ফ্যাশনে শারদীয় দুর্গোৎসব

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

ফ্যাশনে শারদীয় দুর্গোৎসব

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

ফ্যাশনে শারদীয় দুর্গোৎসব

দুর্গোৎসবকে ঘিরে এখন আগ্রহ ও আনন্দ সবার। ইতিমধ্যে দেশ জুড়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। শরতের মেঘলা দিনে আনন্দময়ী দুর্গা দেবীর আগমন ঘটেছে বাঙালি হিন্দু সমাজে।

সাজসজ্জা উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন পোশাক ছাড়া যেন জমে না উৎসব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে উৎসবের পোশাক ও সাজে। তাই দুর্গোৎসব নিয়ে আমাদের এই বিশেষ আয়োজন।

ষষ্ঠী থেকে দশমী এই পাঁচ দিন একেক রূপ ও রঙে সাজে দুর্গা। অনেকে দুর্গাদেবীর পোশাক অনুকরণ করেন। শুধু পোশাক নয়, দুর্গাদেবীর গহনার মতো গহনাও পরেন অনেকে। দুর্গার জমকালো সাজটি হয় নবমীর রাতে- গাঢ় লাল, নীল রঙের মসলিন শাড়ি। গহনার কোনো কমতি থাকে না।

মূলত ষষ্ঠী পূজা থেকেই সাজগোজ শুরু হয়। বিসর্জন পর্যন্ত তা চলে। চলে দেবীঅর্চনা, শঙ্খনিনাদ, ঢাকের বাজনা আর উলুধ্বনি। যেহেতু দশমীর দিন সাজটা গর্জিয়াস থাকে, সেহেতু উৎসবের শুরুর দিকে অর্থাৎ পঞ্চমী, ষষ্ঠী বা অষ্টমীতে এমনকি নবমীর সকাল-সন্ধ্যার সাজও কিছুটা হালকা হলে ভালো হয়।

পূজার উৎসব শুরু হয় মূলত ষষ্ঠীর দিন থেকেই। তাই এদিন খুব জমকালো পোশাক এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। চট্টগ্রামের অন্যতম ফ্যাশন হাউজ কৃষ্টি বুটিকের ফ্যাশন ডিজাইনার বলেন, সাদা কিংবা যেকোনো হালকা রঙের পোশাক আরামদায়ক হবে ষষ্ঠীর দিনে। তার সঙ্গে হালকা সাজ।

ফাউন্ডেশন আর ফেসপাউডার, হালকা লিপিস্টিক আর চোখে কাজল দিয়েই সাজ শেষ করার পরামর্শ দেয়েছেন লাইফ অপ বিউটির কর্ণধার বিউটি এক্সপার্ট চাঁদনী আক্তার। তিনি বলেন, সপ্তমীর দিন থেকে নবমী পর্যন্ত সকাল বেলা পূজার অঞ্জলিতে সুতির শাড়ি পড়তে পারেন। খুব একটা খারাপ লাগবে না তাতে। আরামদায়ক সুতির শাড়িতে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করবেন আপনি। ষষ্ঠীতে হালকা নীল, আকাশি, গোলাপি বা ধূসর আর সপ্তমীতে লাল, মেরুন, গোল্ডেন, সি গ্রিন বা নেভি ব্লু রঙের পোশাক নির্বাচন করুন। ষষ্ঠীতে সুতির হালকা ছাপার সালোয়ার-কামিজ কিংবা ছাপার সুতি শাড়ি বা একরঙা পাড়ের শাড়ি। সপ্তমীতে বেছে নিন কাতান, সিল্ক, তসর, অ্যান্ডি বা কোটার শাড়ি।

বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে সাজটা একটু ভারী হলে ক্ষতি নেই। আর রাতের বেলা স্বজনদের বাসায় ঘুরতে যাওয়ার সময় গাঢ় সাজে ভালো লাগবে।

ফ্যাশন ডিজাইনার শাহতাজ মুনমুন বলেন, দশমীর দিন সাজ মানেই আহলাদি নববধূর সাজ। ওই দিন সাজতে হবে মনের মতো করে- যেভাবে আপনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। এদিন সিঁদুর খেলা হয়। তাই লাল বা গাঢ় রঙের পোশাক বেছে নেওয়াই ভালো। দশমীর দিন বেছে নিন তাঁত, জামদানি বা ঐতিহ্যবাহী গরদের শাড়ি। এই দিন, পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক বা লিপস্টিকের বদলে লাগান লিপগ্লস।

আগেই চুল সেট করে নিন। বড় চুলে খোপা করে ফুল দিতে পারেন। আর ছোট চুল হলে ব্লো ডাই করে খুলে রাখুন। সঙ্গে ওয়েট টিসু রাখুন। মাঝে মাঝে ওয়েট টিসু দিয়ে মুখ মুছে নিন। গরমের ক্লান্তি দূর হবে আর আপনাকে অনেক বেশি সময় দেখাবে স্নিগ্ধ ও সতেজ।

দশমীর রাতের সাজ জমকালো হলে ক্ষতি নেই। সময় নিয়ে, যত্নসহ সাজ করুন। প্রথমে মুখ পরিস্কার করে টোনিং করুন। ওয়াটার বেজড ফাউন্ডেশন মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে চোখে গাঢ় রঙের শ্যাডো লাগিয়ে নিন। চোখের নিচে কাজল দিন। চোখের ওপরের পাতায় আইলাইনার দিয়ে মোটা করে লাইন টেনে নিন। দুই বার করে মাশকারা লাগান। ঠোঁট এঁকে গাঢ় রঙের লিপস্টিক লাগিয়ে নিন। শাড়ি পরলে মানানসই টিপ পরুন সঙ্গে হাতভর্তি কাচের চুড়ি। পূজা দেখার সময় অনেক হাঁটতে হয়, তাই সাজের সঙ্গে মিলিয়ে আরামদায়ক স্যান্ডেল পড়ুন।

পূজাতে ছেলেদের পোশাক হয় সাধারণ। রঙের খেলা হয় বলে সবাই সাদা কিংবা হাল্কা রঙের ধুতি ও পাঞ্জাবি পরতে পছন্দ করেন। পরতে পারেন মানানসই শার্ট। হালফ্যাশনের টি-শার্ট কিংবা পোলো শার্টের সঙ্গে পরে নিন জিন্স বা গ্যাবার্ডিনের প্যান্ট। এর সঙ্গে মানানসই জুতা।

ইসি/

 

ফ্যাশন: আরও পড়ুন

আরও