সিজারিয়ান ডেলিভারি প্রসঙ্গে ইসলামের বিধান কী?

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ | 2 0 1

সিজারিয়ান ডেলিভারি প্রসঙ্গে ইসলামের বিধান কী?

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৬, ২০১৯

সিজারিয়ান ডেলিভারি প্রসঙ্গে ইসলামের বিধান কী?

প্রশ্ন : আসসালামু আলাইকুম। সিজার বর্তমানে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় করাতে হয়। কখনো তো প্রকৃতপক্ষেই কোন বিশেষ সমস্যার কারণে মা ও সন্তানের জীবন নাশের আশঙ্কায় করানো হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা নিজেদের ও হাসপাতালের আয় বৃদ্ধির জন্য নরমাল প্রসব সম্ভব এমন প্রসূতিকেও ভীতি সঞ্চার করে সিজার করাতে বাধ্য করে। আবার কোন কোন প্রসূতি প্রসব বেদনার ভয়ে স্বেচ্ছায় সিজার করান। এ সকল ক্ষেত্রে সিজারে বাচ্চা নেওয়া সম্পর্কে ইসলাম কী বলে বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

উত্তর :
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
একান্ত অপারগতাবশত সিজার করতে কোন সমস্যা নেই। অর্থাৎ যখন বাচ্চা বা মায়ের জীবন নাশের বা বড় কোন ক্ষতির আশঙ্কা হয় এবং কোন বিজ্ঞ চিকিৎসক সিজার করাতে বলেন।

অন্যথায় নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হলে সিজার করা জায়েয নেই। কোন ডাক্তার বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থের জন্য বাধ্য করলে তারা অবশ্যই মারাত্মক গুনাহগার হবেন এবং দুনিয়াবী দিক থেকেও এটা মারাত্মক অপরাধ হবে।

আর কেউ বিশেষ কোন সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও নিছক প্রসব বেদনা থেকে বাঁচতে স্বেচ্ছায় সিজার করাতে চাইলে তাও জায়েয হবে না। এর মধ্যে শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ কিছু নিষিদ্ধ দিক রয়েছে। যেমন-

১। এর দ্বারা নিজ শরীরের ক্ষতি করা হয়, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ

“তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দ্দিকে ঠেলে দিও না।” –সূরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫

যারা সিজার করেছেন তারা এ বিষয়ে অবগত আছেন। সারা জীবন এর কষ্ট বয়ে বেড়াতে হয়। প্রায়ই কাটা জায়গায় বা মেরুদণ্ডে ব্যথা ওঠে। অন্যান্য নানা রোগ বালাইয়ের পথ উন্মুক্ত করে। এছাড়া ভারী কোন কাজ করা যায় না। তিনটি সিজারিয়ান অপারেশনের পর পরবর্তী জীবনে কখনো পেটে অপারেশনের প্রয়োজন হলে জীবনের জন্য বড় ধরণের ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হতে হয়।

নবজাতক ও মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিকিৎসাশাস্ত্রের বিবেচনায় প্রয়োজন নেই এমন ক্ষেত্রে সিজার করা হলে মায়ের প্রসব-পরবর্তী সংক্রমণ বাড়ে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। অঙ্গহানিও হতে পারে। শুধু তাই নয়, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান ডেলিভারি সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।

২। অধিক সন্তান ধারণের দিক দিয়ে অনেকটা পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। কেননা সিজার করলে দুই/তিনটির বেশি সন্তান নেওয়া যায় না। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

تزوجوا الودود الولود فإني مكاثر بكم

“তোমরা ভালোবাসাপ্রবণ ও অধিক সন্তান জন্মদানে সক্ষম এমন নারীকে বিবাহ করো। আমি কিয়ামতের দিন উম্মতের আধিক্য নিয়ে গর্ব করব”।–সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২০৫০; সুনানে নাসাঈ, হাদীস : ৩২২৭

৩। বিনা প্রয়োজনে কোন পুরুষকে সতর দেখানো হয়। কোন পুরুষ চিকিৎসক অপারেশন করলে তো বিষয়টি স্পষ্ট। আর মূল অপারেশন কোন মহিলা চিকিৎসক করলেও সাধারণত অ্যানেসথেসিয়া (অবশকরণ) আমার জানা মতে পুরুষ চিকিৎসকই করেন।

৪। অর্থের অপচয় হয়। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا . إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ ۖ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا

“তোমরা অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের সঙ্গে কুফুরী করেছিল।” –সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত : ২৬-২৭

৫। সর্বোপরি মুসলমান দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা হয়।

খুবই আশ্চর্য লাগে যখন দেখি, বিশ্বের উন্নত কোন দেশ এ পন্থা অবলম্বন করে না অথচ আমাদের দেশে এটাই যেন সন্তান ভূমিষ্ঠের একমাত্র পদ্ধতি। আমাদের দেশের জন্য এটা অনেক বড় অভিশাপ। সামান্য কটা টাকার জন্য মানুষের উপর ছুরি চালিয়ে পঙ্গু বানিয়ে দিচ্ছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশের চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অন্তরে তাদের অন্যায়ের উপলব্ধি মানুষের প্রতি রহম দান করুন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...

বিবাহ-বিচ্ছেদের প্রধান ১০ কারণ ও প্রতিকার
বাবা-মায়ের যে ৮ অভ্যাস সন্তানের ভবিষ্যত ধ্বংস করে
আপনার শিশুকে অনুগ্রহশীল হবার শিক্ষা দিন!
কোন মানদণ্ডে আপনি জীবনের সফলতা মাপছেন?
যৌথ পরিবারে থাকতে স্ত্রীকে জোর করা যাবে কী?

 

বিবাহ: আরও পড়ুন

আরও