যে সকল শর্তে বদলি হজ শুদ্ধ হবে

ঢাকা, ১৬ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

যে সকল শর্তে বদলি হজ শুদ্ধ হবে

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৯

যে সকল শর্তে বদলি হজ শুদ্ধ হবে

কোনো ব্যক্তির উপর হজ ফরয হওয়ার পর তা আদায় করার আগেই যদি সে মারা যায় কিংবা স্বাস্থ্যগত কারণে হজ সম্পাদনে অক্ষম হন তবে উভয় অবস্থায় অন্যের দ্বারা হজ করানো জায়েয। শরীয়তের পরিভাষায় একে বদলি হজ বলা হয়। বদলি হজ শুদ্ধ হওয়ার কিছু শর্ত রয়েছে। যথা—

১। বিনিময় দেওয়ার শর্ত না থাকা।

২। ব্যয়ভার থাকবে প্রেরণকারীর দায়িত্বে। অবশ্য যদি বেশির ভাগ ব্যয় প্রেরণকারী বহন করে আর সামান্য কিছু ব্যয় পালনকারীও বহন করে, তবু জায়েয আছে।

৩। মৃত ব্যক্তি বা যার পক্ষ থেকে হজ করানো হচ্ছে, তার মাতৃভূমি থেকে কেউ হজ করা উচিত।

৪। ইহরাম বাঁধার সময় হজের নিয়ত তার (হজ যার পক্ষ থেকে) পক্ষে হতে হবে; যেমন—এরূপ বলবে যে আমি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজের নিয়ত করছি।

৫। ইহরাম মিকাত থেকে বাঁধা উচিত, যদি প্রেরক ওমরাহ করার অনুমতি না দেয়, তাহলে মিকাত থেকে ওমরাহর ইহরাম বাঁধা যাবে না এবং হজে তামাত্তুও করা যাবে না। হ্যাঁ, যদি সে বলে দেয়, যেভাবে ইচ্ছা আমার হজ আদায় করে দেবে, তখন হজে তামাত্তুও জায়েয হবে।

বদলি হজ পালনকারী হজের সফরে যদি প্রেরকের টাকা আলাদা রাখে, নিজের টাকার সঙ্গে না মেশায়, তাহলে আমানত রক্ষা হবে; সতর্কতা সত্ত্বেও নষ্ট হলে জামিন হবে না। পক্ষান্তরে যদি সে নিজের টাকার সঙ্গে মিলিয়ে রাখে, তাহলে নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বদলি হজ পালনকারীকে যে টাকা দেওয়া হবে, তাতে খুব সতর্কতা আবশ্যক। অন্যথায় অন্যের হজ বিনষ্ট করার অপরাধে গুনাহগার হতে হবে। তাই সফর শেষে যে অর্থ ও দ্রব্যসামগ্রী (তাদের পয়সায় কেনা) অবশিষ্ট থাকবে, তা ফেরত দেবে। উত্তম পদ্ধতি হলো, প্রেরক প্রথমেই বলে দেবে, এক সফরে ব্যয় বিষয়ক কোনো অসংগতি হলে আমার পক্ষ থেকে মাফ। (ইমদাদুল আহকাম : ২/১৮৭; মুয়াল্লিমুল হুজ্জাজ : ১/২৮১)

৬। যদি মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ যথেষ্ট হয় তাহলে যানবাহনে চড়ে হজ করতে হবে। আর যদি পুরো হজ পায়ে হেঁটে করে, ভাড়ার টাকা সঞ্চয় করে রাখে, তাহলে জরিমানা দেওয়া ওয়াজিব। প্রেরক যদি পদব্রজে হজ করার অনুমতিও দেয় এবং মক্কা থেকে আরাফাতের ময়দানে যাওয়া-আসা যানবাহনে করা ওয়াজিব। আর বাকি সফরে প্রেরক অনুমতি দিলে পদব্রজে করাও জায়েয আছে। (ইমদাদুল আহকাম : ২/১৮৭)

৭। যদি জীবিত অক্ষম ব্যক্তির অনুমতি বা মৃত ব্যক্তির অসিয়তের কারণে বদলি হজ করানো হয়, তাহলে তার (প্রেরকের) মাতৃভূমি থেকে কাউকে দিয়ে হজ করানো আবশ্যক। এতে যদি মৃত ব্যক্তির এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ দিয়ে হজের ব্যয় যথেষ্ট না হয় এবং তার ওয়ারিশরাও অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয়ে রাজি না হয়, তাহলে ওই টাকায় যেখান থেকে খরচ সংকুলান হয়, সেখান থেকে বদলি হজ করিয়ে দেবে। আর অসিয়তকারী যদি নিজে কোনো স্থান অথবা কিছু সম্পদ নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে তার কথা অনুসারে বদলি হজ করাতে হবে। তবে সামর্থ্যবান মানুষের জন্য এরূপ নির্ধারণ মাকরুহ। (আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৫২০; ফাতাওয়া রহিমিয়া ৫/২২৮; আহকামে হজ : ১২০)

এমএফ/

 

ফতোয়া/মাসায়েল: আরও পড়ুন

আরও