রাস্তায় পাওয়া অর্থ ফেরত, পুরস্কার প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশির

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

রাস্তায় পাওয়া অর্থ ফেরত, পুরস্কার প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশির

পরিবর্তন ডেস্ক ১:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

রাস্তায় পাওয়া অর্থ ফেরত, পুরস্কার প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশির

রোমের রাস্তায় ২০০০ ইউরোসহ একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পেয়েছিলেন বাংলাদেশি তরুণ মোসান রাসেল। শুক্রবার ইতালির রাজধানী রোমে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে।

সেটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার পর প্রতিদান হিসেবে তাকে পুরস্কার দেয়ার প্রস্তাবও সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন মোসান। এরপর মোসানকে নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা ইতালির গণমাধ্যমে।

ইতালির লা রিপাবলিকা পত্রিকায় মোসানের সাক্ষাৎকার আর ছবি ছাপা হয়েছে। সেখানে তিনি সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন পুরো ঘটনা।

সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে রোমে আসেন মোসান রাসেল। রোমের রাস্তায় তিনি একটি লেদার সামগ্রীর স্টল চালান।

গত শুক্রবার তিনি রাস্তায় একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। এটি হাতে নিয়ে তিনি দেখতে পান ভেতরে অনেক নোট, ক্রেডিট কার্ড এবং অন্যান্য মূল্যবান কাগজপত্র আছে। এরপর আর কিছু না ভেবেই মানিব্যাগটি নিয়ে তিনি চলে যান নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে। সেখানে মানিব্যাগটি তুলে দেন পুলিশের হাতে।

এরপর পুলিশ মানিব্যাগের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তার কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দেয়।

মালিক মোসান রাসেলের সততার দৃষ্টান্তে অভিভূত হয়ে তাকে পুরস্কার দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সবিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

লা রিপাবলিকা পত্রিকা তার কাছে জানতে চেয়েছিল, প্রথম যখন তিনি মানিব্যাগটি খুঁজে পান, তখন তিনি কি ভেবেছিলেন।

মোসান বলেন, মানিব্যাগের ভেতরটা দেখে তার মনে হয়েছিল, যিনি এগুলো হারিয়েছেন, তিনি নিশ্চয়ই খুবই সমস্যায় আছেন।

‘ভেতরে ছিল কয়েকটি ক্রেডিট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং আরও কিছু কাগজপত্র। আর টাকা তো ছিলই। কত টাকা বলতে পারবো না, কারণ আমি গুণে দেখিনি। আমি সবকিছু পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গেলাম।’

মোসান রাসেল ভালো ইতালিয়ান বলতে পারেন না। কিন্তু তারপরও তিনি তার বক্তব্য পুলিশকে বোঝাতে পারলেন। মানিব্যাগের মধ্যে একতাড়া নোট দেখে পুলিশ অবাক হলো। তখনই তিনি প্রথম জানতে পারেন যে ভেতরে দুই হাজার ইউরো ছিল।

পুলিশ তাকে ধন্যবাদ জানালো মানিব্যাগটি জমা দেয়ার জন্য। জবাবে মোসান বললেন, ‘এটা আমার কর্তব্য। আমি কাজ করি এবং এই মানিব্যাগটি ঘটনাচক্রে খুঁজে পেয়েছি। এটি আমার নয়।’

মোসান জানান, প্রথম জীবনে তাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। দিন-রাত খাটতে হয়েছে। গত দুবছর ধরে তিনি লেদার স্টলটি চালান।

মানিব্যাগটি যার, তার সঙ্গে যখন দেখা হলো, তখন কী ঘটলো? তার কাছে জানতে চেয়েছিল লা রিপাবলিকা।

মোসান জানান, মানিব্যাগটি পুলিশের কাছে দিয়ে তিনি কাজে ফিরে আসেন। কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ তাকে ফোন করে। পুলিশ জানায়, মানিব্যাগের মালিক একজন ব্যবসায়ী। তিনি মোসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান।

‘প্রথমে আমি যেতে চাইনি। কারণ সবাই আমার দিকে মনোযোগ দিক, সেটা আমি চাইনি। তবে শেষপর্যন্ত আমি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। ঐ ভদ্রলোক আমার দেখা পেয়ে আসলেই খুশি হয়েছিলেন। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পেরে খুশি ছিলেন। আমি অবশ্য তাকে বলেছি, এর কোন দরকার ছিল না, আমি এমন ব্যতিক্রমী কিছু করিনি। কিন্তু তিনি আমাকে একটা পুরস্কার দিতে চেয়েছিলেন, আমি যে পুরস্কার চাই, সেটাই দিতে চেয়েছিলেন।’

কেন তিনি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন- জানতে চাইলে মোসান বলেন, ‘কারণ এটা কোন সন্মানের ব্যাপার হতো না। আমি বরং তাকে আমার স্টলে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমি খুশি হবো যদি উনি আমার দোকানের কাস্টমার হন।’

‘আমি যে মানিব্যাগটি খুঁজে পেয়েছিলাম, সেটা ঘটনাচক্রে। এটার জন্য আমাকে পুরস্কার দেয়া ঠিক নয়।’

এসবি

 

ইউরোপ: আরও পড়ুন

আরও