হ্যান্ডশেক না করায় সুইস নাগরিকত্ব পেলেন না মুসলিম দম্পতি

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

হ্যান্ডশেক না করায় সুইস নাগরিকত্ব পেলেন না মুসলিম দম্পতি

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৮

হ্যান্ডশেক না করায় সুইস নাগরিকত্ব পেলেন না মুসলিম দম্পতি

সাক্ষাৎকারের সময় বিপরীত লিঙ্গের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করায় মুসলিম এক দম্পতিকে সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, শুক্রবার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। লিঙ্গ সমতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে না পারায় ওই দম্পতিকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি বলে জানায় তারা।

কয়েক মাস আগে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় ওই দম্পতি বিপরীত লিঙ্গের প্রশ্নকর্তাদের জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে ইতস্তত বোধ করেন।

কয়েকদিন আগে সুইডেনে একজন মুসলিম নারী হাত মেলাতে না চাওয়ায় তার চাকরির সাক্ষাৎকার নেয়া বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ওই নারীকে এই ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।

সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেউ তাদের দেশের নাগরিক হতে চাইলে তাকে অবশ্যই সেখানকার সমাজের রীতিনীতি আত্মস্থ করতে হবে এবং সুইজারল্যান্ড, এর প্রতিষ্ঠান ও সুইস আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

কর্তৃপক্ষ ওই দম্পতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে স্থানীয় মিডিয়া জানায় উত্তর আফ্রিকার নাগরিক ওই দম্পতি লোজান শহরে নাগরিকত্ব লাভের আবেদন জানায়।

লোজানের মেয়র গ্রেগোয়ার জুনো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, স্থানীয় আইনে ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু ধর্মীয় আচরণ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

কর্তৃপক্ষ ওই দম্পতিকে তাদের ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন না করা সত্ত্বেও তাদের ধর্ম কী সেটা পরিষ্কার বলে মন্তব্য করা হয় স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলছেন, ধর্মের কারণে তাদের নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়নি, বরং লিঙ্গ সমতার প্রতি সম্মান না দেখানোয় তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ডেরই একটি স্কুলে দুই মুসলিম বালক শিক্ষিকাদের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করায় তাদেরকে শিক্ষক ও শিক্ষিকা উভয়ের সঙ্গেই হাত মেলানোর বাধ্যবাধকতা থেকে রেহাই দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওই সংবাদে হইচই শুরু হলে ওই ছেলেদের পরিবারকে নাগরিকত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেশি দেশ ফ্রান্সেও এক পুরুষ কর্মকর্তার সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করায় আলজেরিয়ার এক নারীকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি।

এমআর/এএসটি