পুতিনের ‘অপরাজেয়’ পাল্টে দিচ্ছে সামরিক ভারসাম্য!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯ | ১২ চৈত্র ১৪২৫

পুতিনের ‘অপরাজেয়’ পাল্টে দিচ্ছে সামরিক ভারসাম্য!

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৫১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮

পুতিনের ‘অপরাজেয়’ পাল্টে দিচ্ছে সামরিক ভারসাম্য!

একেবারে নতুন ধরনের এক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ভাবন করেছে রাশিয়া, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সামরিক শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়ার এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের নাম আভনগার্ড হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। ‘অপরাজেয়’ বলে পরিচিত এটি চলে শব্দের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি গতিতে।

রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এটি বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে গিয়ে হামলা করতে সক্ষম এবং একে ঠেকানোর মতো প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত কারও হাতে নেই।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, গত বুধবার রাশিয়া এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে পরীক্ষামূলকভাবে। রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বের উরাল পর্বতমালা থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়, এরপর এটি গিয়ে আঘাত করে ছয় হাজার কিলোমিটার দূরে দূরপ্রাচ্যের কানচাকায়।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আভনগার্ড হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণকে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং দেশের জন্য এক বিরাট ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পুরোপুরি সফল হয়েছে। এটির যে কারিগরি এবং কৌশলগত সব বৈশিষ্ট্য- তার সবই এই পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে।

রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইউরি বরিসভ দাবি করেছেন, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩৩ হাজার ২০২ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার।

ব্রিটিশ-আমেরিকান সিকিউরিটি ইনফরমেশন কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পল ইংগ্রাম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেছেন ব্যালিস্টিক মিসাইলের সঙ্গে হাইপারসনিক মিসাইলের পার্থক্য।

এখন যে ধরনের ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রচলিত, সেগুলো ছোঁড়া হয় রকেটের মতো। ফলে একবার উৎক্ষেপণ করার পর এর ট্র্যাজেক্টরি বা সম্ভাব্য গতিপথ মোটামুটি অনুমান করা যায়।

শত্রুপক্ষ তখন সে অনুযায়ী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু, হাইপারসনিক মিসাইলের প্রযুক্তি একেবারেই ভিন্ন ধরনের। এটি উৎক্ষেপণের পর খুব দ্রুত উপরে উঠে যায়। তারপর আবার দ্রুত নেমে আসে। এরপর আনুভূমিকভাবে এটি বায়ুমণ্ডলের মধ্যেই চলতে থাকে। চলমান অবস্থাতেও এর গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। তার মানে হচ্ছে, এটি কোনো দিকে যাবে আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়। ফলে এটি মাঝপথে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।

প্রেসিডেন্ট পুতিন এই সফল পরীক্ষার পর এতটাই উচ্ছ্বসিত যে, তিনি রুশ ব্যবসায়ীদের নাকি বলেছেন, এখন আর রাশিয়াকে হুমকি দেয়ার মতো কোনো শক্তি বিশ্বে নেই।

আসলেই কি রুশ-মার্কিন অস্ত্র প্রতিযোগিতায় রাশিয়া অনেক বেশি এগিয়ে গেল?

ব্রিটিশ আমেরিকান সিকিউরিটি ইনফরমেশন কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পল ইংগ্রাম বলছেন, রাশিয়ার দাবি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখন পুরোপুরি সেকেলে অস্ত্রে পরিণত হলো।

রাশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনও এই হাইপারসনিক প্রযুক্তি অর্জনের চেষ্টা করছিল। তারা এক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়েছে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত মোতায়েনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ তারা করতে পারেনি।

পল ইংগ্রাম বলেন, রাশিয়ার হাতে এ রকম ক্ষেপণাস্ত্র থাকার মানে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে গেল। কারণ, তারা এতদিন পর্যন্ত ব্যালেস্টিক মিসাইলের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ব্যালেস্টিক মিসাইল ঠেকানোর জন্যই তাদের পুরো ডিফেন্স সিস্টেম গড়ে তুলেছে। তাদের সেই প্রযুক্তি দিয়ে রাশিয়ার এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো যাবে না। এর মানে হচ্ছে, রাশিয়া এখন স্বস্তিতে থাকতে পারবে এই ভেবে যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র থামানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

আগামী বছর থেকে রাশিয়া এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সফল হওয়ার পরপরই একথা জানিয়েছেন।

যেদিন এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়, সেদিন তিনি মস্কোর ন্যাশনাল ডিফেন্স সেন্টার পরিদর্শন করেন।

এর আগে এ বছরেরই মার্চে প্রেসিডেন্ট পুতিন তাদের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কথা জানিয়েছিলেন।

তিনি যে রাশিয়াকে বিশ্বের এক নম্বর সামরিক শক্তিতে পরিণত করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছেন, তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্চে দেয়া এক ঘোষণায়।

যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের সময় যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে ভূমি থেকে নিক্ষেপণযোগ্য মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্র এখন এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে, রাশিয়াও নতুন করে মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

এমআর/আইএম