আন্তরিকভাবে কবুল না বললে কি বিয়ে হবে?

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

আন্তরিকভাবে কবুল না বললে কি বিয়ে হবে?

পরিবর্তন ডেস্ক ২:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

আন্তরিকভাবে কবুল না বললে কি বিয়ে হবে?

প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম। আমার এক পরিচিত মেয়ের প্রশ্ন এটি। সে তার বিয়ে নিয়ে সন্দেহে আছে। বিয়ের সময়, সে তার হবু স্বামী এবং শশুরবাড়ির কিছু মানুষের আচরনে বিয়েতে রাজি খুশি ছিলো না। কিন্তু, তার অভিভাবক তাকে এই বিয়েতে কোনরকম জোর করেনি। তবে, শেষ মুহূর্তে, সবরকম আয়োজনের পর সামাজিক কারনে সে এই বিয়ে থেকে পিছিয়েও আসতে পারেনি। কবুল পড়ানোর সময়, সে মনে মনে আল্লাহকে বলে, “আল্লাহ তুমি সাক্ষী, আমি এই বিয়েতে রাজি না।” কিন্তু, সে এরপর মুখে তিনবার কবুল বলে এবং সাইনও করে। তবে, সে কবুল বলার মুহূর্তেও রাজি খুশি ছিলো না। বিয়ের পরও সে তার স্বামীর প্রতি সবসময় সন্তুষ্ট ছিলো না। প্রায়ই বলতো যে, তার ঘরটা তার নিজের মনে হয় না।

সে যেহেতু মনে মনে কবুল বলার সময় নারাজি ছিলো এবং এখনও সে মন থেকে পুরোপুরি তার স্বামীকে গ্রহণ করতে পারেনি, তার বিয়েটা বৈধ হবে কি না। ইতোমধ্যে বিয়ের প্রায় আড়াই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। প্রশ্নটি কিছুটা অদ্ভুত শোনাতে পারে, তবে একজন মেয়ের মানসিক শান্তি ও সংসারের দৃঢ়তার জন্য দয়া করে উত্তর দিয়ে সাহায্য করবেন।

উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন। বিয়ে-পরবর্তী জীবনে এই বন্ধনকে সুদৃঢ় এবং মোহময় করে রাখার স্বার্থেই বিয়ের আগে একে অপরকে দেখে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। সম্মত হলে বিয়েতে রাজি হবেন, নতুবা হবেন না। ওই বোন বিয়েতে সম্মত ছিলেন। মনে মনে রাজি না থাকলেও তিনি চুপ থেকেছেন। বিয়েতে সরাসরি অমত করেন নি। এটাই সম্মতি। তাছাড়া অনুমতি নেওয়ার সময় তার অসম্মতি প্রকাশ করেন নি। তাই কবুল বলার সাথে সাথে তার বিয়ে হয়ে গেছে। হাদিসে এসেছে-

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ? قَالَ: أَنْ تَسْكُتَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

অর্থ: আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো বিধবা নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তার (কুমারির) অনুমতি নেয়া হবে? তিনি বললেন: তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার অনুমতি। [বুখারী: ৫১৩৬ ও মুসলিম: ১৪১৯]

আরেকটি হাদিসে এসেছে-

ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ النِّكَاحُ وَالطَّلَاقُ وَالرَّجْعَةُ.

অর্থ: তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যে, বাস্তবে করা এবং ঠাট্টাচ্ছলে দুই-ই সমান। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে- বিয়ে, দ্বিতীয়টি হচ্ছে- তালাক, তৃতীয়টি হচ্ছে- রাজ’আত তথা এক বা দুই তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে তার ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে ফিরিয়ে নেওয়া। [আবু দাঊদ: ২১৯৪, তিরমিযী: ১১৮৪]

এখন তার করণীয় হলো, বিয়েটা মেনে নেয়া। স্বামীকে তার প্রাপ্য আদায় করা। সংসারে মনোযোগী হওয়া। আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

ۖوَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ

অর্থ: আর হতে পারে তোমরা কোনো-কিছু অপছন্দ করলে, অথচ তা তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক। (সুরা বাকারা: ২১৬)

সবসময় নিজেকে আমলের উপর রাখবেন। তিলাওয়াত ও যিকির-আযকার করবেন। পর্দার সাথে চলবেন। স্বামীকেও নামায ও অন্যান্য আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবেন। পরিবারে দীনী ও আমলী পরিবেশ গড়ে তুলবেন। দেখবেন শান্তি পাবেন। অন্তরে প্রশান্তি আসবে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত ও বরকত লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ!

(আরো বিস্তারিত পেতে ফাতাওয়া হিন্দিয়া:১/২৮৭, শামী: ৩/৫৮, মাহমুদিয়া: ১৬/২৩৫ দ্রষ্টব্য)

উত্তর প্রদানে- মুফতি জিয়াউর রহমান
নির্বাহি পরিচালক: ইসলামিক ফিকহ ইনস্টিটিউট, সিলেট

এমএফ/

 

ফতোয়া/মাসায়েল: আরও পড়ুন

আরও