৮ নারী নিয়ে বরিসের ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

৮ নারী নিয়ে বরিসের ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০১৯

৮ নারী নিয়ে বরিসের ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বিবৃতিতে বরিস জনসন যুক্তরাজ্যে ‘নতুন স্বর্ণযুগ’ শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্যদের তিনি জানান, ব্রেক্সিট আলোচনায় তার সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাইকেল গোভ ব্রেক্সিট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে সবচেয়ে প্রাধান্য দিয়ে একটি পরিকল্পনা করবেন।

একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের আশস্ত করেন, যুক্তরাজ্যে তাদের ‘পরম নিশ্চিন্তে’ বসবাসের অধিকার রয়েছে।

তবে বরিস জনসনের এ বক্তব্যের পর বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ‘নতুন প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তাতে দেশবাসী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

তিনি এও বলেন, ‘দেশ শাসনের ক্ষেত্রে বরিস কঠোরতা উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছেন।’

এর আগে একই দিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে গেল।’ তিনি অঙ্গীকার করেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই কোনো ধরনের যদি কিন্তু ছাড়া ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সদস্যদের ভোটাভুটিতে ব্রিটেনের কনজারভেটিভ দলের নতুন নেতা ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বরিস জনসন।

ভোটাভুটিতে জেরেমি হান্টকে বরিস পরাজিত করেন। তিনি পান ৯২ হাজার ১৫৩ ভোট। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী হান্ট পান ৪৬ হাজার ৬৫৬ ভোট।

ব্রিটেনের কনজারভেটিভ দলের প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্য এই ভোটাভুটিতে অংশ নেয়ার যোগ্য ছিলেন। এদের মধ্যে ৮৭.৪ শতাংশ ভোট দেন।

এরপর বুধবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন বরিস জনসন। মে’র চেয়ে দুটি বেশি নিয়ে ৩১ সদস্যের মন্ত্রিসভা ঢেলে সাজান, যেখানে ৮ নারীকে আনা হয়।

মে’র মন্ত্রিসভায় ব্রেক্সিট সমর্থক ছিলেন মাত্র ৬ জন। কিন্তু, বরিসের হলো ১২ জন।

নতুন মন্ত্রিসভায় সাজিদ জাভিদকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ডমিনিক রাব ও প্রীতি প্যাটেলকে মন্ত্রিসভায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে যথাক্রমে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে।

চ্যান্সেলর অব দ্য ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টারের পাশাপাশি ‘চুক্তি ছাড়াই’ ব্রেক্সিট সম্পাদনের পরিকল্পনা সামলাতে হবে মাইকেল গোভকে।

বেন ওয়ালেস পেয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়; শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এসেছেন যথাক্রমে গেভিন উইলিয়ামসন ও নিকি মরগান।

আন্দ্রিয়া লিডসমকে দেয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দায়িত্ব গেছে লিজ ট্রুসের হাতে।

কমন্সের লিডার করা হয়েছে টোরিদের ব্রেক্সিটপন্থী ইউরোপিয়ান রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) নেতা জ্যাকব রিস মগকে।

আর মে’র মন্ত্রিসভার স্টিফেন বার্কলে, ম্যাট হ্যানকক ও অ্যাম্বার রুডকে আগের পদেই বহাল রাখা হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় আগের মন্ত্রিসভার ১৭ জনের স্থান হয়নি। নেতৃত্ব দৌড়ে জনসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জেরেমি হান্ট জানান, তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দিতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।

তার পাশাপাশি শীর্ষ ব্রেক্সিটপন্থী হিসেবে পরিচিত পেনি মরডন্ট ও লিয়াম ফক্সকেও প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

আইএম

 

ইউরোপ: আরও পড়ুন

আরও