পুতিন-এমবিএস-ট্রাম্পকে টেক্কা দিয়ে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ ডেনমার্কের ব্যাংক

ঢাকা, সোমবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | ৮ মাঘ ১৪২৫

পুতিন-এমবিএস-ট্রাম্পকে টেক্কা দিয়ে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ ডেনমার্কের ব্যাংক

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:২৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০২, ২০১৯

পুতিন-এমবিএস-ট্রাম্পকে টেক্কা দিয়ে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ ডেনমার্কের ব্যাংক

২৩০ বিলিয়ন ইউরো মানি লন্ডারিং কেলেঙ্কারির কারণে ওসিসিআরপির ‘করাপ্ট অ্যাক্টর অফ দ্য ইয়ার’ বা বছরের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের খেতাব পেয়েছে ডেনমার্কের দানস্কে ব্যাংক। আরও ২২টি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে পেছনে ফেলে তারাই প্রথম হয় বলে জানানো হয়েছে অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট বা ওসিসিআরপির ওয়েবসাইটে।

গত সাত বছর ধরে অলাভজনক এই সংবাদ প্রতিষ্ঠানটি সঙ্ঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংঘটনে সবচেয়ে অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে স্পটলাইটে নিয়ে আসে।

‘দানেস্কে ব্যাংক এই পুরস্কারের যোগ্য। এটা আন্তর্জাতিক দুর্নীতি ও অপরাধ সংঘটনে সক্ষম করে তুলতে অপরাধমূলক সেবা শিল্পের অবদানকে স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলেছে,’ মন্তব্য করেন ওসিসিআরপির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক ড্রিউ সালিভান।
অপরাধমূলক সেবা বা ‘ক্রিমিনাল সার্ভিসেস’ দিয়ে ব্যাংক, ল ফার্ম, রেজিস্ট্রেশন এজেন্ট, একাউন্টেন্ট, ও অন্যান্যদের বুঝান হয় যারা অপরাধী ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সম্পদ লুকাতে এবং তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রমকে বৈধ করতে সাহায্য করে।

‘গত ২০ বছর ধরে তারা অপরাধ ও স্বৈরতন্ত্রকে বৈশ্বিক রূপ দিয়েছে। মেক্সিকোর মাদক সম্রাট থেকে শুরু করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সন্ত্রাসী, স্বৈরশাসক এবং প্রায় সব ধরনের আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিকারক জিনিসকে সাহায্য করেছে তারা,’ বলেন ড্রিউ সালিভান।

সাংবাদিক ও জনগণ এই পুরস্কারের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করেন। তার মধ্য থেকে নয়জন বিচারক দানেস্কে ব্যাংককে নির্বাচিত করেন।

সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ফাইনালিস্টদের মধ্যে ছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন, হাঙ্গেরিয়ান প্রেসিডেন্ট ভিক্টর অর্বান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত এক দশকে দানেস্কের এস্তোনিয়া শাখা মানি লন্ডারিংয়ে যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য এ বছর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খেতাব পেল তারা।

ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারির যে বর্ণনা দিয়েছে তাতে ৩২টি দেশের মুদ্রা, সাইপ্রাসের প্রতিষ্ঠান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড এবং সেইশেলজ জড়িত।

তাদের একটি অপারেশনে আজারবাইজান থেকে দানেস্কের এস্তোনিয়া শাখার মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এমনকি ইউরোপের রাজনীতিবিদদের কাছে পৌঁছে যায়। আজারবাইজানের সরকার ক্রমাগত মানবাধিকার ভঙ্গ করে চললেও এসব রাজনীতিবিদরা দেশটির শাসকের উচ্চ প্রশংসা করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয় সিসিআরপির প্রতিবেদনে।

‘আজারবাইজানের দানেস্কে ব্যাংক ছিল ঘুষ পৌঁছে দেয়ার পাইপ, এবং চুরি করা পণ্য রাখার জায়গা। বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণ ও দুর্নীতিগ্রস্ত একটি সরকার কর্তৃক জাতীয় সম্পদ চুরির সহযোগী তারা,’ বলেন পল রাদু, ওসিসিপির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং বিচারক।

‘দুর্নীতিবাজ অএলেয়েভ পরিবার এদের সহায়তা ছাড়া এটা করতে পারতো না,’ যোগ করেন তিনি।

নভেম্বর মাসে ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় আইনজীবী ব্যাংকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি এস্তোনিয়ায় ব্যবসা করার সময় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্যর্থ হয়েছে এবং ডেনমার্কের মানি লন্ডারিং আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টও ব্যাংকটির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ পত্রিকা। ব্যাংকটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অবৈধ অর্থায়নের কেন্দ্রীয় পন্থা হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানায় পত্রিকাটি। প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানায় ব্লুমবার্গ।

আরপি/এএসটি