শ্রেণিবিভাজনে বিশ্বাস করি না: টাইম ম্যাগাজিনের তালিকা প্রসঙ্গে মালালা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯ | ১২ চৈত্র ১৪২৫

শ্রেণিবিভাজনে বিশ্বাস করি না: টাইম ম্যাগাজিনের তালিকা প্রসঙ্গে মালালা

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৩৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮

শ্রেণিবিভাজনে বিশ্বাস করি না: টাইম ম্যাগাজিনের তালিকা প্রসঙ্গে মালালা

প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় ২০১৩ সালে জায়গা করে নিয়েছিলেন মালালা ইউসুফজাই। কিন্তু তার বাবা যখন তাকে প্রথম এই খবর দেন তখন মালালার প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘আমি এমনভাবে মানুষের শ্রেণীবিভাগ করায় বিশ্বাস করি না।’

মালালার বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই এই কৌতূহলোদ্দীপক তথ্যটি দিয়েছেন তার নতুন বই ‘লেট হার ফ্লাই: এ ফাদার’স জার্নি অ্যান্ড দ্য ফাইট ফর ইকুয়ালিটি’তে।

মালালাকে জায়গা দেয়া হয়েছিল টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে এবং এবং বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় অবস্থান ছিল ১৫-তে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ছিলেন ওই তালিকার ৫১তম স্থানে।

ব্রিটেনে জিয়াউদ্দিনকে ওই ম্যাগাজিন প্রথম দেখান একজন ক্যাব ড্রাইভার, পরে তিনি সেটি দেখান মালালাকে।

‘মালালা হাসপাতালে থাকার সময় আমাদেরকে সেখানে আনা-নেয়া করতে একজন ড্রাইভারের প্রয়োজন ছিল। আমাদের ড্রাইভার জানান শহীদ হোসেন, পরে আমাদের বন্ধু হয়ে ওঠেন। তিনি একদিন আমাকে ২০১৩ সালের টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকার খবরটা দেন।

হোসেন জিয়াউদ্দিনকে তার মোবাইল ফোনটা দিয়ে অনুরোধ করেন তিনি যেন মালালাকে রিপোর্টটা দেখান, যাতে সে খুশি হয়, বলেন জিয়াউদ্দিন।
জিয়াউদ্দিন ওই ফোন নিয়ে মালালাকে দেন।

‘আমি খুবই গর্বিত ছিলাম স্ক্রিনের ছবিটা নিয়ে। ও ফোনটা আমার কাছ থেকে নিয়ে পড়ল, তারপর রেখে দিল। তারপর বলল, ‘আমি মানুষকে এমনভাবে শ্রেণিবিভাগ করায় বিশ্বাস করি না’ বইয়ে জানান জিয়াউদ্দিন।

জিয়াউদ্দিন ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পুরুষশাসিত সমাজে প্রথমে মালালা ও পরে সব মেয়ের সমান অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন।

পাকিস্তানে বেড়ে ওঠার সময় তাকে ছোটবেলা থেকে ধারনা দেয়া হয়েছিল, তিনি জন্মগত ভাবেই তার বোনদের তুলনায় উন্নত। কিন্তু তিনি এটা বদলানোর চেষ্টা করেন এবং মালালা হওয়ার পর স্থির করেন অবশ্যই তার মেয়ের শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন।

২০১২ সালে তালেবানদের প্রতিরোধ সত্ত্বেও মালালা তার বাবার স্কুলে যাওয়া চালিয়ে যেতে থাকেন। এবং এটি করতে গিয়েই তালেবানদের হামলার শিকার হন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে মালালার সংগ্রামের কথা ব্যাপক প্রচার পায়। ২০১৪ সালে সর্বকনিষ্ঠ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজেতার সম্মানে ভূষিত হন তিনি।

এমআর/এএসটি