যাদের উপর যাকাত ফরয

ঢাকা, ১ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

যাদের উপর যাকাত ফরয

মুফতী মাহমুদুর রহমান ৬:২৪ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯

যাদের উপর যাকাত ফরয

ইসলামে যাকাতের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। ধনীদের জন্য বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে যাকাত প্রদান করা ফরযে আইন। যাকাত প্রদান হতে বিরত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ইসলামি সরকারের জিহাদ পরিচালনা করে যাকাত প্রদানে বাধ্য করা ওয়াজিব। যাকাতের বিধান যে অস্বীকার করবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَمَا تُقَدِّمُواْ لأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللّهِ إِنَّ اللّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

“তোমরা নামায আদায় করো এবং যাকাত প্রদান করো। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন।” – সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১১০

যাদের উপর যাকাত ফরয
সুস্থ মস্তিষ্ক, বালেগ মুসলমান নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যাকাত আদায় করা তার ওপর ফরয হয়ে যায়। -আদ্দুররুল ‍মুখতার ২/২৫৯

যাদের উপর যাকাত ফরয নয়
অসুস্থ মস্তিষ্ক ও নাবালক শিশু-কিশোররের ওপর যাকাত ফরয নয়। -রদ্দুল মুহতার ২/২৫৮, ২৫৯

যেসব জিনিসের ওপর যাকাত ফরয
১. সব ধরনের সম্পদ ও সামগ্রীর ওপর যাকাত ফরয হয় না। যাকাত সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা এবং ব্যবসায়িক পণ্যের ওপর ফরয হয়।

২. সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক বা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক, নেসাব পরিমাণ সর্বাবস্থায়ই তার যাকাত দিতে হবে। -মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৭০৫৪-৭০৬১

৩. সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও যাকাত ফরয হয়। -মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৭০৬১, ৭০৬৬, ৭১০২

৪. জামা কাপড় বা অন্য কোনো সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারুকাজ করা থাকলে তা-ও যাকাতের নিসাবের অন্তর্ভূক্ত হবে এবং যে পরিমাণ সোনা-রুপার কারুকাজে লেগেছে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে তারও যাকাত দিতে হবে। -মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৭০৬৬

৫. সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর অলংকার ইত্যাদি ব্যবসা-পণ্য না হলে সেগুলোর ওপর যাকাত ফরয নয়। তেমনি হিরা, মণি-মুক্তা ইত্যাদি মূল্যবান পাথর ব্যবসা-পণ্য না হলে সেগুলোরও যাকাত ফরয নয়। -মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৭০৬১, ৭০৬৪

৬. মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্বৃত্ত টাকা-পয়সা নেসাব পরিমাণ হলে তার যাকাত আদায় ফরয। -মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৭০৯১, ৭০৯২

৭. টাকা-পয়সা ব্যবসায়ে না খাটিয়ে এমনি রেখে দিলেও তাতে যাকাত ফরয হয়। -আদ্দুররুল মুখতার: ২/২৬৭

৮. হজের উদ্দেশ্যে বা বাড়ি-ঘর নির্মাণ, ছেলে-মেয়েদের বিয়ে ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হয় তা-ও এর ব্যতিক্রম নয়। সঞ্চিত অর্থ পৃথকভাবে বা অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেসাব পরিমাণ হলে এরও যাকাত দিতে হবে। অবশ্য বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তা যদি খরচ হয়ে যায়, তাহলে যাকাত দিতে হবে না।

৯. দোকান-পাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশে রাখা হয় তা ব্যবসায়িক পণ্য। এর মূল্য নেসাব পরিমাণে হলে যাকাত আদায় ফরয। -মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৭১০৩, ৭১০৪

১০. ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক যেমন- জমি, ফ্ল্যাট, দোকান অথবা অস্থাবর যেমন মুদি সামগ্রী, কাপড়, অলংকার ইত্যাদি তা বাণিজ্য পণ্য বলে গণ্য হবে। এসবের মূল্য নেসাব পরিমাণ হলে যাকাত দেওয়া ফরয। -কিতাবুল আসল ২/৯৮

আল্লাহ আমাদের যাকাত কবুল করে নিন। আমীন

লেখক: আলোচক ও গবেষক; শাইখুল হাদীস, জামিয়া ইসলামীয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা, সানারপাড়; খতীব, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, শারুলিয়া, ডেমরা

এমএফ/

আরও পড়ুন...
যাকাতের বছর পূর্ণ হলেও রমযানে আদায়ের জন্য বিলম্ব করা জায়েয কী?
যাকাত যেন সম্পদের চারাগাছ
যাদের ওপর যাকাত ফরজ
ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব
কুরআন ও হাদিসের আলোকে যাকাতের বিধান
যাকাত আদায়ে কৃপণতাকারীদের যে শাস্তি হবে
যাকাতের নিসাবের বিবরণ
প্রতিমাসের বেতনের যাকাত কিভাবে আদায় করবেন?
যাকাত আদায়ে সম্পদ কীভাবে পবিত্র হয়?
যাকাতের হিসাব ও আদায়ের পদ্ধতি
স্বর্ণ ও টাকা থাকলে যেভাবে যাকাত বের করবেন

 

ফতোয়া/মাসায়েল: আরও পড়ুন

আরও