দোকানে গিয়ে ওষুধ নিল হনুমান

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দোকানে গিয়ে ওষুধ নিল হনুমান

ডেস্ক রিপোর্ট ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

দোকানে গিয়ে ওষুধ নিল হনুমান

শনিবার সকাল নয়টায় মল্লারপুর স্টেশন চত্বর মানুষের ভিড়।চলছে কুস্তি খেলা। সেই খেলা দেখতে স্টেশনে ঢোকার মুখেই মানুষের হুই-হুল্লোর।

অবশেষে দেখা মিলল দুই পূর্ণবয়স্ক হনুমানের মারপিট। সেটা দেখতেই উৎসুক জনতার ভিড়।

হনুমান দুটি একে অপরকে আঘাত করে মাটিতে ফেলার লড়াই। এই মল্লুযুদ্ধ দেখে অনেকেই আনন্দে হাততালি দিচ্ছে।

এরই মাঝে একে অপরের আঘাতে দুটি হনুমানই জখম হলো।একটি হনুমান বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো। আরেকটি এই স্থানেই আঘাত নিয়ে চুপিসারে বসে রইল। ক্ষত-স্থান থেকে রক্তও ঝড়তে দেখা গেল।

হঠাৎ করে বসে থাকা রক্তাক্ত হনুমানটি ঠাসা স্টেশন চত্ত্বরে যাত্রী নেয়ার একটি বাহনে চুপিসারে উঠে গেল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আচমকা একটি বাহনে চড়ে বসে রক্তাক্ত হনুমানটি। করুণ চোখে এক যাত্রীর গায়ে হাত রেখে বোঝানোর চেষ্টা করে সে আক্রমণ করবে না। মল্লারপর স্টেশন থেকে খানিকটা দূরে পঞ্চায়েত ভবনে আসলেই একটি ওষুধের দোকানের সামনে নেমে পড়ে হনুমানটি।

ওষুধ দোকানের মালিক আনাজুল আজিম বলেন, ‘দোকানের সামনের বেঞ্চে অপেক্ষা করছিল হনুমানটি। দোকানের ভিড় একটু কমতেই লাফ দিয়ে কাউন্টারে উঠে কোমরের নীচে ও শরীরের অন্য অংশে ক্ষতস্থানগুলো দেখাতে থাকে। আমার হাত ধরে এমন ভাব করে যেন চিকিৎসা চাইছে।’

দোকানে ওষুধ নিতে আসা এক কাস্টমার শক্তিপদ মিস্ত্রি রক্তাক্ত হনুমানের ক্ষতে মলম ও ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দেন।ওষুধ লাগানোর পরও হনুমানটি স্থান ত্যাগ না করে ক্ষতস্থানগুলি বারবার দেখাতে থাকে। দোকানদার বুঝতে পারলেন,শরীরে ব্যথার জন্য হনুমানটি হয়ত এরকম করছে।একটি চা কাপে কিছু পানি নিয়ে একটি ব্যথানাশক ওষুধও খাওয়ানো হয় তাকে। সঙ্গে কয়েকটি কলা।

কিছুক্ষণ বসে থেকে আনাজুলের কাঁধে হাত রেখে দোকানের কাউন্টার থেকে রাস্তায় নেমে ফের একটি স্টেশনগামী বাহনে চড়ে চলে যায় হনুমানটি।

মল্লারপুরের ঘটনা মনে করিয়ে দেয় বছর দুয়েক আগে আগে হুগলির চুঁচুড়া ইমামবাড়া (সদর) হাসপাতালে পুরুষ বিভাগে কর্তব্যরত নার্সদের চমকে দেয়া এক হনুমনের কথা। ডান পায়ে রক্ত ঝরছিল। নার্সদের বারবার ক্ষতস্থান দেখিয়ে হাত নেড়ে ডাকতে থাকে হনুমানটি। অন্যরা ভয় পেলেও একজন নার্স এগিয়ে এসে হনুমানটির চিকিৎসা তারপরে তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে শুশ্রূষা হয়েছে বুঝতে পেরে চলে গিয়েছিল হনুমানটি।

বন্যপ্রাণী গবেষক শান্তিনিকেতনের ঈশানচন্দ্র মিশ্র বলেন, ‘যে সব প্রাণী মানুষের কাছাকাছি থাকে তাদের কেউ কেউ মানুষের আচরণ, কার্যকলাপ অনুসরণ করে। হনুমান, বাঁদর বা কুকুরের অনুসরণের ক্ষমতা অনেক বেশি।’

এমকে

 

বিচিত্র জগত: আরও পড়ুন

আরও