২৫তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

২৫তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

মুফতী জিয়াউর রহমান ৩:০০ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৯

২৫তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

আজ ২৫তম তারাবীহতে সূরা মুজাদালা, সূরা হাশর, সূরা মুমতাহিনা, সূরা সাফ, সূরা জুমুআ, সূরা মুনাফিকুন, সূরা তাগাবুন, সূরা তালাক এবং সূরা তাহরিম পড়া হবে। আজ পড়া হবে ২৮তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবীহতে পঠিতব্য অংশের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো।

সূরা মুজাদালাহ
সূরা মুজাদালাহ মদীনায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ২২ টি আয়াত ও ৩ টি রুকু রয়েছে। এই সূরায় অন্য মাদানি সূরার ন্যায় শরয়ী বিধিবিধানের বিবরণ এবং মুনাফিকদের আলোচনা এসেছে। সূরার শুরুতে খাওলা বিনতে সা’লাব রা,র ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাঁর স্বামী আওস বিন সামেত রা, তাঁর সাথে ‘যিহার’ করে ফেলেছিলেন। অর্থাৎ একথা বলে দিয়েছিলেন, তুমি আমার পক্ষে আমার মাতার পৃষ্ঠদেশের ন্যায়; মানে হারাম। ইসলাম-পূর্বকালে এই বাক্যটি স্ত্রীকে চিরতরে হারাম করার জন্য বলা হতো, যা ছিল চূড়ান্ত তালাক অপেক্ষাও কঠোরতর। এই ঘটনার পর এর বিধান জানার জন্য খাওলা রা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি উপস্থাপন ছিলো অভিযোগের সুরে এবং এমন পদ্ধতিতে বলছিলেন, যেন ঝগড়া করছেন। এজন্য সূরার নামকরণই করা হয়ে গেলো, মুজাদালা। এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ সূরার শুরুতে কয়েকটি আয়াত নাযিল করে জানিয়ে দিলেন, কেউ তার স্ত্রীর সঙ্গে ‘যিহার’ করলে সে স্ত্রী চিরতরে হারাম হয় না, বরং কাফফারা আদায় করে দিলেই হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা খাওলা রা,কে সম্মান দান করলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে আয়াত নাযিল করলেন। আল্লাহ তাআলা নিজে এই মহিলার কথা শ্রবণ করেছেন বলে ঘোষণা করলেন। তাই সাহাবায়ে কেরামও এই মহিলার প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করতেন। একদিন খলীফা ওমর রা, একদল লোকের সাথে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এই মহিলা সামনে এসে দণ্ডায়মান হলে তিনি দাঁড়িয়ে তার কথাবার্তা শুনলেন। কেউ কেউ বলল: আপনি এই বৃদ্ধার কারণে এতবড় দলকে পথে আটকিয়ে রাখলেন। খলীফা বললেন: জান ইনি কে? এ সেই মহিলা, যার কথা আল্লাহ তাআলা সপ্ত আকাশের উপরে শুনেছেন। অতএব আমি কি তাঁর কথা এড়িয়ে যেতে পারি? আল্লাহর কসম! তিনি যদি স্বেচ্ছায় প্রস্থান না করতেন, তবে আমি রাত্রি পর্যন্ত তার সাথে এখানেই দাঁড়িয়ে থাকতাম।

এই সূরায় দুইয়ের অধিক ব্যক্তিবিশিষ্ট বৈঠকে দুইজনের পৃথকভাবে কানাঘুষা করার বিধান বিবৃত হয়েছে। এমন কানাকানি শরীয়তে মজলিসের আদব পরিপন্থী গণ্য করা হয়েছে। কেননা এর দ্বারা তৃতীয় ব্যক্তির ভেতর মন্দ ধারণা সৃষ্টি হয়। এই সূরায় কানাঘুষা করার নিন্দা করা হয়েছে, নিষেধ করা হয়েছে; সেটা ছিল ইহুদিদের অভ্যাস। মুসলমানদের পেরেশানিতে রাখার ইহুদিবাদি চক্রান্ত। তবে কল্যাণময় বিষয়ে পার্সোনাল পরামর্শ করা নিষেধ নয়।

সামষ্টিক শিষ্টাচারের মধ্যে মজলিসে বসার শিষ্টাচার হচ্ছে-

এক. মুসলমানদের সাধারণ মজলিসসমূহের বিধান এই যে, কিছু লোক পরে আগমন করলে উপবিষ্টরা তাদের বসার জায়গা করে দিবে এবং চেপে চেপে বসবে। এরূপ করলে আল্লাহ তাআলা তাদের জন্যে প্রশস্ততা সৃষ্টি করবেন বলে ওয়াদা করেছেন। এই প্রশস্ততা পরকালে তো প্রকাশ্যই, সাংসারিক জীবিকায় এই প্রশস্ততা হলেও তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।

দুই. যখন কাউকে মজলিস থেকে উঠে যেতে বলা হয়, তখন ওঠে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে আগন্তুক ব্যক্তি নিজের জন্যে জায়গা করার উদ্দেশে কাউকে তার জায়গা থেকে উঠিয়ে দিলে তা জায়েয হবে না।

এই সূরায় ওই মুনাফিকদের আলোচনা এসেছে, যাদের ইহুদিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিলো আবার কসম করে নিজেদের মুমিন দাবি করত। তাদের এমন দাবি সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ‘হিযবুশ শাইতান’ মানে শয়তানের দল আখ্যায়িত করেছেন। আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের দুশমনদের বন্ধুত্ব রাখে না, যারা চাহে তাদের মা-বাবা, পুত্র, ভাই এবং গোষ্ঠীর লোকজনের যে-ই হোক না কেন? আল্লাহ এই সৌভাগ্যবানদের জন্যে চারটি নিয়ামতের ঘোষণা-

প্রথম নিয়ামত হলো, আল্লাহ তাআলা তাদের ঈমান বদ্ধমূল করে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় নিয়ামত হলো: আল্লাহ তাআলা তাদেরকে গায়বীভাগে সাহায্য করেছেন।
তৃতীয় হলো: তিনি তাদেরকে জান্নাতি আখ্যা দিয়েছেন।

চতুর্থ নিয়ামত হলো: আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন এবং তারাও আল্লাহর নিয়ামত প্রাপ্তির উপর সন্তুষ্ট।

সূরা হাশর মদীনায় অবতীর্ণ সূরা। ২৪ টি আয়াত ও তিনটি রুকু রয়েছে। শুরুতে বলে দেয়া হয়েছে জগতের সব জিনিস আল্লাহ তাআলার তাসবীহ ও পবিত্রতা বর্ণনা করে, তাঁর একত্ব, বড়ত্ব ও কুদরতের সাক্ষী দেয়। ইহুদিরা দীর্ঘকাল থেকে ইয়াসরিবে স্থায়ী ছিলো। তারা নিজেদের নিরাপত্তার লক্ষে সুদৃঢ় কেল্লা নির্মাণ করে রেখেছিল। অর্থবিত্তের অধিকারী ছিলো। ইয়াসরিববাসীকে তাদের সুদি ঋণের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছিলো। তাদের ধারণা ছিলো সবাই আমাদের কাছে দায়বদ্ধ, এই দায় থেকে কেউ বেরুতে পারবে না। কিন্তু তাদের নিজেদের কৃতকর্মের কারণে আল্লাহ তাআলার আযাব আসন্ন ছিলো। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মদিনাবাসীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলো। তার ভিত্তিতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বস্তিতে গিয়েছিলেন কোনো প্রয়োজনে। সেসময় তারা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীকে ওহী প্রেরণ করে চক্রান্তের বিষয়ে অবগত করেছিলেন। তিনি সেখান থেকে চলে এসে তাদেরকে চুক্তিভঙ্গের বিষয় স্মরণ করিয়ে দিয়ে দশ দিনের সময় দিলেন। এই দশদিনের ভেতর যেন তারা মদিনা ছেড়ে খায়বার চলে যায়। যদিও আবদুল্লাহ ইবনে উবাই মুনাফিকের প্ররোচনায় প্রথমে তারা যেতে চাইল না। পরে অবশ্য যেতে বাধ্য হয়েছিল। এটাকে বলে ‘প্রথম হাশর’ বা প্রথম দেশান্তর। এরপর উমার রা, খেলাফতকালে তাদেরকে খায়বার থেকে সিরিয়া চলে যেতে বাধ্য করেছিলেন। সেটা ছিল দ্বিতীয় দেশান্তর।

ইহুদিদের সমৃদ্ধ জীবন, প্রতিরোধ শক্তি, সম্মিলিত সামাজিক শক্তি এমন ছিলো যে, তারা তো দূরের কথা মুসলমানরা পর্যন্ত কল্পনা করতে পারে নি যে, তাদের এমন অপদস্থ হয়ে মদিনা এবং খায়বার ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের চুক্তিভঙ্গ, মিথ্যাচার, অস্বীকার, অহংকার ও দুষ্কর্মের কারণে তাদের এই লাঞ্ছনাকর জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

গনীমতের যে সম্পদ যুদ্ধ ছাড়া হাসিল হয়, সেগুলোকে ‘মালে ফায়’ বলে। ইহুদিরা চলে যাবার পর অনেক ‘মালে ফায়’ মুসলমানদের হস্তগত হলো। এ সম্পদের ব্যাপারে হুকুম দেয়া হলো যে, এতে মুজাহিদদের মধ্যে কারো কোনো অধিকার নেই। বরং এগুলো বণ্টনের সম্পূর্ণ ইচ্ছা এবং স্বাধীনতা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের। তিনি এগুলোকে গরীব, মিসকিন, দুর্বল, হাজতি এবং নিকটতমদের মাঝে বণ্টন করে দিবেন। এখানে ‘মালে ফায়’র বিধান বর্ণনার অধিনে ইসলামি অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শন বর্ণনা করে দেয়া হলো যে, ইসলাম কখনোই চায় না সম্পদ কতেক ধনাঢ্যের হাতেই কুক্ষিগত থাকুক। বরং ইসলাম চায় সমাজের কোনো শ্রেণী ও স্তরের মানুষ যেন বঞ্চিত না হয়। অন্যান্য বিধানের বেলায়ও হুকুম জারি করা হলো যে, “রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক।” (৭)

তাই ওই সমস্ত আইন, মাসাইল ও বিধিবিধান যা রাসূলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিয়ে আসেন, সেগুলোর আনুগত্য করা ওয়াজিব। চাহে তা কুরআনের আকারে হোক বা সহীহ সুন্নাহর আকারে। কুরআন ও সুন্নাহকে পাশ কাটিয়ে কোনো আইন জারি ও প্রয়োগ জায়েয নয়।

এই সূরায় একদিকে প্রত্যেক বিষয়ের উপর আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দানকারী মুহাজির এবং আনসার ও তাদের পরবর্তী মুসলমান যারা কিয়ামত পর্যন্ত আসবেন, সবার প্রশংসা করা হয়েছে। আর মুনাফিকদের নিন্দা করা হয়েছে, যারা কঠিন সময়ে ইহুদিদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিল। তারা উভয় সম্প্রদায়ের শেষ পরিণতি হচ্ছে, তারা চিরদিনের জন্যে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এরপর বলা হলো, যদি আল্লাহ পাহাড়কে জ্ঞান ও অনুভব শক্তি দিয়ে কুরআন সেখানে নাযিল করতেন, তাহলে পাহাড় আল্লাহর ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে যেত। কিন্তু আফসোস! এই অতুলনীয় গ্রন্থের মর্যাদা সম্পর্কে আমরা অজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছি, তার হক আমরা আদায় করছি না। এরপর আসমায়ে হুসনার অধিনে আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ত্বের আলোচনা ও সবশেষে শুরুর ন্যায় আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনার মাধ্যমে সূরা শেষ হয়েছে।

সূরা মুমতাহিনা
সূরা মুমতাহিনা মদিনায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ১৩ টি আয়াত ও দুটি রুকু রয়েছে। এই সূরার শুরুর অংশ হযরত হাতিব বিন আবী বালতা’আ রা,র ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। যিনি মক্কার মুশরিকদের অনুগ্রহের বিনিময়ে অনুগ্রহ করার জন্য গোপনে মক্কা অভিযানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওয়ানা হওয়ার সংবাদ তাদের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবি ছিলেন, কিন্তু তাঁর এই ভূমিকা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পছন্দ হয় নি। পরে অবশ্য তিনি খুব লজ্জিত হয়েছিলেন। সত্য মনে তাওবা করেছিলেন বলে সেই তাওবা কবুলও হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে আয়াত নাযিল হলো যে, মুমিনদেরকে আল্লাহ তাআলা হুকুম দিচ্ছেম- “হে মুমিনগণ! তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা যে সত্য তোমাদের কাছে আগমন করেছে, তা অস্বীকার করছে। তারা রাসূল ও তোমাদেরকে বহিষ্কার করে এই অপরাধে যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখছে।” (১)

এই কাফিররা আজও মুসলমানদের প্রতি অগ্নিশর্মা। মুসলমানদের ক্ষতি করার কোনো সুযোগই তারা হাতছাড়া করে না। আত্মীয়তার কোনো বন্ধনই কাজে আসবে না। যত ঘনিষ্ঠ নিকটাত্মীয়ই হোক, ঈমানের ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো ছাড় নেই। এজন্যে দেখা যায় আপন পুত্রও যদি ইসলাম গ্রহণ করে নেয়, তার উপর নির্দয় নির্যাতনের চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করা হয়। এমনকি এই পাপিষ্ঠরা নির্যাতনে নির্যাতনে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতেও তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। সুতরাং এদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার কোনো অর্থ নেই। কিয়ামতের দিন এসবে কোনো কাজে আসবে না। কিয়ামতের দিন তো আল্লাহ তাআলা ঈমানের মাপকাঠির ভিত্তিতে পিতা-পুত্র, ভাই-ভাইয়ের মধ্যেও পৃথকীকরণ হয়ে যাবে। এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে কাফিরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও তাদের কাছে স্বজাতির গোপনীয় বিষয়াবলী প্রকাশ করে দেয়া কতটুকু যুক্তিসংগত ও বুদ্ধিমানের পরিচায়ক?

যেহেতু ঘনিষ্ঠ ও রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়তার মধ্যে এমন এক দুর্বলতা রয়েছে যে, এতে মনের টান থেকে যায়, স্বভাবজাত ভালোবাসা অস্বীকার করা যায় না, তাই আল্লাহ তাআলা সেদিক বিবেচনা করে মুসলমানদেরকে সুসংবাদ দিলেন যে, হতে পারে তারা শীঘ্রই তারা ঈমান নিয়ে আসবে। বাস্তবেও তাই হলো; অসংখ্য মুশরিক লোকের ঈমানের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণের তাওফীক হলো।

মুশরিকদের মধ্যে যারা মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় নি, মুসলমানদের ঘরছাড়া করে নি, তাদের সাথে উত্তম আচরণের অনুমতি দেয়া হলো। এখানেও ইসলামের পরধর্ম সহিষ্ণুতার বিষয়টি ফুটে ওঠে। ইসলাম যে ভালোবাসা ও সহনশীল দ্বীন, এই বিধান তার প্রমাণ। এটা হচ্ছে, যারা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে না, তাদের বেলায় হুকুম।

এই সূরায় ওই নারীদের ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যারা ঈমান গ্রহণ করে মদিনায় হিজরত করেছে, তাদেরকে ভালো করে যাচাই করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যে, তারা বাস্তবেই ঈমানের জন্যে হিজরত করেছে? নাকি অন্য কোনো কারণে? তারা ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গেলে তাদেরকে কাফিরদের কাছে পাঠিয়ে দিও না। মূলত ইসলাম ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোরতর শত্রু উকবা ইবনে আবী মুআইত-এর মেয়ে উম্মে কুলসুম রা, হিজরত করে মদিনায় চলে এসেছিলেন। তাঁকে ফিরিয়ে নেবার জন্যে হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তের বিষয়টি সামনে নিয়ে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে দিলেন এই বলে যে, চুক্তি হয়েছে কেবল মুমিন পুরুষের ব্যাপারে, নারীদের ব্যাপারে নয়। তাই তাকে আমরা ফিরিয়ে দেবো না।

সূরা সাফ
সূরা সফ্ মদিনায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ১৪ টি আয়াত ও দুটি রুকু রয়েছে। সূরার শুরুতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করার পর মুসলমানদেরকে কঠোর সতর্কবাণী দেয়া হয়েছে যে, তারা যাতে তাদের অঙ্গীকারের প্রতি যত্নশীল হয়। মুখে যা বলে, তা যেন করেও দেখায়। এরপর মুসলমানদেরকে জিহাদের উৎসাহ প্রদান, উম্মাহর ঐক্য বজায় রাখা এবং শত্রুর মোকাবেলায় শিশাঢালা প্রাচীরের ন্যায় মজবুত ও ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর উপদেশ দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। এরপর বনী ইসরাইলের আলোচনা করা হয়েছে, যাদেরকে আমালিকা গোত্রের বিরুদ্ধে জিহাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তখন তারা মুসা আলাইহিস সালামের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। এরপর ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর পরে আখেরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের সুসংবাদ এবং তাঁর অনুসরণের নির্দেশের কথা এসেছে।

এরপর সুসংবাদ দেয়া হলো যে, ইসলাম অন্যান্য সমস্ত দ্বীনের উপর সবদিক দিয়েই বিজয়ী হবে। এরপর মুসলমানদেরকে এমন এক ব্যবসার দিকে আহবান করা হয়েছে, যেখানে ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই। সেই ব্যবসা হচ্ছে, আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর ঈমাম আনা এবং জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করা। এর পুরস্কার হচ্ছে, দুনিয়াতে গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে, পরকালে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। দুনিয়ায় আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্তি এবং কুফরের উপর বিজয় লাভ হবে। এরপর মুমিনদেরকে বলা তোমরা দ্বীনের দাওয়াত এবং নুসরতে এমনভাবে দাঁড়িয়ে যাও, যেমনটা ঈসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে তাঁর সঙ্গীরা দাঁড়িয়েছিল।

সূরা জুমুআ
সূরা জুমুআ মদীনায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ১১ টি আয়াত ও দুটি রুকু রয়েছে। সূরার শুরুতে ওই দায়িত্ব ও আমানতের আলোচনা এসেছে, যে আমানত প্রথমে বনী ইসরাইলের কাঁধে রাখা হয়েছিল, কিন্তু তারা তার হক আদায় করতে পারল না। তার উদাহরণ ওই গাধার মতো, যার উপর মোবারক ইলমি কিতাবের বোঝা উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিতাবের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু কিতাবসমূহে ইলম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে ভাণ্ডার লুকায়িত ছিলো, সে সম্পর্কে তারা বেখবর ছিলো। এ থেকে তাদের কোনো উপকারও অর্জিত হয় নি। ইহুদিদেরকে আসমানি ওহীর উপর আমল না করার কারণে তাদেরকে গাধার সাথে তুলনা করেছেন।

সূরার শেষের দিকে মুমিনদের উপর জুমুআর নামায ফরয হওয়ার আলোচনা। আযান শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সব রকমের ব্যস্ততা, ব্যবসাবাণিজ্য ছেড়ে আল্লাহর যিকিরের দিকে তাড়াতাড়ি করে আসার হুকুম দেয়া হয়েছে। অবশ্য নামায শেষ করে জীবিকা অন্বেষণে বেরিয়ে পড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

সূরা মুনাফিকুন
সূরা মুনাফিকুন মদিনায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ১১ টি আয়াত ও দুটি রুকু রয়েছে। এই সূরায় মুনাফিকদের বদভ্যাসগুলোর আলোচনা এসেছে। তাদের মিথ্যাবাদিতা, প্রতারণা, ধোকা, মুসলমানদের প্রতি তাদের হিংসা-বিদ্বেষ, তাদের ভেতর-বাহির দু’রকম হওয়া ইত্যাদি। মূলত এর মাধ্যমে মুসলমানদের সতর্ক করে দেয়া যে, মুনাফিকদের অভ্যাসগুলো যাতে মুমিনদের মাঝে চলে না আসে।

মুনাফিকরা যখন রাসুল ﷺ এর সামনে আসত তখন রাসুল ﷺ ও মুসলমানদের প্রশংসা করত, কিন্তু যখন চলে যেত, তখন এমন দুর্গন্ধযুক্ত কথা বলত, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। (৭-৮)

সূরার শেষ দিকে মুসলমানদেরকে সতর্ক করে দেয়া হলো যাতে ধনসম্পদ ও দুনিয়ার মোহ মুনাফিকদের মতো তাদেরকেও আল্লাহর স্মরণ ও আনুগত্য থেকে গাফিল না করে বসে। তাদেরকে এ উৎসাহও প্রদান করা হয়েছে যে, মৃত্যুর আগে যেন তারা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে। নতুবা মৃত্যু চলে এলে আফসোস করা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না। (৯-১১)

সূরা তাগাবুন
সূরা তাগাবুন মদীনায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ১৮ টি আয়াত ও দুটি রুকু রয়েছে। এই সূরায় প্রথমেই সৃষ্টিজগতের সবকিছু আল্লাহ তাআলার গুণগান ও পবিত্রতা বর্ণনার বিবরণ এসেছে। মানুষ দুই প্রকারের কথা এসেছে। একদল শোকরগুজার তথা কৃতজ্ঞ আরেকদল না-শোকর তথা অকৃতজ্ঞ। এরপর পেছনের জাতিসমূহের আলোচনা এসেছে, যারা তাদের রাসূলগণকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে। এর কারণে কঠিন শাস্তিও ভুগতে হয়েছে।

এই সূরায় কিয়ামতের দিনকে ‘ইয়াওমে তাগাবুন’ অর্থাৎ লোকসানের দিন বলা হয়েছে। কাফিররা সেদিন তাদের ক্ষতির বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবে। আফসোসের সীমা থাকবে না। মুসলমানরাও আফসোস করবে, হায়রে আল্লাহর হুকুম-আহকাম যদি আরো বেশি করে মানতে পারতাম। ইবাদত যদি আরো বেশি হতো! এই সূরা মুমিনদেরকে সম্পদ এবং সন্তানের ফিতনা থেকে সতর্ক করেছে। এসব যেন ফিতনায় পরিণত হয়ে আখেরাত বরবাদ করে না দেয়, সেদিকে সতর্ক করা হয়েছে। সূরার শেষের দিকে আল্লাহকে ভয় করা, তাঁর রাস্তায় খরচ করা এবং কার্পণ্য থেকে বাঁচার হুকুম দেয়া হয়েছে। (৯-১৫)

সূরার শেষের দিকে মুমিনদেরকে আল্লাহকে ভয় করার, তাঁর রাস্তায় খরচ করার এবং কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (১৬-১৭)

সূরা তালাক মদিনায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ১২ টি আয়াত ও ২ টি রুকু রয়েছে। মদিনায় অবতীর্ণ সূরা হিসেবে কিছু শরয়ী বিধিবিধানের আলোচনা হয়েছে। বিশেষত পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন সম্পর্কিত বিধান।

তালাকের প্রকারভেদ, ইদ্দত, ভরণপোষণ এবং বাসস্থানের হুকুম-আহকাম এই সূরায় এসেছে।

মুসলমানদেরকে হুকুম দেয়া হয়েছে যে, যদি দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং তালাক ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ না থাকে, তখন এক তালাক রাজয়ী দিয়ে ছেড়ে দিবে। এই তালাকও এমন পবিত্রতায় দিতে হবে, যখন স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা হয় নি। এই তালাকের পর ইদ্দত পালন করেই বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এটাকে ‘সুন্নাত’ তালাক বলে।

ইসলামে তালাক ঘৃণিত একটি কাজ। কারণ ইসলাম চায় পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্ক অটুট থাকুক, কিন্তু তালাকের মাধ্যমে তা ছিন্ন করা হচ্ছে। তাই তো হাদিসে এসেছে-

“আল্লাহ তাআলার নিকট বৈধ কাজসমূহের মধ্যে ঘৃণ্যতম কাজ তালাক।” (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, হাকিম)

এরপর বিভিন্ন প্রকারের তালাকপ্রাপ্তা নারিদের ইদ্দতে আলোচনা এসেছে।

এক- আয়িসা, এমন বার্ধক্যে উপনীত নারি, যার ঋতুস্রাব আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
দুই- ওই ছোট মেয়ে, যাকে বালেগ হওয়ার আগেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিন- ওই গর্ভবতী নারি, যাকে স্বামী গর্ভাবস্থায় তালাক দিয়ে দিয়েছে।

ইদ্দত ছাড়াও ভরণপোষণ ও বাসস্থানের বিধিবিধান আলোচিত হয়েছে। (১-৭)

শরয়ী বিধিবিধান আলোচনার মধ্যখানে ৪ বার তাকওয়ার আলোচনা এসেছে। (১, ২, ৪, ৫)

সূরার শেষে আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত ও নির্ধারিত বিধান অমান্য ও বিরোধিতা করতে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে পূর্বেকার উম্মতদের আলোচনা করা হয়েছে, যারা আল্লাহ তাআলার হুকুম-আহকামের নাফরমানি করে কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হয়েছিল। (৮-১০)

সূরা তাহরীম মদিনায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ১২ টি আয়াত ও ২ টি রুকু রয়েছে। এই সূরার বেশিরভাগ আলোচনা উম্মাহাতুল মু’মিনীন রা, সম্পর্কে হয়েছে। সূরার প্রথম আয়াতেই স্বয়ং রাসুল ﷺ সম্পর্কিত ঘটনার দিকে আলোকপাত করা হয়েছে। যখন তিনি স্বীয় বাঁদি কিংবা মধুকে নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন। তাই আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ভালোবাসামিশ্রিত তিরষ্কার ভঙ্গিতে বললেন:

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ ۖ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ: হে নবি, আল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করেছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্যে তা নিজের জন্যে হারাম করেছেন কেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়। (১)

এরপর আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের হুকুম দিচ্ছেন-

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ.

হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি থেকে। যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর। যাতে নিয়োজিত আছে নির্মমহৃদয় কঠোরস্বভাব ফিরিশতাগণ, যারা অমান্য করেন না যা আল্লাহ তাদেরকে আদেশ করেন। আর তারা যা করতে আদিষ্ট হন তাই করেন। (সূরা তাহরীম: ৬)

এবং একনিষ্ঠভাবে তাওবা করো। (৮)

সূরার শেষের দিকে দুটি উদাহরণ দেয়া হয়েছে। প্রথম উদাহরণ কাফির স্ত্রীর। যারা নুহ ও লুত আলাইহিমাস সালামের স্ত্রী ছিলো। নেক বান্দা দ্বারা উদ্দেশ্য নুহ আলাইহিস সালাম। আর কাফির দ্বারা উদ্দেশ্য ফেরাউন। (১০-১১)

এমএফ/ 

আরও পড়ুন...
২৪তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
২৩তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
২২তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
২১তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
২০তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

১৯তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১৮তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১৭তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১৬তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১৫তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১৪তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

১৩তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১২তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১১ তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১০ম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৭ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৫ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৪র্থ তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৩য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
২য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও