কবরে আত্মারা কি পরস্পর সাক্ষাৎ করে, কথাবার্তা বলে?

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

কবরে আত্মারা কি পরস্পর সাক্ষাৎ করে, কথাবার্তা বলে?

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৮

কবরে আত্মারা কি পরস্পর সাক্ষাৎ করে, কথাবার্তা বলে?

প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম। মৃত্যু তো জীবনের অবধারিত বিষয়। আমাদের পূর্ব পুরুষদের কেউই তো পৃথিবীতে বেঁচে নেই। খুব কৌতূহল হয় পরপারের জীবন নিয়ে যে তারা কেমন আছেন। আমার প্রশ্ন হল, শহীদরা বা মৃত্যুর পর অন্য সাধারণ আত্মারা পরস্পর মিলিত হয়, আনন্দ উদযাপন করে ও কথাবার্তা বলে?

উত্তর:

ওয়া আলাইকুমুসসালাম।

রুহ বা আত্মা দুই প্রকার:

১- আযাবপ্রাপ্ত আত্মা। এ ধরণের আত্মা শাস্তি ভোগের কারণে ব্যস্ত থাকবে বলে পরস্পর দেখা সাক্ষাৎ ও মিলিত হওয়া থেকে বিরত থাকবে।

২- নেয়ামতপ্রাপ্ত আত্মা। এসব আত্মা বিচরণকারী হবে, এরা আবদ্ধ থাকবে না। তারা পরস্পর মিলিত হয়ে দুনিয়া ও দুনিয়ায় বসবাসকারীদের ব্যাপারে কথাবার্তা বলবেন এবং নিজেরা নিজেদের পরিচিতদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করবেন। প্রত্যেক আত্মা তার আমল অনুযায়ী তার পরিচিত বন্ধুর সাথে থাকবেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোচ্চ বন্ধুর সাথে থাকবেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَأُوْلَٰٓئِكَ مَعَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِم مِّنَ ٱلنَّبي‍ينَ وَٱلصِّدِّيقِينَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَٱلصَّٰلِحِينَۚ وَحَسُنَ أُوْلَٰٓئِكَ رَفِيقٗا

“আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা তাদের সাথে থাকবে, আল্লাহ যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে অনেক উত্তম।” (সূরা নিসা : ৬৯)

দুনিয়ায়, বারযাখে ও জান্নাতে এভাবে একত্রে থাকা কুরআনে প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفۡسُ ٱلۡمُطۡمَئِنَّةُ ٢٧ ٱرۡجِعِيٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةٗ مَّرۡضِيَّةٗ ٢٨ فَٱدۡخُلِي فِي عِبَٰدِي ٢٩ وَٱدۡخُلِي جَنَّتِي

“হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও। আর প্রবেশ করো আমার জান্নাতে।” (সূরা আল-ফাজর : ২৭-৩১) অর্থাৎ তাদের সাথে শামিল হও এবং তাদের সাথে থাকো। আর এ কথা মৃত্যুর সময় আত্মাকে বলা হবে। 

বিশেষত আল্লাহ শহীদদের সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে বলেছেন ,

وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاء عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ

“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত, তাদেরকে রিযিক দেওয়া হয়।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৯)

আল্লাহ তাআলা শহীদদের সম্পর্কে আরও বলেছেন,

فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللّهُ مِن فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُواْ بِهِم مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلاَّ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ

“আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তার প্রেক্ষিতে তারা আনন্দ উদযাপন করছে। আর যারা এখনও তাদের কাছে এসে পৌঁছেনি তাদের পেছনে তাদের জন্যে আনন্দ প্রকাশ করে। কারণ, তাদের কোন ভয় ভীতিও নেই এবং কোন চিন্তা ভাবনাও নেই।” (সূরা আলে ইমরান : ১৭০) 

মহান আল্লাহ শহীদদের সম্পর্কে আরও বলেছেন,

يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللّهَ لاَ يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ

“আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্যে তারা আনন্দ প্রকাশ করে, আর আল্লাহ ঈমানদারদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না।” (সূরা আলে ইমরান: ১৭১) 

এ আয়াতসমূহ দ্বারা তাদের পরস্পর মিলিত হওয়া তিনভাবে প্রমাণিত হয়:

১- তারা (শহীদগণ) জীবিত। আর জীবিতরা পরস্পর পরস্পরের সাথে মিলিত হয়, দেখা সাক্ষাৎ করে।

২- তারা তাদের পরবর্তীতে আগমনকারী ভাইদের আগমন ও তাদের সাথে দেখা হওয়ার ব্যাপারে আনন্দিত ও উৎফুল্ল।

৩-﴿يَسۡتَبۡشِرُونَ﴾  শব্দ প্রমাণ করে যে, তারা পরস্পর পরস্পরে সুসংবাদ দেয় ও খুশি হয়।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
মৃত্যু যেন হয় জান্নাতের পথে যাত্রা
হাদিসের আলোকে ভালো মৃত্যুর কিছু নিদর্শন
কোথায় আছে জান্নাত জাহান্নাম? তা কি এখন বিদ্যমান?

 

মৃত্যু ও পরকাল : আরও পড়ুন

আরও