আরবি ভাষার প্রথম লেখক হিসেবে ম্যান বুকার পেলেন জোখা

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

আরবি ভাষার প্রথম লেখক হিসেবে ম্যান বুকার পেলেন জোখা

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৯

আরবি ভাষার প্রথম লেখক হিসেবে ম্যান বুকার পেলেন জোখা

প্রথম আরবি লেখক হিসেবে ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হলেন ওমানের লেখিকা জোখা আলহার্থি। তার উপন্যাস ‘সেলেস্টিয়াল বডিজ'-এর জন্য এই পুরস্কার পেলেন তিনি।

জোখার জন্মভূমি ওমানের উত্তর-ঔপনিবেশিক পরিবর্তনই ওই উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

মঙ্গলবার লন্ডনের রাউন্ড হাউসে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পরে ৪০ বছর বয়সী লেখিকা সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি রোমাঞ্চিত যে উন্নত আরব সংস্কৃতির দিকে একটি জানালা খুলে গেল।'

জোখা আলহার্থি এযাবৎ দু'টি ছোটগল্প সংকলন, একটি ছোটদের বই ও তিনটি উপন্যাস লিখেছেন। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধ্রুপদী আরবি কবিতা নিয়ে শিক্ষালাভ করে এই মুহূর্তে মাসকাটে সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।

৫০০০০ পাউন্ড মূল্যের পুরস্কার দুনিয়াব্যাপী অনুবাদিত সাহিত্যকে দেওয়া হয়। জোখার উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্লিন বুথ। তিনি ও জোখা দু'জনে পুরস্কারটি সমমূল্যে ভাগ করে নেবেন।

‘সেলেস্টিয়াল বডিজ' বইটি নিয়ে জোখা জানিয়েছেন, ‘ওমান আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক পাঠকেরা এই বইয়ের মানবিক মূল্যবোধ — স্বাধীনতা ও ভালোবাসার সঙ্গে সহমর্মিতা অনুভব করবেন।'

বিচারকদের মতে বইটি, ‘উন্নত কল্পনাসম্পন্ন, আকর্ষণীয় এবং পরিবর্তনশীল ও এতদিন অজ্ঞাত হয়ে থাকা এক সমাজকে কাব্যিক অন্তর্দৃষ্টিতে দেখে লেখা।'

উপন্যাসের পটভূমি ওমানের আল-আওয়াফি নামের এক গ্রাম। সেখানে বাস করে তিন বোন— মায়া, আসমা ও খাওলা। মায়া একবার প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আবদাল্লাকে বিয়ে করেছে, আসমা বিয়ে করছে দায়িত্ববোধের কারণে এবং খাওলা অপেক্ষারত তার প্রেমিকের জন্য যে কানাডায় চলে গিয়েছে। এই তিন বোন দেখেছে কীভাবে ওমান এতদিনের ক্রীতদাস প্রথা অধ্যুষিত সমাজ থেকে বদলাতে শুরু করেছে।

আলহার্থি জানিয়েছেন, ‘দাসত্বের মতো বিষয়কে এই লেখা ছুঁয়েছে। আমার মনে হয়, সাহিত্য এই বিষয়ে কথা বলার সেরা মঞ্চ।'

জুরিরা জানাচ্ছেন, ‘বইটি টানটান ও সুশৃঙ্খল কাঠামোয় গড়া। বইটিতে একটি পরিবারের বিচ্ছেদ ও ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে ওমানের পরিবর্তিত দিনের কথা বলা হয়েছে।'

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, বইটি এমন এক সংস্কৃতির ভিতরে উঁকি দিয়েছে যা পশ্চিমের কাছে অপেক্ষাকৃত অচেনা। দ্য ন্যাশনাল পত্রিকা বইটি সম্পর্কে জানায়, একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য প্রতিভার উঠে আসার ইঙ্গিতবাহী এই বই। তারা বইটিকে ঘন ও তীব্র কল্পনাশক্তির ফসল হিসেবে অভিহিত করে।

মুখ্য জুরি বেটানি হিউজেস জানাচ্ছেন, ‘এই উপন্যাস সূক্ষ্ম শিল্প এবং আমাদের ইতিহাসের অস্বস্তিকর পরিপ্রেক্ষিতকে তুলে ধরেছেন।' তিনি আরও বলেন, ‘লেখার স্টাইলটি আসলে রূপক, যা সূক্ষ্ম ভাবে দাসত্ব, লিঙ্গভেদ ও সমাজের সব ক্লিশের বিরুদ্ধে কথা বলেছে।'

আলহার্থি আরও পাঁচজন মনোনীত লেখককে হারিয়ে এই পুরস্কার পেলেন।

এমআর/এএসটি

 

ইউরোপ: আরও পড়ুন

আরও