বিনিয়োগ না বাড়লে দায় সরকারের

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬

বিনিয়োগ না বাড়লে দায় সরকারের

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৬

বিনিয়োগ না বাড়লে দায় সরকারের

আসছে অর্থবছরে দেশের বেসরকারিখাতে কাঙ্ক্ষিত হারে বিনিয়োগ না হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। কারণ বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নীতি-কৌশল, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘অর্থপাচার : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনায় শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর  ড. ফরাস উদ্দিন আহমেদ এ সব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সাবেক এ গভর্নর বলেন, দেশে বর্তমানে বিনিয়োগবাদ্ধব পরিবেশের অভাব রয়েছে। এ কারণে অর্থপাচারও বাড়ছে। বিনিয়োগ পরিবেশ ভালো থাকলে অর্থপাচার হতো না। অনেকে অর্থপাচারের পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অনিশ্চয়তার অভিযোগ করছেন।

তিনি বলেন আসছে অর্থবছরেও বিনিয়োগের এ খরা অব্যাহত থাকলে এ দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। কারণ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির জন্য নীতি-কৌশল, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

ফরাসউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি (জিএফআই) উপস্থাপন করে বলেন, ২০০৭ সালের চেয়ে ২০০৮ সালে অর্থপাচার ৬০ শতাংশ বেশি হয়েছে। কারণ ওই সময়টাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের দূরত্ব ও মতপার্থক্য তৈরি হয়। এজন্য তখন অর্থ দেশে না রেখে বিদেশে পাচার করেছেন তারা।

তিনি বলেন, একই ঘটনা ২০১৪ সালেও ঘটেছে। ২০১৩ সালের তুলনায় ওই বছর ৩৫ শতাংশ বেশি অর্থপাচার হয়েছে। এর মূল কারণ ২০১৪ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। আরেক পক্ষ নির্বাচনটি ঠেকাতে চেয়েছিল। এই সংঘাত বা অস্থির পরিবেশে অর্থপাচার হওয়াটা স্বাভাবিক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের মতে, অর্থপাচারের এ ব্যাপকতা ঠেকাতে হলে দেশে নিরাপদ মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পাচারকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশে দুই ধরনের অপরাধের বিচার হয় না। এক, স্বর্ণ চোরাচালানের। দুই, ফরেন কারেনসি পাচারের। অনেকেই ক্যাপিটেল অ্যাকাউন্ট লিবারালাইজেশনের কথা বলছেন। মনে হয় এটা করার এখন সময় এসেছে।

আলোচনায় সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, ড. আকবর আলী খান, এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ উপস্থিত ছিলেন।

এফএ/একে

 

: আরও পড়ুন

আরও