‘চাকরি স্থায়ী না করলে মেয়াদ বাড়াবেন না’

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫

‘চাকরি স্থায়ী না করলে মেয়াদ বাড়াবেন না’

মো. হুমায়ূন কবীর ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৮

‘চাকরি স্থায়ী না করলে মেয়াদ বাড়াবেন না’

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগে কর্মরত টেকনিক্যাল এক্সপার্ট ও সাপোর্টাররা তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়েছেন। সোমবার ৪০ জন টেকনিক্যাল এক্সপার্ট ও সাপোর্টার চাকরির মেয়াদ পুনরায় বৃদ্ধি না করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের আলোকে পদের নাম ও বেতন গ্রেড পরিবর্তনসহ চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে একটি লিখিত চিঠি প্রকল্প পরিচালকের কাছে জমা দেন।

জানা যায়, এর আগে চলতি মাসের ১ তারিখে আরো ৩২ জন এ বিষয়ে লিখিত জমা দিয়েছেন। সব মিলে মোট ৭২ জন তাদের দাবির বিষয়ে লিখিত জমা দিলেন।

আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিস প্রকল্পে (আইডিইএ) কর্মরত এসব টেকনিক্যাল এক্সপার্ট ও সাপোর্টার ভোটার তালিকা হালনাগাদ, এনআইডি সংশোধন, স্মার্টকার্ডসহ জাতীয় পরিচয়পত্রের বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানানোর পরও তা কার্যকর না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে একাজ করেছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক টেকনিক্যাল এক্সপার্ট বলেন, বারবার তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের কথা বলা হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান প্রকল্প পরিচালক এ বিষয়ে আন্তরিক এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু অজানা কোনো কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

তারা জানান, আমরা এখানে কাজ করতে চাই। আমাদের ডিজি স্যারও আমাদের রাখতে চান। কিন্তু এভাবে আর কত দিন। আমরা ঈদের সময়ও কোনো বোনাস পাই না। তাই বাধ্য হয়ে এই লিখিত দিয়েছি।

জানা যায়, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট-সাপোর্টাররা ২০০৭ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন (পিইআরপি) প্রকল্পে সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহযোগী হিসেবে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে টেকনিক্যাল ম্যানেজার, সহকারী টেকটিক্যাল ম্যানেজার ও টিম লিডার হিসেবে কাজ করছেন। ২০১২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত আইডিয়া প্রকল্পে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট ও টেকনিক্যাল সাপোর্টার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

২০১৩ সালের ১০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের ৪৬তম সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। কিন্তু পরে একাধিকবার আইডিইএ প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করা হলেও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি আইডিইএ প্রকল্পের ডিপিপির দ্বিতীয় সংশোধনীর সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পদ ও বেতন সমন্বয় করার বিষয়টি বলা হলেও কোনো এক অজানা কারণে সেটি বাস্তবায়ন না করেই ওই ডিপিপি সংশোধন করা হয়। একাধিকবার সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও ওই পদসমূহ পুনর্বহাল থাকায় এবং সরকারের বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন কাঠামো না হওয়ায় খোদ নির্বাচন কমিশনেই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান আইডিইএ প্রকল্পের মেয়াদ চলতি ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিশেষভাবে বর্ধিত করা হয়েছে। আর সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিতকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কিন্তু ডিপিপিতে এই কর্মকর্তাদের স্থায়ীকরণের বিষয়ে কোনো কিছুর উল্লেখ নেই। ফলে তাদের পদের নাম, বেতন গ্রেডসমূহ পরিবর্তন এবং চলমান আইডিইএ প্রকল্পের সমাপ্তির পর রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তর করে চাকরি স্থায়ী করা না হলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির পর পুনরায় আইডিইএ প্রকল্পে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ৩৯ কর্মকর্তা চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের আশ্বাস দেয়া হয়। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই শেষ হচ্ছে এ প্রকল্পের মেয়াদ। সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত হচ্ছে। এ লক্ষ্যে করা আরডিপিপিতে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের ‘সহকারী প্রোগ্রামার’ ও টেকনিক্যাল সাপোর্টারদের ‘ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল সুপারভাইজার’ পদমর্যাদার গ্রেড প্রদানের দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, সরকারের বিধি বিধান মেনে সংশ্লিষ্টদের সবধরনের দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। দীর্ঘদিন ধরে তারা আমাদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এনআইডি সেবা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত। তাদের মতো দক্ষ জনবল আমাদের প্রয়োজন। বিষয়টি কিভাবে সমাধান করা যায়, সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এইচকে/এএল