বয়স যখন পেরুবে ত্রিশ

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

বয়স যখন পেরুবে ত্রিশ

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ০১, ২০১৮

print
বয়স যখন পেরুবে ত্রিশ

সময়ের সাথে সাথে আমাদের বয়স বেড়ে যায়। একইসাথে আমাদের ত্বকের বয়স ও বাড়ে। ২৫ এর পর থেকেই ত্বকে বয়স বাড়ার লক্ষণগুলো শুরু হয়ে যায়। এটা চাইলেও আমরা থামিয়ে রাখতে পারি না। সেজন্য নিজের যত্ন করা ছেড়ে দেবেন তা কি হয়? একটু নিজের যত্ন নিলেই বয়সের ছাপের লক্ষণগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল, বলিরেখা, ঝুলে যাওয়া ত্বক এ সবকিছুই ২৫ এর পরে এসে শুরু হয় আর ত্রিশের পর বেড়ে যায়। ত্বকে আগের মতো লাবণ্য থাকে না। পিগমেন্টেশনের সমস্যা তো আছেই।

নিয়মিত একটু ক্লিনজ়িং, টোনিং, ময়শ্চারাইজ়িং করলে ত্বক ভালো রাখতে পারবেন। মাসে একবার হেয়ার স্পা, ফেসিয়াল, মেনিকিউর, পেডিকিউর করালে ভালো ফল পাবেন।

ত্বকের যত্নে প্রথমেই প্রাধান্য দিবেন চোখকে। কথায় আছে, ‘চোখ যে মনের কথা বলে’। চোখের নিচের ত্বকেই বয়সের ছাপ পড়ে আগে।

চোখের যত্ন:

চোখের নিচে নিয়মিত আই ক্রিম লাগান। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে আলু থেঁতো করে, পাতলা কাপড়ে মুড়ে চোখের পাতায় ১৫ মিনিট রাখুন। শসার রস আইস করে রাখুন। বাইরে থেকে ফিরে টিস্যু বা তুলায় মুড়িয়ে চোখের পাতায় রাখুন কিছুক্ষণ। প্রতিদিন ঘুমানোর সময় চোখের চারধারে আমন্ড অয়েল ম্যাসেজ করুন। এতে চোখের আশপাশের চামড়া ভাল থাকবে। ডার্ক সার্কেলও কম হবে।

এবার আসুন জেনে নেই মুখের ত্বকের যত্ন কীভাবে নেবেন:

প্রথমে ক্লিনজিং:

সারাদিনের জমে থাকা ধুলো ময়লা, ঘাম,  তেল রোমকূপে জমে ত্বকের ক্ষতি করে। ত্বক পরিষ্কার না করলে রোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্কিন ড্যামেজ হয়ে পড়ে। তাই স্বাভাবিক, শুষ্ক বা তৈলাক্ত যে ধরনের ত্বকই হোক না কেন ক্লিনজিং অবশ্যই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সাবানের বদলে ক্লিনজিং মিল্ক বা জেল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।

এবার টোনিং:

পরিষ্কার করার পর তুলায় টোনার নিয়ে ভাল করে মুখ মুছে নিন। টোনার ত্বককে টানটান করে।

এরপর ময়শ্চারাইজিং:

তারপর স্কিন টনিক বা ময়শ্চারাইজার লাগান। ময়শ্চারাইজ়ার ত্বক হাইড্রেটেড রাখে, বলিরেখা হতে বাধা দেয়। দিনে তিন থেকে চারবার ময়শ্চারাইজ়ার লাগান। এতে ভালো ফল পাবেন।

স্ক্রাবিং:

সুন্দর, কোমল ত্বক পেতে এক্সফলিয়েশন করাটা খুব জরুরি। এতে মরা কোষগুলো ঝরে গিয়ে ত্বকে নতুন কোষ তৈরি হয়। ত্বক সুন্দর ও সজীব রাখতে সপ্তাহে তিনদিন স্কাবার ব্যবহার করুন। পার্লারে যাওয়ার সময় না পেলে কিংবা রেডিমেড স্ক্রাবার ব্যবহার করতে না চাইলে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন স্ক্রাবার। চালেরগুঁড়ি, দই ও সামান্য মধু মিশিয়ে নিলেই হয়ে যাবে স্ক্রাবার।

সান প্রটেকশন:

বয়সের লক্ষণগুলো বেশিরভাগই দেখা দেয় সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাবে। এই রশ্মি ত্বকের গভীরে গিয়ে ত্বকের ক্ষতি করে এবং ত্বকের টানভাবও ক্রমশ নষ্ট করে দেয়। এতে করে বলিরেখার সমস্যা বেড়ে যায়। তাই রোদে বেরুনোর আধ ঘন্টা আগে  মুখে, গলায় ও ঘাড়ে উচ্চ এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন অবশ্যই লাগাবেন। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিমবেস সানস্ক্রিন আর তৈলাক্ত ত্বকে জেলবেস সানস্ক্রিন।

রাতের যত্ন:

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করে ভালো কোন ব্র্যান্ডের নাইট ক্রিম লাগিয়ে হালকা হাতের সাহায্যে কিছুক্ষণ মাসাজ করুন। এরপর ভিজা তুলা দিয়ে অতিরিক্ত ক্রিম মুছে নিন।

ফেস মাস্ক:

সপ্তাহে একদিন ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক টানটান, নরম ও মসৃণ হবে। কলার সাথে মধু, ডিমের সাদা অংশ ও গ্লিসারিন মিশিয়ে ঘরেই বানিয়ে নিন ফেস মাস্ক। এছাড়া শসা কুচি করে এর সাথে টক দই ও ওটস মিশিয়ে ও ফেস মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মাসে একবার ভাল কোনো পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করিয়ে নিন।

এতো গেলো মুখের যত্ন, এবার আসুন হাত ও পায়ের দিকে নজর দেই:

বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাত পায়ের ত্বকও রুক্ষ হয়ে যায়। গোসলের পর হাতে ও পায়ে ময়শ্চারাইজ়ার লাগান। রাতে ঘুমানোর আগেও ময়শ্চারাইজ়ার লাগিয়ে নিন। গোসলের সময় পামিস স্টোন দিয়ে নিয়মিত পা পরিষ্কার করুন। প্রতি ১৫ দিন পর পর মেনিকিউর ও পেডিকিউর করুন।

লক্ষ্য রাখতে হবে চুলের দিকেও:

ত্রিশের পর চুলও বয়সের কথা জানান দেয়। এই সময় শুধুমাত্র শ্যাম্পু আর কন্ডিশন করাই যথেষ্ট নয়। দরকার অ্যান্টি এইজিং কেয়ার। নিয়মিত হট অয়েল মাসাজ আর কন্ডিশনিং করুন। হেনা ট্রিটমেন্ট করলে ভালো ফল পাবেন।

নিয়মিত যত্ন নিলে দেখবেন ত্রিশের পরেও আপনাকে অনেক সুন্দর দেখাবে।

ইসি/এএসটি

 
.



আলোচিত সংবাদ