তুরস্ককে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইইউর

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

তুরস্ককে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইইউর

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

তুরস্ককে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইইউর

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ডাস্ক

সিরিয়ায় তুরস্কের অভিযান শুরুর পর আঙ্কারাকে অর্থনৈতিক অবরোধের হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অপরদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানও পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

এরদোগান বলেছেন, আঙ্কারাকে যদি সহযোগিতা করা না হয় তাহলে ৩৬ লাখ সিরিয় শরণার্থীর জন্য ইউরোপে প্রবেশের দরোজা খুলে দেওয়া হবে।  

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন ইইউর কর্মকর্তারা। তারা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তুর্কি প্রেসিডেন্টের হুমকি ন্যায়সঙ্গত নয়।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ডাস্ক এক টুইটে বলেছেন, শরণার্থীদেরকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে এমন ব্ল্যাকমেইল গ্রহণ করা হবে না।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কন্টেও তুর্কি প্রেসিডেন্টের উপর ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ এনেছেন। সেইসাথে তিনি বলেছেন, অবিলম্বে তুরস্কের সামরিক অভিযান বন্ধ করা উচিত।

ফ্রান্স তুরস্কের উপর অর্থনৈতিক অবরোধের প্রস্তাব করেছে। এ ব্যাপারে সুইডেনের পার্লামেন্ট অস্ত্র সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, আঙ্কারাকে আরও বেশি চাপ দিতে আগামী ১৪ তারিখ ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এছাড়া গ্রিস এবং সাইপ্রাসও দক্ষিণ সাইপ্রাসে গ্যাসের ড্রিলিং নিয়ে বিবাদে আঙ্কারাকে অর্থনৈতিক অবরোধে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছে।

এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তুরস্কে সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য প্রায় ৭০০ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। 

এদিকে, গতকাল তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার দাবি করেছেন যে, সিরিয়ায় অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪২ জন কুর্দি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

তবে সিরিয়ার এক পর্যবেক্ষক বলেছেন, এখন পর্যন্ত গত ৪ দিনে মাত্র ৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, উল্লেখ্য যে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠী এসডিএফকে তুরস্ক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসাবে বিবেচনা করে। এসডিএফ তুরস্কের অভ্যন্তরে তৎপর কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উস্কানি দিচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে আঙ্কারা।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সেনাবাহিনীকে কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর অনুমতি দেওয়ার সময় বলেছিলেন, এই অভিযানের উদ্দেশ্য তুরস্কের দক্ষিণ সীমান্ত হতে সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করা।  

সিরিয়ার সামরিক অভিযানের সর্বশেষ অবস্থা অনুযায়ী বেশ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এই অভিযান অঞ্চলটির সংকটকে বাড়িয়ে তুলবে। কিন্তু তুরস্ক স্পষ্ট বলেছে, এই অভিযানের উদ্দেশ্য একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করা, যাতে লাখ লাখ সিরিয় শরণার্থীকে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া যায়।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
সিরিয়ায় তুরস্কের নতুন সামরিক মানচিত্র

 

ইউরোপ: আরও পড়ুন

আরও