যুদ্ধবিরতিতে এরদোগানকে রাজি করাতে তুরস্ক যাচ্ছেন পেন্স-পম্পেও

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

যুদ্ধবিরতিতে এরদোগানকে রাজি করাতে তুরস্ক যাচ্ছেন পেন্স-পম্পেও

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

যুদ্ধবিরতিতে এরদোগানকে রাজি করাতে তুরস্ক যাচ্ছেন পেন্স-পম্পেও

মাইক পেন্স (বামে) ও মাইক পম্পেও

সিরিয়ায় তুরস্কের কুর্দি বিরোধী সামরিক অভিযান বন্ধ করতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে রাজি করাতে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আংকারার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করার পরও মার্কিন সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।

গতকাল (মঙ্গলবার) ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধবিরতিতে তুরস্ককে রাজি করাতে আংকারার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক বাহিনী যে অভিযান চালাচ্ছে তা তার প্রশাসনের সবুজ সঙ্কেতের কারণে নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সময় আবারো বলেন, “আমরা আমাদের ছেলেদেরকে দেশে ফেরত আনতে চাই। ফলে এখন থেকে ওই এলাকার সবাইকে নিজেদের যার যার সহায় সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে এবং আমরা বিষয়টি দেখব যে আসলে সেখানে কি হচ্ছে।”

ট্রাম্প বলেন, “আমরা তুরস্ককে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে জোরালোভাবে চেষ্টা করব কিন্তু তারা যদি যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। আপনারা জানেন, এরই মধ্যে আংকারার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।”

এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে এরদোগান সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, উত্তর সিরিয়ায় তারা কখনো যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবেন না।

অন্যদিকে, লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, তুর্কি সমর্থিত সিরীয় গেরিলাদের হাতে সিরিয়ার সরকারি সেনা নিহত হয়েছে। তবে তুরস্ক বলেছে, সিরিয়ার সেনারা তুরস্কের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য যে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠী এসডিএফকে তুরস্ক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসাবে বিবেচনা করে। এসডিএফ তুরস্কের অভ্যন্তরে তৎপর কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উস্কানি দিচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল আঙ্কারা।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সেনাবাহিনীকে কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর অনুমতি দেওয়ার সময় বলেছিলেন, এই অভিযানের উদ্দেশ্য তুরস্কের দক্ষিণ সীমান্ত হতে সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করা।

সিরিয়ার সামরিক অভিযানের সর্বশেষ অবস্থা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মহল এই অভিযানের বিরোধিতা করেছে। এই অভিযানের ফলে ইউরোপ তুরস্কের কাছে অস্ত্র বিক্রীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

আমেরিকাও তুরস্কের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে তুরস্কের দুটি মন্ত্রণালয় এবং তিনজন শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাকে।

এদিকে, আমেরিকার সৈন্য প্রত্যাহারের পর তুরস্কের হামলায় পর্যুদস্ত হয়ে সিরিয়ার সরকারের সাথে সমঝোতা করেছে কুর্দিরা। ফলে সিরিয়ার সরকার তুরস্কের এ পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে তা মোকাবেলারও ঘোষণা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কুর্দিরা মানবিজ শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সরকারি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহল বলছে, তুরস্কের এই অভিযান অঞ্চলটির সংকটকে বাড়িয়ে তুলবে এবং এই অভিযানের ফলে আইএসের পুনরুত্থানও ঘটতে পারে।

কিন্তু তুরস্ক স্পষ্ট বলেছে, এই অভিযানের উদ্দেশ্য একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রস্তুত করা, যাতে লাখ লাখ সিরিয় শরণার্থীকে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। সিরিয়ার বন্দিশিবির থেকেও কোনো আইএস জঙ্গি পালাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, আমরা এটা নিশ্চিত করব যে, সিরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চল থেকে কোনো আইএস পালাতে পারবে না।

ইতোমধ্যে কুর্দিদের হঠিয়ে সিরিয়ার সীমান্ত শহর রাস আল আইন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তুরস্ক। অভিযানে এ পর্যন্ত ৫৬০ জন কুর্দি গেরিলা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। নিহতেরা কুর্দি গেরিলা গোষ্ঠী পিকেকে, পিওয়াইডি এবং ওয়াইপিজি’র সদস্য বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বুধবার থেকে ‘অপারেশন পিস স্প্রিং’ শুরু করার এক সপ্তাহ পরও কুর্দি বিরোধী এ অভিযান সাফল্যের সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমএফ/

 

ইউরোপ: আরও পড়ুন

আরও