নারীতে আ’লীগ-বিএনপির চেয়ে এগিয়ে জাপা

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

নারীতে আ’লীগ-বিএনপির চেয়ে এগিয়ে জাপা

মো. হুমায়ূন কবীর ১০:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

নারীতে আ’লীগ-বিএনপির চেয়ে এগিয়ে জাপা

রাজনৈতিক দলগুলো তাদের শর্ত প্রতিপালন করছে কিনা তা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাতে বললে দলে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে শর্ত পূরণের চেষ্টায় রয়েছে বলে জবাব দিয়েছে দলগুলো।

একমাত্র গণফ্রন্টের সকল পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছে।

এছাড়া দলে নারী প্রতিনিধিত্বের দিক দিয়ে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির চেয়েও এগিয়ে রয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ১ নভেম্বর দলগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ইসিকে এবিষয়ে অবগত করার জন্য বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ দল ইসির জবাব দিতে পারেনি।

অবশ্য দলগুলো সময় চাওয়ার প্রেক্ষিতে এক মাস সময় বাড়িয়ে দেয় ইসি। ইসির নিবন্ধনে থাকা ৪০টি দলের ৩৮টি এ সময়ের মধ্যে তাদের জবাব দেয়। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসির জবাব দেয়নি, এমনকি সময়ও চায়নি ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। এদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় সে বিষয়ে কমিশনে আলোচনা চলছে বলে ইসি সূত্রে জানা যায়।

ইসিতে পাঠানো দলগুলোর জবাব থেকে জানা গেছে, প্রায় সব দলই বলেছে- নিবন্ধন শর্ত অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দলগুলো।

জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের জবাবে জানিয়েছে- ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অনুষ্ঠিত দলের ২০তম কাউন্সিলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে ১৫ জন নারী সদস্যকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সংসদে ১৬ জন নারী সদস্য ও ৪২ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য রয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে দলের সকল স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানায় দলটি।

বিএনপি জানিয়েছে, বর্তমানে দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে ১৫ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছে। তবে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ করা হবে বলেও ইসিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি জানিয়েছে, বর্তমানে দলটির সকল পর্যায়ের কমিটিতে ২০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টিতে (এনপিপি) বর্তমানে ২০ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রয়েছে।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগে ৬ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সদায় সচেষ্ট বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ১২ শতাংশ পূরণ করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ২০২০ সালের মধ্যে শর্ত পূরণ করার আশা প্রকাশ করেছে দলছি।

আর ১৫ শতাংশ পূরণ করেছে গণতন্ত্রী পার্টি, এ দলটিও ২০২০ সালের মধ্যে শর্ত পূরণ করার আশা প্রকাশ করেছে। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ। বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের চেষ্ট চলছে। চলতি বছরের মধ্যেই নিবন্ধন শর্ত পূরণ করে ইসিতে জমা দেবে বলে জানিয়েছে গণফোরাম।

বর্তমানে কত শতাংশ রয়েছে তা উল্লেখ না করে ২০২০ সালের মধ্যে শর্ত অনুযায়ী দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছে জাতীয় পার্টি (জেপি), লিবারের ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

ইসির রোডম্যাপে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত দলগুলো বিধি-বিধানের আলোকে পরিচালিত হচ্ছে কি না, খতিয়ে দেখার আইনানুগ দায় ইসির রয়েছে। তারা শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যাতে সব নিবন্ধিত দল একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

৯০বি (১)(বি)-তে বলা হয়েছে, দলের কেন্দ্রীয়সহ সব স্তরের কমিটি নির্বাচিত হতে হবে; দলের কেন্দ্রীয়সহ সব স্তরের কমিটি নির্বাচিত হতে হবে; ২০২০ সালের মধ্যে সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে; ছাত্র-শিক্ষকসহ পেশাজীবী কোনো সহযোগী সংগঠন থাকবে না; ওয়ার্ড-থানা-উপজেলা ও জেলা কমিটির মতামত নিয়ে কেন্দ্রীয় বোর্ডের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করতে হবে।

এ বিষয়ে ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার যুগ্ম-সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. আবুল কাসেম এর আগেই পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, দলগুলো শর্ত পূরণের শর্তেই নিবন্ধন নিয়েছে। এখন তা পালন করছে কি না তা খতিয়ে দেখতে মাঠপর্যায়ে আমরা অনুসন্ধান করব।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, দলগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর নির্বাচিত কমিটি ও মাঠ অফিসের কার্যক্রম ঠিক রয়েছে কিনা তা সঠিকভাবে যাচাইয়ে একটি ‘বিশেষ দল’ তদন্তে নামবে। নিবন্ধনের সময় দেয়া শর্ত পূরণ করতে না পারলে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘কারণ দর্শানো’ নোটিশ দিয়েই প্রাথমিক পদক্ষেপ শুরু হবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর এ পর্যন্ত ৪২টি দল বিন্ধিত হয়েছে। এরমধ্যে স্থায়ী সংশোধিত গঠনতন্ত্র দিতে না পারায় ২০০৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল এবং আদালতের আদেশে ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ রয়েছে।

এইচকে/এমএসআই