‘জুমআতুল বিদা’ কি বিশেষ কোন ফযীলতবহ দিন?

ঢাকা, ২ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

‘জুমআতুল বিদা’ কি বিশেষ কোন ফযীলতবহ দিন?

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, মে ৩১, ২০১৯

‘জুমআতুল বিদা’ কি বিশেষ কোন ফযীলতবহ দিন?

প্রশ্ন: জুমআতুল বিদা বলতে শরীয়তসম্মত কিছু কি আছে? হাদীস ও আছারের দলীল এবং এর তাহকীকসহ উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ হবো।

উত্তর: রমযান মাস অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস । এই মাসের শেষ দশকের গুরুত্ব আরো বেশী । শুক্রবার হিসেবে সেই দিনের গুরুত্ব আরো বেড়ে যায় । সব মিলে রমযানের এই শেষ জুমুআর দিনটি খ্বুই তাৎপর্যপূর্ণ। এর চেয়ে বেশী ফযীলত কুরআন–হাদীস সমর্থিত নয়। সুতরাং এ দিনকে কেন্দ্র করে নতুন কোন রুসম-রেওয়াজ বা বাড়তি ফযীলত সাব্যস্ত করা ঠিক নয়

হাদীসে রমযানের শেষ দশক ও শুধু শুক্রবারের ব্যাপারে বর্ণিত ফযীলত নিম্নরূপ-

–  عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خير يوم طلعت فيه الشمس يوم الجمعة، فيه خلق آدم، وفيه أهبط، وفيه تيب عليه، وفيه مات، وفيه تقوم الساعة، وما من دابة إلا وهي مسيخة يوم الجمعة، من حين تصبح حتى تطلع الشمس شفقا من الساعة، إلا الجن والإنس، وفيه ساعة لا يصادفها عبد مسلم وهو [ص:275] يصلي يسأل الله حاجة، إلا أعطاه إياها»،

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে সকল দিবসে সূর্য উদিত হয় তার মাঝে উত্তম দিবস হচ্ছে জুমা’, সেদিন আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে।–সুনানে আবু দাউদ -১০৪৬, ১/১৪৯-১৫০

عن أوس بن أوس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن من أفضل أيامكم يوم الجمعة، فيه خلق آدم، وفيه قبض، وفيه النفخة، وفيه الصعقة، فأكثروا علي من الصلاة فيه، فإن صلاتكم معروضة علي» قال: قالوا: يا رسول الله، وكيف تعرض صلاتنا عليك وقد أرمت – يقولون: بليت -؟ فقال: «إن الله عز وجل حرم على الأرض أجساد الأنبياء»

অর্থ: হযরত আউস বিন আউস হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের দিবস সমূহের মাঝে উত্তম দিবস জুমা’র দিন। সে দিন আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে।–সুনানে আবু দাউদ -১০৪৭,১/১৫০)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ، وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ»

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয়। ও জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের বেঁধে রাখা হয়।–মুসলিম ১/৩৪৬, হাদীস নং:১০৭৯

، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُبَشِّرُ أَصْحَابَهُ: «قَدْ جَاءَكُمْ رَمَضَانُ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ، افْتُرِضَ عَلَيْكُمْ صِيَامُهُ، تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، أَوْ تُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، فِيهِ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ»

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তোমাদের মাঝে রমযান আসে, যা অত্যান্ত মুবারক মাস। তখন তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়। জান্নাতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয়। ও জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তান দের আটকে রাখা হয় । এ মাসের মাঝে রয়েছে লাইলাতুল কদর যা হাজার রাত হতে উত্তম, যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে পুরই বঞ্চিত হলো।–মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং: ৮৮৬৭

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ»

অর্থ: হযরত আয়শা রা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন,তোমরা রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।–মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং: ৮৬৬০

জবাব লিখেছেন লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

এমএফ/ 

আরও পড়ুন...
রমযানের শেষ ১০ রাতে নবীজি যেভাবে আমল করতেন
লাইলাতুল কদর কবে হবে?
শবে কদরের বিশেষ দুআটি শিখে নিন
ইতিকাফের তাৎপর্য ও জরুরী মাসায়েল
রমযানের শেষ দশক এবং হাজার মাসেরও শ্রেষ্ঠ একটি রাত
রমযানের গুরুত্বপূর্ণ চার শিক্ষা
অনন্য ফযীলতের রমাদান মাস
রমযান যাদের আল্লাহর সাথে মিলিয়ে দেয়
রোযা ও রমযান : ফাযায়েল ও জরুরি মাসায়েল
হাদিস থেকে রমযানুল মোবারকের বিশটি স্পেশাল আমল
ইতিকাফ সৌভাগ্যের সোপান
রমযানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের হাদিসটি শুদ্ধ নয়

 

ফতোয়া/মাসায়েল: আরও পড়ুন

আরও