বলিরেখা দূর করবে চালের গুঁড়া!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫

বলিরেখা দূর করবে চালের গুঁড়া!

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

বলিরেখা দূর করবে চালের গুঁড়া!

সময়ের সাথে সাথে আমাদের বয়সও বাড়ে। আর এই বয়সের ছাপ সবচেয়ে আগে পরে মুখের উপর। একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর মুখের ত্বকে ভাজ পড়তে শুরু করে, লোমকূপগুলো বড় হয়ে স্পষ্ট হতে শুরু করে। এটা অনেক সময় বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি নানা কারনে বয়সের আগেও পড়তে পারে। তাই ত্বকের নমনীয়তা এবং সৌন্দর্য ধরে রাখতে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর ত্বককে টান টান, মসৃণ ও সুন্দর করার জন্য আমাদের কোনো দামী প্রসাধণীর প্রয়োজন নেই। এর সমাধান রয়েছে আমাদের ঘরেই। এখানে কয়েকটি ঘরোয়া ফেস মাস্ক দেয়া হলো যা ত্বকের বলিরেখা কমিয়ে ত্বককে সতেজ করার পাশাপাশি ত্বকের পেশীকে করবে টান টান।

চালের গুঁড়া এবং পেঁপের মাস্ক: এই মাস্কটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে পাকা পেঁপে, চালের গুঁড়া এবং মধু। প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে পাকা পেঁপে খুব ভালো করে চটকে নিতে হবে। তাতে এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়া নিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার এর সাথে ৩ টেবিল চামচ মধু দিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে এই মাস্কটি পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। তারপর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। পেঁপেতে থাকা পাপাইন নামক উপাদানটি ত্বকের ভাঁজ ও চামড়া ঝুলে পরা প্রতিরোধ করে।

এছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন এই প্যাকগুলো:

ব্লুবেরি ও মধুর মাস্ক: ত্বকের ধরন ভালো করতে এবং বলিরেখা কমাতে ব্লুবেরি খুবই উপকারী। এক মুঠো ব্লুবেরি নিয়ে ব্লেন্ড করে একটি মসৃন পেস্ট তৈরি করুন। তারপর আগে সামান্য মধু দিয়ে পুরো মুখে মেখে নিয়ে তার উপর ব্লুবেরি পেস্ট লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হবে উজ্জ্বল এবং টান টান।

ডিম এবং অ্যালোভেরা ফেসপ্যাক: ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে অ্যালোভেরা ও ডিম চমৎকার কাজ করে। ডিমের সাদা অংশ নিয়ে বিট করে এতে কিছুটা অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে আবার বিট করে মসৃণ আর ফ্লাপি একটা পেস্ট তৈরি করুন। তারপর একটি ব্রাশ দিয়ে মুখের নিচের দিক থেকে উপরের দিকে লাগান। মুখের প্যাকটি শুকিয়ে গেলে তুলা নিয়ে পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে ঠিক আগের মতোই নিচের দিক থেকে উপরের দিকে দিয়ে প্যাকটি তুলে ফেলুন। এটি মুখের শুষ্কতা, বলিরেখা, ত্বকের ভাঁজ দূর করে ত্বকের উজ্জলতা ও ইলাস্টিসিটি ফিরিয়ে আনবে।

কলা এবং হুইপক্রিম: যেকোনো ধরনের ত্বকের জন্য কলা হচ্ছে চমৎকার একটি মাস্ক। তাই এই মাস্কটি তৈরি করার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে কলা এবং হুইপ ক্রিম। কলা চটকে নিতে হুইপ ক্রিমের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। আপনি চাইলে এর সাথে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিতে পারেন ত্বকের জন্য প্যাকটিকে শক্তিশালী করতে। পুরো মুখে এটা লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রাকৃতিকভাবেই আপনার ত্বককে করবে পুনর্গঠিত এই ঘরোয়া মাস্কটি।

শশা এবং ডিমের সাদা অংশ: এই প্যাকটি তৈরি করতে আপনার প্রয়োজন হবে ঠাণ্ডা শশা ও ডিমের সাদা অংশ। প্রথমে কিছুটা শশা নিয়ে খোসা ফেলে দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে মসৃণ না হওয়া পর্যন্ত তারপর এর সাথে একটি ডিমের সাদা অংশ এবং ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মুখের নিচের অংশ থেকে উপরের দিকে অর্থাৎ থুতনির নিচ থেকে গালের উপরের দিকে ম্যাসেজ করুন কিছুক্ষন এবং ২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার মুখের ঝুলে যাওয়া ত্বককে দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।

এই প্যাকগুলো ব্যবহার করার সাথে সাথে নিয়মিতভাবে অলিভ অয়েল বা অন্য যেকোনো ভিটামিন ই সমৃদ্ধ তেল দিয়ে মুখে ম্যাসেজ করুন। তবে অবশ্যই সঠিক পদ্ধতিতে ম্যাসেজ করবেন তা নাহলে বিপরীত ফল হতে পারে। সঠিকভাবে এই মাস্কগুলোর ব্যবহারের মাধ্যমেই আপনি পেতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত নিখুঁত ও টান টান ত্বক। নিয়মিত ব্যবহারে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন বলিরেখা মুক্ত তারুণ্য উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারী।

ইসি/