স্বাধীনতাকামী আলজেরীয়দের গুম-খুনের দায় স্বীকার ফ্রান্সের

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

স্বাধীনতাকামী আলজেরীয়দের গুম-খুনের দায় স্বীকার ফ্রান্সের

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

স্বাধীনতাকামী আলজেরীয়দের গুম-খুনের দায় স্বীকার ফ্রান্সের

আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৫০-এর দশকে পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতন চালানোর দায় প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ফ্রান্স।

বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেন, ১৯৫৭ সালে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া স্বাধীনতাকামী কমিউনিস্ট মরিস অডিন ফ্রান্সের তৈরি করা ব্যবস্থায় নির্যাতনের ফলে ফলে মারা যান। আলজেরিয়া সে সময় ফ্রান্সের কলোনি ছিল।

বৃহস্পতিবার অডিনের বিধবা স্ত্রীর সঙ্গে ম্যাক্রন দেখা করে জানান, তিনি ফ্রান্স ও আলজেরিয়ার নিখোঁজ বেসামরিক মানুষ ও সৈন্যদের বিষয়ে একটি আর্কাইভ উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন।

১৯৫৪-৬২ সালের যুদ্ধে আলজেরিয়ার ১৫ লাখ মানুষ নিহত হন। ১৩০ বছর ফ্রান্সের উপনিবেশ হিসেবে আলজেরিয়া শাসন করে প্যারিস। এরপর সেখানকার মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে নামলে আলজেরিয়ার স্বাধীনতাকামীদের দমন শুরু করে ফ্রান্স।

অডিনের স্ত্রীকে ম্যাক্রন বলেন, ‘আমি কেবল সত্যটা স্বীকার করছি।’

বিধবা জোসেট অডিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই দিনটি আসবে আমি কখনই ভাবিনি।’

২০০৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফরাসি নেতা বিভিন্ন সময়ে আলজেরিয়ার মানুষদের নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন। পরে আবার সেসব বিবৃতি আংশিক বদলেও দেন তারা।

ম্যাক্রনই প্রথম আলজেরীয় বন্দীদের নির্যাতনের দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করলেন।

আলজেরিয়ার মুক্তিযুদ্ধের সময় ফ্রান্স সংবাদপত্র, বই ও সিনেমায় নির্যাতনের খবর বা তথ্য থাকলে তা সেন্সর করে দিতো।

আলজেরিয়ার যুদ্ধের পর জন্ম নেয়া প্রথম প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন। তিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি আজেরিয়ায় ফ্রান্সের ফ্রান্সের উপনিবেশ প্রতিষ্ঠাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

২৫ বছর বয়সী অডিন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। স্বাধীনতাকামী কমিউনিস্টদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতারের ১০ দিন ফরাসি কর্তৃপক্ষ তার স্ত্রীকে জানায়, এক জেল থেকে আরেক জেলে স্থানান্তরের সময় তিনি পালিয়ে গেছেন।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, তিন সন্তানের বাবা অডিনকে আলজিয়ার্সের একটি বাড়িতে বারবার নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছিল।

২০১৪ সালে ম্যাক্রনের আগের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়াঁ ওলাদ প্রথমবার জানান, অডিন পালাননি, বন্দি অবস্থায় মারা যান।

২০১৪ সালে প্রকাশিত সাংবাদিক জাঁ-চার্লস দুনিঅ’র বইতে দাবি করা হয়, জেনারেল জ্যাক মাসুর নির্দেশে আরেক ফরাসি অফিসার অডিনকে হত্যা করে।

এমআর/এমএসআই