শাবান মাসের তিন আমল

ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

বিষয় :

শাবান মাস

শা’বান মাস

শাবান মাসের আমল

শাবান মাসের রোযা

শাবান মাস সম্পর্কিত হাদীস

শাবান মাসের রোযা বিষয়ক হাদীস

শাবান মাসের তিন আমল

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:১০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৯

শাবান মাসের তিন আমল

শাবান হিজরি বর্ষের অষ্টম মাস। এরপরেই ইবাদতের মৌসুম ও পূণ্যের বসন্তকাল মাহে রমযান। তাই শাবান এলো মানেই আমাদের জন্য শুরু হয়ে গেলো পবিত্রতার আবহে রমযান কেন্দ্রিক নানা প্রস্তুতি মূলক ব্যস্ততা। এই ব্যস্ততা আমলের, রমযানের জন্য হৃদয়ের ঘর তৈরির।

হাদীস শরীফে শাবান মাসের বেশ কিছু ফযীলত ও করণীয় বর্ণিত হয়েছে। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন,

كان أحب الشهور إلى النبي صلى الله عليه وسلم أن يصومه شعبان ثم يصله برمضان

“মাসগুলোর মধ্যে নবীজি (সা.) এর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিল শাবান মাসে রোযা রাখা, অতঃপর রমযানে উপনীত হওয়া।” – বায়হাকী, হাদীস নং : ৮৬৯১

হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন,

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم " يصوم حتى نقول: لا يفطر، ويفطر حتى نقول: لا يصوم، فما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم استكمل صيام شهر إلا رمضان، وما رأيته أكثر صياماً منه في شعبان

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রোযা রাখতেন এমনকি আমরা মনে করতাম তিনি আর রোযা ভাঙবেন না। আবার তিনি রোযা রাখতেন না এমনকি আমরা মনে করতাম তিনি আর রোযা রাখবেন না। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে রমযান ব্যতীত আর কোনো সময় পূর্ণ মাসব্যাপী রোযা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে বেশি রোযাও অন্য কোনো মাসে রাখত দেখিনি।’ –সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ১৯৬৯

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন,

قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَيُّ الصَّوْمِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : صَوْمُ شَعْبَانَ تَعْظِيمًا لِرَمَضَانَ  ، قَالَ : فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : صَدَقَةٌ فِي رَمَضَانَ

“নবীজি (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন রোযার ফযীলত বেশি? উত্তরে তিনি বললেন, ‘রমযান মাসের সম্মানার্থে শাবান মাসে পালনকৃত রোযার ফযীলত বেশি। আবার জিজ্ঞাসা করা হলো- কোন দানের ফযীলত বেশি? উত্তরে তিনি বললেন, রমযান মাসে প্রদত্ত দানের ফযীলত বেশি।” –বায়হাকী, হাদীস নং : ৮৭৮০

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

احصوا هلال شعبان لرمضان

“রমযান ঠিক রাখার জন্য শাবানের চাঁদ গণনা করো।” –তিরমিযী, হাদীস নং : ৬৮৭

হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন,

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَحَفَّظُ مِنْ شَعْبَانَ مَا لاَ يَتَحَفَّظُ مِنْ غَيْرِهِ ثُمَّ يَصُومُ لِرُؤْيَةِ رَمَضَانَ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْهِ عَدَّ ثَلاَثِينَ يَوْمًا ثُمَّ صَامَ

রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের হিসাব এতো গুরুত্ব সহকারে রাখতেন যে, অন্য কোন মাসের হিসাব ততোটা গুরুত্ব দিয়ে রাখতেন না। অতঃপর তিনি রমাযানের চাঁদ দেখেই রোযা পালন করতেন। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে তিনি শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করতেন। এরপর রোযা রাখতেন।” –সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৩২৫

উপরোক্ত হাদিসগুলোর আলোকে শাবান মাসের মৌলিক তিনটি আমল প্রমাণিত হয়। সেগুলো হলো-
১. মনে-প্রাণে অধীর আগ্রহে রমযানের অপেক্ষা করতে থাকা।
২. যত বেশি সম্ভব শাবান মাসে রোযা রাখা। তবে ২৭ শাবানের পর রোযা রাখা যাবে না।
৩. শাবানের প্রতিদিন চাঁদের তারিখ মনে রাখা, ভুলে না যাওয়া। শাবানের চাঁদের তারিখ হিসাব করে রমযানের অপেক্ষা করা।

রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে শাবান ও আসন্ন ফযিলতের মৌসুম রমযানে বেশি বেশি ইবাদত করে তাঁর প্রিয়তা অর্জনের তাওফীক দান করুন। আমীন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
হাদীসের আলোকে শবে-বরাত: ফজীলত, করণীয় ও বর্জনীয়
চাশতের নামাযের ফযিলত ও আদায়ের নিয়ম

তাহাজ্জুদের দু’আ!
তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমালেও সদকা!
দুআ কবুলের প্রতিশ্রুতি যে নামাযে
কেন নামায পড়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন?
প্রথম কাতারে নামায : আল্লাহকে ভালবাসার উত্তম প্রতিযোগিতা
নামাযে বিভিন্ন কথা মনে হয়? আপনার জন্য চার পরামর্শ
নামাযে রাকাত নিয়ে সংশয়ে পড়লে যা করবেন
নামাযে অজু নিয়ে সন্দেহ হলে কি করবেন?
প্রস্রাবের পর পোশাকের পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ হলে যা করবেন 

সিজদা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই উত্তম সময়টিতে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন