জলাভূমির পাখি ‘কালিম’

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

জলাভূমির পাখি ‘কালিম’

এম ইদ্রিস আলী, শ্রীমঙ্গল ৬:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০২, ২০১৮

জলাভূমির পাখি ‘কালিম’

জলাভূমির পাখি কালিম। জলে ও ডাঙায় বিচরণে দু:সাহসী, লড়াকু ও মারকুটে স্বভাবের। তবে পোষ মানলে আর উড়ে যায় না চকচকে নীলচে বেগুনী কপালের এই পাখি।

শুক্রবার অবৈধভাবে বিক্রির সময় সাতটি কালিম উদ্ধার করেছে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন, একই অফিসের বুলবুল মোল্লা ও বনপ্রহরী সুব্রত সরকার সাতটি কালেম পাখিসহ বিক্রেতা ধরণী চন্দ্র দেব(৫৭) কে আটক করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসেন।

পাখি বিক্রেতা ধরণী চন্দ্র পরিবর্তন ডটকমকে জানান, পাখিগুলো ছোট থাকতে বাজার থেকে কিনে নিয়ে বাড়ীতে খাঁচায় রেখে লালন-পালন করছিলেন। পাখি বিক্রি করা যে অপরাধ তা তিনি জানতেন না।

এ ব্যাপারে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম আহমেদ জানান, পাখিগুলো অফিসে রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনাক্রমে পরবর্তীতে জব্দকৃত এসব পাখি হাওরে ছেড়ে দেয়া হবে।

পাখি বিক্রেতা ধরণী দোষ স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর পাখি বিক্রি করবেন না মর্মে অঙ্গীকার করায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের পাখি বিশেষজ্ঞ শরীফ খান জানালেন, পোষ মানলে কালেম পাখি আর উড়ে যায় না। কালেম এর ইংরেরি নাম pureleswamphen, বৈজ্ঞানিক নাম prophyrio prophyrio| দৈঘ্য ৪৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৬৫০ গ্রাম।

মারকুটে এই পাখির মাথা আলতা রঙে রাঙা। লালচে রঙের পা ও পায়ের লম্বাটে আঙুল। লেজের তলা কার্পাস তুলার মতো সাদা। চোখের পাশে বৃত্তাকারে সাদাটে ছোপ। নাদুস নাদুস স্বাস্থ্যবান।

এই পাখিরা সব সময় যেমন সতর্ক থাকে। দেখলে মনে হয় যেন রেগে আছে। শিকারীদের বন্দুকের গুলি পায়ে লাগলেও সহজে কাবু হয় না। পা মুখে কামড়ে ধরে উড়ে পালায়। এদের মূল খাদ্য জলজ উদ্ভিদ, কচি নরম পাতা, ডগাসহ পদ্মফুলের ভেতরের অংশ, ব্যাঙের বাচ্চা ছোট মাছ।

আবাসস্থল বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশের কালেম পাখির সংখ্যা কমছে জানিয়ে শরীফ খান বলেন, একসময় বিল হাওরে প্রচুর দেখা মিলত কালেম পাখি। এখন এরা হাওরাঞ্চলে কোণঠাসা অবস্থায় আছে।

বাইক্কাবিলে, হাকালুকি, ঠাঙ্গুয়ার হাওরে এদের দেখা মেলে। জোড় না মিললে, ভাল সঙ্গী না মিললে এরা ডিম পাড়ে না। গ্রীষ্ম শরতে এরা ভাসমান জলজ উদ্ভিদ গুল্ম কচুরিপানা ও ঝোঁপঝাড়ের তলায় ঢাল লতা দিয়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে।

একেকটি কালিম তিন থেকে সাতটি ডিম পাড়ে। ছানা ফোটে ১৮ থেকে ২৩ দিনে। ছানাদের বড় করতে মা বাবা পাখির যৌথ চেষ্টা থাকে। ছানারা মা বাবার পিঠে চড়ে। তেমনি মায়ের দুই পাখা ও বুকের তলায় বসে অদৃশ্য হয়ে থাকে।

এএসটি/