শ্বেতী হতে পারে আপনার শরীরেও! তাই আজ থেকেই সাবধান

ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

শ্বেতী হতে পারে আপনার শরীরেও! তাই আজ থেকেই সাবধান

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৩, ২০১৯

শ্বেতী হতে পারে আপনার শরীরেও! তাই আজ থেকেই সাবধান

এই রোগটির সঙ্গে কমবেশি সকলেই পরিচিত। কিন্তু কখন কার জীবনে এই রোগ হানা দেবে তা আগে থেকে বলা যায় না। যেমন বলা যায় না এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ কোনো উপায়ের কথা। রোগটি মারণ নয়, ঘাতকও নয়। তবে একবার শরীরে বাসা বাঁধলে তা ক্রমে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে। আর অটোইমিউন ডিজিজ হওয়ায় মুক্তি পাওয়ার সোজাসাপটা পথও থাকে না।

শ্বেতী নিয়ে তাই মাথাব্যথাও কম নেই চিকিৎসক মহলে। দুনিয়া জুড়েই এই অসুখ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণাও চলে। তবে ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কিছু উপায় আছে যা অবলম্বন করলে রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তবে অবহেলা করলে এই অসুখ রোগীর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই শ্বেতীর দেখা মিললেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এই অসুখে আমাদের ত্বকের রং তৈরি করার কোষ বা মেলানোসাইট নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বা কমে যায়। বেশির ভাগ শ্বেতী আজকাল অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার থেকে হয়। রোজকার জীবনে এই সব রাসায়নিক সকলের ত্বক সহ্য করতে পারে না। তখনই শুরু হয় সমস্যা।

আসুন জেনে নেই কী কী রাসায়নিকে বিপদ হতে পারে:

. চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু কিছু রাসায়নিক ব্যবহারের পর ত্বকের কোনো রকম পরিবর্তন হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।

. সাবধান হোন হেয়ার ডাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে। এতে থাকা পি-ফেনিলেনেডিয়ামাইন বা ‘পিপিডি’ শ্বেতী ডেকে আনতে ওস্তাদ। তাই সাবধান হতেই হবে এ ক্ষেত্রে।

. সাবধানতা অবলম্বন করুন ডিও, পারফিউম-স্প্রে, ফরসা হওয়ার বিভিন্ন ক্রিম, ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো সানস্ক্রিন, অ্যাডহেসিভ রয়েছে এমন কোনো আঠালো দ্রব্য, ডিটারজেন্ট, কড়া অ্যান্টিসেপটিক থেকেও। এইগুলো ব্যবহার করলেই যে শ্বেতী হবে এমনটা নয়, তবে যাদের ত্বক এই সব রাসায়নিকের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না, বিপদ ঘনাবে তাদেরই।

. রাসায়নিকের প্রভাব ছাড়াও সূর্যালোক ও মানসিক চাপও এই অসুখের অন্যতম কারণ।

. মিথ ভাঙুন। শ্বেতী নিয়ে সাবধানতা অবলম্বনের আগে শ্বেতী নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করাও আবশ্যক।

. ঠিক সময়ে শ্বেতীর চিকিৎসা শুরু করলে তা অবশ্যই কমে। সেরেও ওঠে বেশির ভাগটাই।

. এই অসুখ মোটেও ছোঁয়াচে নয়। কোনো রকম যৌন সংসর্গের জেরে তা ছড়ায় না।

. বাবা-মায়ের থাকলেই সন্তানের এমন অসুখ হবে, এই ধারণা একেবারেই ভুল, কারণ এ অসুখ বংশগত নয়।

. কেবল এসপিএফ-ই নয়, নজর রাখতে হবে পিএফ ফ্যাক্টরেও।

কিছু সতর্কতা:

কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে শরীরে কোনো সাদা দাগ হচ্ছে কি না সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তেমনটা দেখা দিলেই বন্ধ করতে হবে ক্ষতিকর রাসায়নিক দেওয়া জিনিসের ব্যবহার।

. ডিটারজেন্ট ব্যবহারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন।

. সাবান, তেল, শ্যাম্পুর বেলায় বিজ্ঞাপনী চমকে প্রভাবিত হয়ে না কিনে, চেষ্টা করুন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কিনুন।

. সানস্ক্রিন ব্যবহারের সময় ইউভি এ ও ইউভি বি দুটোই ব্লক করছে কি না দেখুন। কেবল এসপিএফ-ই নয়, নজর রাখতে হবে পিএফ ফ্যাক্টরেও। এ ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের অনুমোদন দেওয়া সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

. কোনো রকম ফরসা হওয়ার ক্রিম, হেয়ার ডাই একেবারেই ব্যবহার চলবে না।

. শ্বেতী ধরা পড়লে ছেড়ে দিন প্লাস্টিক বা রবারের জুতো পরা। সার্বিকভাবেই প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করে ফেলতে পারলে ভালো হয়।

. সাবধানতার সঙ্গে কিছু ওষুধও প্রয়োজন হয়। তাই চিকিৎসায় অবহেলা নয়।

. স্বাস্থ্যকর ডায়েট ও পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ কমায়। দরকারে চাপমুক্ত রাখে এমন কোনো শখ বা নেশার দ্বারস্থ হতে পারেন।

ইসি/

 

রুপচর্চা: আরও পড়ুন

আরও