সিজদা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ঢাকা, ১৬ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

সিজদা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০১৯

সিজদা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

সিজদা ইবাদতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ ও মর্যাদাসম্পন্ন কাজ। কেননা এর মাধ্যমে বান্দা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে মাথা নত করে এবং তাঁর বিশেষ নৈকট্য লাভে ধন্য হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, “সিজদা করো, নিকটবর্তী হও।” –সূরা আলাক্ব:১৯

শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের যা শিখিয়েছেন, “সিজদারত অবস্থায় বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটে থাকে, কাজেই সিজদায় বেশি করে দুআ পাঠ করো।”  (সহীহ মুসলিম)

এটি এমন বিনয় যা একমাত্র আকাশ-যমিন ও এতদুভয়ের মধ্যকার সকল কিছুর স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর উদ্দেশ্যেই প্রদর্শন করা হয়।

এই সিজদার মাধ্যমেই ব্যক্তি তার সৃষ্টিকর্তার সামনে নিজেকে সঁপে দিতে পারে। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, “যখন একজন ব্যক্তি সিজদা করে, তখন তার শরীরের সাতটি অংশ সিজদা করে: তার মুখ, দুই হাত, দুই হাঁটু ও দুই পা।” (সহীহ মুসলিম) 

সিজদার মাধ্যমে যখন ব্যক্তি তার সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গ মুখ ও কপাল মাটিতে লাগিয়ে সবিনয় নিজেকে সমর্পণ করে, তখন আল্লাহ তার মর্যাদা আরেক ধাপ বাড়িয়ে দেন। 

তিনি তাদের পুরষ্কৃত করেন এবং তাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দেন। সাওবান (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, “নামাযে বেশি করে সিজদা আদায় করো। কেননা প্রতি সিজদার জন্য আল্লাহ তার সম্মান একশগুণ বাড়িয়ে দেন এবং একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেন”। (সহীহ মুসলিম)

সিজদা জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়

রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের জানিয়েছেন, সিজদার মাধ্যমে, বিশেষ করে নামাযে যখন আমরা সিজদাবনত হই তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে যায়। রাবীআ বিন কা’ব আল আসলামী (রা.) থেকে বর্ণিত,

“রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে থাকতাম। তাঁর প্রয়োজনগুলো আমি দেখভাল করতাম ও অযুর পানি এনে দিতাম। তিনি বললেন, প্রশ্ন কর। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, জান্নাতে আপনার সাথী কারা হবে? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা ছাড়া আর কিছু? আমি জবাবে বললাম, শুধু এটুকুই। তিনি বললেন, বেশি বেশি সিজদা করো যেন আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি।” (সুনানে আবু দাউদ)

সিজদার দুআ

আমরা খুব সুন্দর একটি দুআ শিখে নিতে পারি যা রসূলুল্লাহ (সা.) সিজদায় পাঠ করতেন। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন সিজদায় যেতেন, তিনি বলতেন:

বাংলা উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদ’তু ওয়া লাকা আসলামতু ওয়া বিকা আ’মানতু সাজাদা ওয়াজহি লিল্লাযি খালাকাহু ওয়া সাওয়ারাহু ফা আহসানা সুরাতাহু ওয়া শাক্কা সামআহু ওয়া বাসারাহু, তাবারাকাল্লাহু আহসানুল-খালিকিন।”

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সিজদা করেছি এবং তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি এবং তোমার প্রতিই  ইমান এনেছি। আমার মুখমন্ডল তাকেই সিজদা করেছে যে এই সুন্দরতম আকৃতির স্রষ্টা এবং তিনিই দিয়েছেন শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি, সকল প্রশংসা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর জন্যই। (সুনানে নাসাঈ) 

মহান আল্লাহ আমাদেরকে পূর্ণ আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতার সঙ্গে সিজদা করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করে নিন। আমীন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
কেন নামায পড়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন?
প্রথম কাতারে নামায : আল্লাহকে ভালবাসার উত্তম প্রতিযোগিতা
নামাযে বিভিন্ন কথা মনে হয়? আপনার জন্য চার পরামর্শ
নামাযে রাকাত নিয়ে সংশয়ে পড়লে যা করবেন
নামাযে অজু নিয়ে সন্দেহ হলে কি করবেন?
প্রস্রাবের পর পোশাকের পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ হলে যা করবেন 

 

ফতোয়া/মাসায়েল: আরও পড়ুন

আরও