রজব মাসের নামায সম্পর্কে ভিত্তিহীন কিছু বর্ণনা

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

বিষয় :

রজব মাস

রজব মাসের আমল

রজব মাসের রোযা

সালাতুর রাগায়েব

রজব মাস সম্পর্কে ভিত্তিহীন বর্ণনা

রজব মাসের নামায সম্পর্কে ভিত্তিহীন কিছু বর্ণনা

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০১৯

রজব মাসের নামায সম্পর্কে ভিত্তিহীন কিছু বর্ণনা

রজব মাস আশহুরে হুরুমের অন্তর্ভুক্ত সম্মানিত চার মাসের এক মাস। এ মাস আসে মহিমান্বিত রমযানের আগমনী বার্তা নিয়ে। এই মাস থেকেই রমযানের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে শুরু করে মুমিন বান্দা। তবে এ মাসে কোন বিশেষ আমলের কথা কুরআন, সহীহ হাদীস বা আমলযোগ্য কোন হাদীসে বর্ণিত হয়নি। 

এ সত্যেও, বার চাঁদের আমল শিরোনামের কিছু কিছু পুস্তিকায় রজব মাসের বর্ণনা দিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিহীন বর্ণনার সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। একটি বইয়ে লেখা হয়েছে-

“রজব মাসের প্রথম তারিখে মাগরিব ও ইশার নামাযের মাঝখানে বিশ রাকাত নফল নামায পড়বে। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস ৩ বার, সূরা কাফিরূন ৩ বার পড়বে। তাহলে আল্লাহ পাক হাশরের দিন তাকে শহীদের দলের সহিত উঠাবেন এবং আল্লাহ পাকের নিকট সে বড় আবেদ বলে গণ্য হবে।

রজব মাসের প্রত্যেক জুমার দিন জুমার পর আসরের নামাযের আগে চার রাকাত নামায এক সালামে পড়বে। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ৭ বার আয়াতুল কুরসি ও পাঁচবার সূরা ইখলাস পড়বে...।

এই মাসের ১৫ তারিখকে শবে ইস্তেফতাহ বলা হয়। যে ব্যক্তি এই রাত্রিতে ৭০ রাকাত নফল নামায দুই রাকাত করে পড়বে...।

১৫ তারিখ রাতে তাহাজ্জুদের নামাযের সময়ে ৫০ রাকাত নফল নামায দুই রাকাত করে পড়বে...তার সমস্ত দুআ কবুল করা হবে, কবর আলোকিত হবে এবং শহীদদের সাথে তার হাশর হবে এবং পয়গাম্বারদের সঙ্গে সে বেহেশতে যেতে পারবে।

১৫ তারিখ দ্বিপ্রহরের পর গোসল করে আট রাকাত নফল নামায পড়বে; দুই রাকাত করে। প্রত্যেক রাকাতে...।

এ বর্ণনাগুলো মোসাম্মৎ আমেনা বেগমের লেখা ‘বার চাঁদের আমল ও ঘটনা’ নামক পুস্তিকায় রয়েছে। এছাড়াও শুধু রজব মাসের নামায সংক্রান্তই আরো কিছু বর্ণনা ও ঘটনা সেখানে রয়েছে, যা এখানে উল্লেখ করা হল না। এ পুস্তিকা, মকসুদুল মুমিনীন ও বারো চান্দের ফযীলত শিরোনামে লেখা অন্যান্য পুস্তিকায়ও রজব মাসের বিভিন্ন দিন-তারিখের বিভিন্ন সময়ের নামাযের বর্ণনা এবং তার বিরাট বিরাট ফযীলত লেখা হয়েছে। এই বর্ণনাগুলো এতই উদ্ভট যে, এর মধ্যে কিছু বর্ণনার অংশবিশেষ জাল হাদীসের কিতাবে পাওয়া গেলেও অন্যগুলো জাল হাদীসের ভাণ্ডারেও পাওয়া যায় না।

অষ্টম শতকের বিখ্যাত হাদীস বিশারদ হাফেয ইবনে রজব রাহ. বলেন-
فأما الصلاة فلم يصح في شهر رجب صلاة مخصوصة تختص به.
অর্থাৎ, রজব মাসের নির্দিষ্ট কোনো নামায প্রমাণিত নয়। -লাতা-ইফুল মাআরেফ পৃ. ২২৮

এমনিভাবে রজব মাসের বিশেষ বিশেষ রোযা বিষয়েও বিভিন্ন ধরনের জাল বর্ণনা এসকল পুস্তিকায় পাওয়া যায়, যার কোনোই ভিত্তি নেই। হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন,
لم يرد في فضل شهر رجب، ولا في صيامه، ولا في صيام شيء منه معين، ولا في قيام ليلة مخصوصة فيه حديث صحيح يصلح للحجة.
“রজব মাসের ফযীলত, রজব মাসে রোযা রাখার ফযীলত বা রজব মাসের নির্দিষ্ট কোনো দিন রোযা রাখার ফযীলত অথবা রজব মাসের নির্দিষ্ট কোনো রাতে নামায-ইবাদত করার ফযীলত সম্পর্কে প্রমাণ হওয়ার উপযুক্ত কোনো হাদীস নেই।” –তাবয়ীনুল আজাব বিমা ওয়ারাদা ফী শাহরি রাজাব, পৃ. ১১

মোটকথা, রজব মাসের নির্দিষ্ট কোনো নামায বা রোযা নেই। এ মাসে নির্দিষ্ট কোনো দিনে নফল নামায বা রোযা পালনের বিশেষ কোনো ফযীলতের কথাও হাদীসে নেই। সুতরাং আমরা এগুলো বিশ্বাস করব না।

(বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : তাবয়ীনুল আজাব বিমা ওয়ারাদা ফী শাহরি রাজাব, ইবনে হাজার আসকালানী; কিতাবুল মাউযূআত, ইবনুল জাওযী; আললাআলিল মাছনূআহ, জালালুদ্দিন সুয়ূতী; তানযীহুশ শারীআহ, ইবনে আররাক; তাযকিরাতুল মাউযূআত, তাহের পাটনী; আলফাওয়াইদুল মাজমূআ, শাওকানী; আলআসারুল মারফূআহ, আবদুল হাই লখনবী ইত্যদি কিতাবের রজব মাস বা এ সংশ্লিষ্ট বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়)

তবে রজব মাস যেহেতু ‘আশহুরে হুরুম’ তথা সম্মানিত চার মাসের অন্তর্ভুক্ত, তাই নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখ নির্ধারণ বা নির্দিষ্ট ফযীলতের বিশ্বাস ছাড়া এ মাসে নফল নামায বা রোযা রাখতে কোনো বাধা নেই।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
এসে গেল রজব মাস
মহিমান্বিত রজব মাস; করনীয় ও বর্জনীয়
ইতিহাস পাল্টে দেয়া রজব মাসের পাঁচটি ঘটনা
রজব মাস সম্পর্কে কিছু প্রচলিত যঈফ ও জাল হাদিস
রজব মাসে প্রিয় নবী সা. যে দু’আ বেশি করতেন
রজব মাসের তিন বিদআত
রজব মাসে ওমরা : মুস্তাহাব না বিদআত?
আইয়ামে বীজের রোযা রাখুন ১৩, ১৪ ও ১৫ রজব