সুটকেসে শিশুপুত্রকে স্পেনে আনার গল্প, বাবার বিচার শুরু

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

সুটকেসে শিশুপুত্রকে স্পেনে আনার গল্প, বাবার বিচার শুরু

মোহাম্মদ মামুনূর রশিদ ৫:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮

সুটকেসে শিশুপুত্রকে স্পেনে আনার গল্প, বাবার বিচার শুরু

বছর খানেক আগে একটি হৃদয়বিদারক ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে পড়েছিল। এক্সরে স্ক্যানারের ছবিটিতে দেখা যায়, সুটকেসের ভিতর একটি শিশু গর্ভের শিশুর মতো গুটিসুটি মেরে রয়েছে। আইভরি কোস্টের শিশুটিকে এভাবে স্পেনে পাচার করার সময় সুটকেসটি বর্ডারে পায় পুলিশ।

সুটকেস থেকে বের করার পর শিশুটি ফরাসি ভাষায় পুলিশকে বলে, 'আমার নাম আদু।'

পরে, স্পেনের সাংবাদিক নিকোলাস ক্যাস্টেল্যানো ঘটনাটি নিয়ে একটি বই লেখেন।

২০১৫ সালের মে মাসে স্পেনের পুলিশ সিউটার বর্ডারে মরক্কোর একজন অল্পবয়সী মহিলাকে খুব ভারি একটা সুটকেস টেনে নিয়ে যেতে দেখে।

সুটকেসটি এক্সরে মেশিনে পরীক্ষা করলে তার ভিতর একটি বাচ্চাকে গর্ভস্থ শিশুর মতো শুয়ে থাকতে দেখে চমকে ওঠেন তারা।

ওইভাবে সুটকেসে করে সিউটা হয়ে স্পেনে ঢোকার চেষ্টা হয়ত সেটিই প্রথম ছিল। কিন্তু এর তিন মাস পরে মরক্কোর ২৭ বছর বয়সী এক নাগরিক সুটকেসে করে স্পেনে ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে মারা যান।

আদুকে অল্প সময়ের মধ্যেই তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

 

সীমান্তের অন্য পারে, স্পেনে ছেলের অপেক্ষায় থাকা আউটারাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি বলেন মানব পাচারকারীরা তাকে মিথ্যে কথা বলে তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার ইউরো নিয়েছিল। তারা তাকে বলেনি স্পেনে নিয়ে আসার সময় তার ছেলেকে সুটকেসে ভরে রাখা হবে।

প্রথমে মানব পাচারকারীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আদুকে আইভরি কোস্টের আবিদজান শহর থেকে বিমানে মাদ্রিদে নিয়ে আসা হবে। কিন্তু পরে তারা জানায় আদুকে গাড়িতে করে সিউটার ভিতর দিয়ে স্পেনে নেয়া হবে।

আউটারা বলেন, 'আমাদের জন্য বাচ্চাটার আসা খুব দরকার ছিল। আমরা ওকে ছাড়া থাকতে পারছিলাম না। ওর কথা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছিলাম না।'

আবিদজানের দর্শন ও ফরাসি ভাষার শিক্ষক আউটারা  ২০০৬ সালে বিপদজনক এক যাত্রায় নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করেন। পরে তিনি ক্যানারি আইল্যান্ডে একটা কাজে যোগ দেন। একটি বাড়িরও মালিক হন।

একসময় আউটারা তার স্ত্রী ও কন্যাকে বৈধভাবে নিয়ে আসেন স্পেনে। কিন্তু তার ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি স্পেনের কর্তৃপক্ষ। তারা চার বার আদুকে স্পেনে নিয়ে আসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

আউটারার স্ত্রী, কন্যা ও আদু এখন ফ্রান্সে বসবাস করছে। আউটারা স্পেনেই বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

মঙ্গলবার সিউটায় শিশুটির বাবা আলি আউটারা বিচার শুরু হয়েছে। মরক্কোর অবস্থিত এই স্পেনের এই স্বাধীন শহরটিতে আফ্রিকা থেকে শরণার্থীরা প্রায়ই উঁচু বেড়া ডিঙ্গিয়ে, গাড়ির ড্যাশবোর্ডের পিছনে অথবা বাসের ইঞ্জিনের কম্পার্টমেন্টে লুকিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ছেলেকে অবৈধভাবে ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা এবং শিশুটিকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলায় আউটারার তিন বছরের জেল চাইবে কর্তৃপক্ষ।

আউটারা (৪৫) ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, 'আমি খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াবো, কারন আমি কোনও মানব পাচারকারী নই।'

এমআর/