কুরআনে কি হাদীস মেনে চলতে বলা হয়েছে? 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

কুরআনে কি হাদীস মেনে চলতে বলা হয়েছে? 

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

কুরআনে কি হাদীস মেনে চলতে বলা হয়েছে? 

কুরআনে স্পষ্টভাবে কোন আয়াত নেই, যেখানে হাদীসের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু কুরআনের অনেক আয়াতই মুসলমানদের রাসূলুল্লাহ (সা.)কে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে। 

এখন প্রশ্ন হলো এই অনুসরণ কি শুধু রাসূল (সা.) এর উপর অবতীর্ণ কুরআনী ওহীর অনুসরণ, নাকি তার চেয়েও বেশী কিছু?

আল্লাহর রাসূল হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)-এর ভূমিকা ও দায়িত্ব ছিল নেতৃত্বের ও পথপ্রদর্শকের। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি লোকদের পথনির্দেশনা দিতেন, কোনো কাজ নিজে করার মাধ্যমে লোকের জন্য উদাহরণ তৈরি করতেন। ফলে বিভিন্ন কাজ করা ও সমস্যা সমাধানের জন্য মুসলমানরা তাঁকেই অনুসরণ করতেন।

রাসূল (সা.)-এর বাস্তব জীবন, কথা, কাজ ও নির্দেশনা তাঁর সাহাবীরা স্মরণে রাখেন এবং সেই অনুসারেই নিজেদের জীবনকে পরিচালনা করতেন।

পরবর্তী যুগে রাসূল (সা.)-এর যাবতীয় কথা, কাজ ও জীবনকে লিপিবদ্ধ করা হয়, যাকে হাদীস শাস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

একদল লোক দাবী করে, জীবন পরিচালনার জন্য রাসূল (সা.)-এর ব্যক্তিগত মানবীয় জীবনসহ সম্পূর্ণভাবে আক্ষরিক অর্থেই তাকে অনুসরণ করা মুসলমানের জন্য ফরয। অপরদিকে আরেকদল লোক দাবী করে, জীবন পরিচালনার জন্য কুরআন ছাড়া অন্যকিছু অনুসরণের প্রয়োজন নেই। উভয় দলের লোকই বিষয়টিকে উগ্র প্রান্তিকতার দিকে নিয়ে গেছে।

এর মাঝখানে আমাদের দৃষ্টিপাত করা উচিত রাসূল (সা.) এর জীবনের প্রতি। মানুষ হিসেবে রাসূল (সা.) তাঁর জীবনে অনেক কাজই করেছেন। বিশেষ সময়ের, বিশেষ স্থানের মানুষ হিসেবে তিনি স্থানীয় জীবনধারায় অভ্যস্থ ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে রাসূল (সা.)-এর জীবনধারা আবশ্যিকভাবে অনুসরণের জন্য কুরআনে আদেশ দেওয়া হয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেন,

قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّوا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ

“বলুন, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রসূলের আনুগত্য করো। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য করো, তবে সৎ পথ পাবে। রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌঁছে দেয়া।” [সূরা নূর, আয়াত: ৫৪]

এই আয়াতের নির্দেশনা হলো, আল্লাহর রাসূল হিসেবে মুহাম্মদ (সা.) যে ওহী লাভ করেছেন, তা কুরআনের আয়াতের আকারেই হোক বা অন্য যেকোন প্রকারেই হোক সম্পূর্ণভাবে তার অনুসরণ করতে হবে। রাসূল হিসেবে মুহাম্মদ (সা.) এর দায়িত্ব ছিল এই ওহীর প্রচার এবং আমাদের উপর দায়িত্ব এই ওহীর অনুসরণ।

ইসলামী জীবনব্যবস্থা ও আদর্শের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য রাসূল (সা.) যে কথা বলেছেন, যে কাজ করেছেন এবং যে নির্দেশনা দান করেছেন, উল্লেখিত আয়াত অনুযায়ী তার সম্পূর্ণ অনুসরণ করা আমাদের দায়িত্ব এবং এর জন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

অন্যদিকে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সমগ্র ব্যক্তি জীবনের অনুসরণ ফরয তথা অত্যাবশ্যকীয় না হলেও তা আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا

“যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম নমুনা।” [সূরা আহযাব, আয়াত:২১]

এই আয়াত থেকে একদিকে যেমন স্পষ্ট হয় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সমগ্র জীবনকে আল্লাহ আমাদের জন্য নমুনা বানিয়েছেন, তেমনিভাবে বুঝে আসে কুরআন ছাড়া অন্যকিছু অনুসরণ না করার দাবীটিও ভ্রান্ত। কেননা, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কথা, কাজ ও পুরো জীবনের নমুনা জানতে আমরা সাহাবীদের সংরক্ষণ করা হাদীসের প্রতি মুখাপেক্ষী।

এমএফ/

 

ফতোয়া/মাসায়েল: আরও পড়ুন

আরও