রহণ করছে। তাই এই গবেষণার একটি বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা রয়েছে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা যেই জায়গায় বসবাস করেন, সেখানকার বায়ুতে সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডসহ কিছু বস্তুকণার ওপর ভিত্তি করে এ গবেষণাটি করা হয়। তবে, এগুলো কী পরিমাণে থাকলে তা দূষিত বলে বলা হবে এ ব্যাপারে তারা  কিছু বলেননি।

তবে, কার্বন মনোক্সাইড, ওজনের মতো বড় বস্তুকণাকে এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে ‘অদৃশ্য খুনি’ উল্লেখ করে জানায়, যে সারা বিশ্বে বায়ু দূষণের কারণে অন্তত ৭০ লাখ মানুষের অকালে মারা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিকি ইয়েল স্কুল অব পাবলিক হেলথের শিক্ষক ও গবেষক শি চেন বলেন, বায়ু দূষণের কারণে শিক্ষার স্তর এক বছর নেমে যেতে পারে। এটা বিশাল ব্যাপার।

এর আগেও এ ধরনের একটি গবেষণা করা হয়েছিল, তবে তখন অংশগ্রহণকারীরা ছিল শুধু শিক্ষার্থীরা।

গবেষণায় বলা হয়েছে যে, গবেষণাটি চীনের নাগরিকদের ওপর পরিচালিত হলেও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের অবস্থাও বোঝা যাবে।

ইসি/