আত্মহত্যাকারী কি চিরকাল জাহান্নামে থাকবে?

ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

আত্মহত্যাকারী কি চিরকাল জাহান্নামে থাকবে?

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

আত্মহত্যাকারী কি চিরকাল জাহান্নামে থাকবে?

আত্মহত্যা করা বিশাল গুনাহর কাজ। কেউ যখন আত্মহত্যা করে তখন সে নিজেকে আল্লাহর গজব ও ক্রোধের শিকারে পরিণত করে। তবে ইমানদার হয়ে থাকলে সে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। কারণ, আত্মহত্যা কবিরাহ গুনাহ হলেও কোনো শিরকি কাজ নয়। একমাত্র শিরকই এমন গুনাহ, আল্লাহ যা ক্ষমা না করার ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ وَمَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا 

‘নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করেন না তাঁর সাথে শরীক করাকে এবং এ ছাড়া যাকে চান ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করল, সে তো গুরুতর অপবাদ আরোপ করল।’ (সূরা নিসা : ৪৮)

উক্ত আয়াত থেকে আমরা জানলাম, শিরক ছাড়া যত গুনাহ আছে তার শাস্তি দেওয়া না দেওয়া আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়। আর আত্মহত্যা শিরক নয়। তেমনি যিনা, চুরি, মদ্য পান- সব কিছুই কবিরাহ গুনাহ বটে। তবে সেসব শিরক নয়। কেউ যখন এসব গুনাহে লিপ্ত হয়ে মারা যাবে আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন- তার নেককাজগুলোর বদৌলতে কিংবা ইসলামে বিশ্বাসের ভিত্তিতে। আর তিনি চাইলে তাকে তার অপরাধ অনুপাতে শাস্তি দেবেন। অতঃপর সে গুনাহ থেকে পবিত্র হবার পর জাহান্নাম থেকে বের হবে।

আর ‘আত্মহত্যাকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে’ – এমন ধারণা যে হাদিস থেকে সৃষ্টি হয় তাতে মূলত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্মহত্যার ভয়াবহ শাস্তির কথা বলেছেন। তিনি ইরশাদ করেন,

عَنْ أبي هريرة , عَن النبي – صلى الله عليه وسلم – قال : من تردى من جبل , فقتل نفسه , فهو في نار جهنم يتردى فيها خالدا مخلدا فيها أبدا , ومن تحسى سما , فقتل نفسه , فسمه في يده يتحساه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا , ومن قتل نفسه بحديدة , ثم انقطع علي شيء , يعني خالدا , كانت حديدته في يده يجأ بها في بطنه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পাহাড়ের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে, যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের মধ্যে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তার দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৪৪২, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-১৯৬৪)

এ হাদীস দ্বারা যদিও আত্মহত্যাকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামী বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি আসলে এমন নয়। ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করলে কোনো মুসলমান চিরস্থায়ী জাহান্নামী হতে পারে না – যেমনটা আমরা উপরে কুরআনের আয়াত থেকে জেনেছি। তবে দীর্ঘস্থায়ী জাহান্নামী হতে পারে। এ হাদীস দ্বারা সেটাই বোঝা যায়। আরবের পরিভাষায়خالدا مخلدا   শব্দ, যার অনুবাদ করা হয়, “চিরকাল”- মূলত এর দ্বারা আরবের লোকেরা কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝিয়ে থাকেন। উক্ত হাদীসেও উদ্দেশ্যও দীর্ঘস্থায়ী হওয়া। চিরস্থায়ী হওয়া নয়। (দেখুনঃ উমদাতুল কারী; শরহু সহীহিল বুখারী লিইবনে বাত্তাল)

অবশ্য কেউ যদি নিজের গুনাহকে বৈধ মনে করে বা আল্লাহর বিধানের সঙ্গে কুফরীবশত গুনাহ করে বা আত্মহত্যা করে তবে সবার মতে সে জাহান্নামী। জাহান্নামই হবে তার স্থায়ী ঠিকানা। আল্লাহ আমাদের এ থেকে হিফাজত করুন। আমিন।

এমএফ/আরপি

আরও পড়ুন...
মৃত্যুকামনা : কী বলেছেন নবীজি?
কেউ আত্মহত্যা করলে জানাযা পড়া জায়েয হবে?
আপনি কি বেদনাহত সময় পার করছেন?
বিষণ্ণতায় ভুগছেন? কোরআন আপনাকে কি বলে
আশাহত মানুষের প্রতি কুরআনের বার্তা