প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্যে ব্রিটেন সফরে সৌদি যুবরাজ

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্যে ব্রিটেন সফরে সৌদি যুবরাজ

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৭, ২০১৮

প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্যে ব্রিটেন সফরে সৌদি যুবরাজ

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বুধবার যুক্তরাজ্য সফর শুরু করেছেন। যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল ও রাজপরিবার তাকে সেখানে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সেখানকার বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে সৌদিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, বুধবার বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর অফিসের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনা করেছে।

সফরকালে সৌদি যুবরাজ বৃহস্পতিবার মে’র বাসভবনে যাবেন আলোচনার জন্য। এরপর ব্রিটেনের রানির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ও যুবরাজ চার্লস ও যুবরাজ উইলিয়ামের সঙ্গে নৈশভোজে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে যুবরাজ বিন সালমানের।

ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ইতিমধ্যেই ৩২ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজের জাতীয় পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর প্রশংসা করেছেন। ওই পরিকল্পনায় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির আধুনিকায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে পত্রিকায় একটি কলাম লিখে জনসন জানান, সৌদি যুবরাজের এই পরিকল্পনায় ব্রিটেনের সহায়তা করা উচিত।

সৌদি আরবে সালমান ইতিমধ্যেই মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমোদন ও সিনেমা প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়াসহ বিভিন্ন সমাজ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সৌদি আরবে এখনো মানবাধিকারের অবস্থা খারাপ। তারা সৌদিতে এসব সংস্কারসাধন নিয়ে আশাবাদী হওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

মঙ্গলবার ব্রিটেনের প্রধান বিরোধী দলের নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, মে’র সালমানকে বলা উচিত যে, ইয়েমেনে সৌদি বোমা হামলা চালাতে থাকলে রিয়াদে আর অস্ত্র সরবরাহ করা হবে না।

সৌদি আরবে ব্যাপকভাবে মানুষের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করার বিরুদ্ধে ব্রিটেনের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রিন পার্টির সাবেক নেত্রী ক্যারোলিন লুকাস টুইট করেন, ‘আমাদের কি এখনো স্বৈরাচার ও একনায়কদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া বন্ধ করার সময় হয়নি?’

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর অফিস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজের সঙ্গে সন্ত্রাস, চরমপন্থা, যুদ্ধ ও মানবতার সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইরাক ও সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।

সৌদি আরবের নেতৃত্বে ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করার পর থেকে আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটিতে বিপর্যয় নেমে আসে। সেখানে চরম মানবিক সংকট দেখা দেয়। দেশটিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

সৌদি আরবে অস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে ব্রিটেনের অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যতম। ব্রিটেনের সরকার গত তিন বছরে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের রফতানি লাইসেন্স অনুমোদন করেছে।

আন্দোলন কর্মীরা মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘ইয়েমেন যুদ্ধের প্রধান নকশাকারী’ হিসেবে অভিহিত করছে। ওই যুদ্ধের ফলে বিশ্বের ভয়াবহতম ‘মানবতার সংকট’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করে জাতিসংঘ।

অস্ত্র বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সংগঠন ক্যাম্পেইন এগেইন্সট আর্মস ট্রেডের (সিএএটি) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য সৌদি আরবে ৬.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র রফতানির অনুমোদন দিয়েছে।

সিএএটির প্রধান অ্যান্ড্রু স্মিথ আলজাজিরাকে বলেন, ‘সৌদি যুবরাজ তার নিজের দেশের মানুষের নির্মম নিপীড়ন উপেক্ষা করার সাথে সাথে ইয়েমেনের মানুষের উপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে তাও উপেক্ষা করেছেন। উদার ও সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি আসলে মানবাধিকারের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ এমন একটি দেশের নেতা।’

ব্রিটেন সৌদি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন স্মিথ।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য এসব নির্যাতনে সম্পূর্ণ সহায়তা করেছে। তারা সৌদি সামরিক সরকারকে বছরের পর বছর সমর্থন দিয়ে গেছে। ইয়েমেনে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য যুদ্ধ বিমান ও বোমা দিয়ে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে তারা। তার শাসনের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে ডাউনিং স্ট্রিট (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিস)-এর সামনে যুবরাজের ছবি বিশ্বব্যাপী প্রচার করা হবে। মে একজন একনায়কের হাতে একটি দারুন প্রোপাগান্ডার হাতিয়ার তুলে দিচ্ছেন।’

ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকা সোমবার একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সালমানের সফরকালে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি চুক্তি করবে। কূটনৈতিকরা বলছেন, এসব চুক্তির মূল্যমান প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।

সালমানের আগমনকে স্বাগত ও প্রত্যাখ্যান করে লন্ডনে বিভিন্ন রকম প্রচারনা চালিয়েছে বিভিন্ন দল।

আন্দোলনকারীরা সেখানে ‘মোহাম্মদ বিন সালমানকে স্বাগত জানানো যুক্তরাজ্যের উচিত নয়’ লেখা ভ্যান নিয়ে লন্ডনের রাস্তা প্রদক্ষিন করেছে। আবার ‘সৌদি যুবরাজকে স্বাগতম লেখা’ ভ্যানের ছবিও দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে।

এমআর/এমএসআই