ভোটার হওয়ার চেয়েও এনআইডিতে নাগরিকদের গুরুত্ব বেশি : সিইসি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ভোটার হওয়ার চেয়েও এনআইডিতে নাগরিকদের গুরুত্ব বেশি : সিইসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

ভোটার হওয়ার চেয়েও এনআইডিতে নাগরিকদের গুরুত্ব বেশি : সিইসি

ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার চেয়েও নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনাআইডি) পাওয়ার গুরুত্ব বেশি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা। আগারগাঁওস্থ ইটিআই ভবনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম যুযোগপযোগীকরণ এবং ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত ফরমসমূহ পুনর্বিন্যাসকরণ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনকালে রোববার দুপুর এসব কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে ভোটার তালিকার যে সংমিশ্রণ, একটা যোগসূত্র এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণে ভোটার তালিকায় যুক্তের চেয়েও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার গুরুত্ব বেশি। তার কারণ জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া এখন কোনো কিছু করতে পারে না। নাগরিকেরা ভোট দিতে পারুক না পারুক সেটা বিষয় নয়, বিষয়টা হলো তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে হবে।

এনআইডি প্রাপ্তিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, এটা না হলে কোনো সেবাই পাওয়া যায় না। প্রবাসীদের তো আর বেশি প্রয়োজন যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে সঠিক বয়স লিপিবদ্ধ করা এবং মৃত ভোটার তালিকা থেকে কর্তন করা একটা সমস্যা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শিশুর জন্মের পর এবং কেউ মারা গেলে সে তথ্য থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে মৌখিক বিবৃতি আকারে জানানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

সিইসি বলেন, মৃত ভোটার একটা সমস্যা। বৃটিশ আমলে একটা নিয়ম ছিল। কেউ মারা গেলে থানায় ভারবাল স্ট্যাটমেন্ট দিতে হতো। কোনো বাড়িতে কোনো বাচ্চা জন্ম নিলে বা মারা গেলে থানায় মৌখিক তথ্য দিতো। চকিদার যেয়ে বলত যে, ওই বাড়িতে অমুকের একটা সন্তান জন্ম নিয়েছে। কিংবা ওই গ্রামের ওই বাড়ি অমুক মৃত্যুবররণ করেছে। থানায় এখন সেটা বলা সম্ভব কিনা, তবে চকিদার থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে এ তথ্য দিতে পারে কি না ভাবা দরকার।

তিনি আরও বলেন, ৪২ বছর বয়সের লোক ২৪, ২৪ বছর বয়সের লোক ৪২ হতে চায়। অনেকে বিয়ে পাস করার পর বলে পাসই করি নাই। নানা কারণে এটা করে থাকেন। এতে দেখা যায় বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্য ৪-৫ বছর হয়ে যায়।

তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের বলেন, প্রাইমারি পরীক্ষার সনদ দিলেও বয়স ঠিক করা সম্ভব। একেবারে সঠিক বয়স দিয়ে, পিতা-মাতার নাম দিয়ে, ঠিকানা দিয়ে ভোটার তালিকা করার এখনো সময় বোধহয় আসেনি। আপনারা তবু চেষ্টা করছেন। বয়স ঠিক মত নেয়া একটি জটিল সমস্যা। এই সমস্যা আপনাদের মোকাবেল করতে পথ বের করতে হবে। সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

তিনি বলেন, ভোটার তালিকা ও এনআইডি মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। একটার কারণে আরেকটার গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে।

কেএম নূরুল হুদা বলেন, এক সময় কোনো তালিকাই ছিল না। ভোটার যেয়ে বলত ভোট দিবো। তখনো নির্বাচন হতো, ভোট দিত। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে এমন হতো।

কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এইচকে/

 

বিশেষ আয়োজন: আরও পড়ুন

আরও