বিশ্বের প্রথম কিছু উদ্ভাবন

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

বিশ্বের প্রথম কিছু উদ্ভাবন

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৯

বিশ্বের প্রথম কিছু উদ্ভাবন

মানুষের উদ্ভাবিত জিনিসগুলো প্রতিনিয়ত-ই উন্নত হচ্ছে। এই শতাব্দীতে যা কিছু দৃশ্যমান অবশ্যই সেগুলো উন্নত মডেলের। পুরোনো দিনে সেসব বস্তু দেখতে কেমন ছিল নিশ্চয়ই এই প্রশ্ন আমাদের মনে কৌতুহল জাগায়! শত বছর কিংবা হাজার বছর আগের তৈরি একেবারে প্রথম কোনো জিনিসের অবয়ব দেখাটাও খুবই আনন্দদায়ক। সভ্যতা আর প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে আমরা চারপাশে এখন যেসব পণ্য দেখি শুরুতে সেগুলোর চেহারা কেমন ছিল সেসবের অল্প কিছু ধারণা নিন-

১. বিশ্বের প্রথম ছবি

এ পর্যন্ত পাওয়া বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ছবি এটি। অনেকে বিশ্বের প্রথম তোলা ছবি হিসেবেও আখ্যা দেন। ‘লা গ্রাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে’‘ভিউ ফ্রম দ্য উইন্ডো অ্যাট লি গ্রাস’ শিরোনামের এ ছবিটি ১৮২৬ সালে তোলা হয়েছিল। ফ্রান্সের উদ্ভাবক ও ফটো গ্রাফার নিসেফঁরি নাইপি ফ্রান্সের সেইন্ট লুপ ডি ভেরেনাসের লা গ্রাস কাউন্টি স্টেটে বসে ছবিটি তুলেন। ছবিটি তোলার জন্য ফটোগ্রাফার নাইপি নিজ হাতে বানানো অবসকিউর ফোকাস ক্যামেরা ব্যবহার করেন। তিনি আট বাই দশ ইঞ্চির একটা প্লেটে ছবিটি ধারণ করেন। প্রথম যুগে এখনকার মতো সুইচ চাপলেই ছবি ওঠে যেত না। একটি ছবি তোলার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত। ‘লা গ্রাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে’ ছবিটি তোলার জন্য সময় লেগেছিল আট ঘন্টা।

২. বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা

১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফটো গ্রাফিক পণ্য নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কোডাকের ইঞ্জিনিয়ার স্টিভ স্যাসন আবিষ্কার করেন ডিজিটাল ক্যামেরা। আকারে টোস্টার মেশিনের মতো এ যন্ত্রটি ১০০ X ১০০ রেজ্যুলেশন বা শুন্য দশমিক ০১ মেগা পিক্সেল আকারের সাদা কালো ছবি তৈরি করতে পারত। ছবি তোলার পর সেটি সংরক্ষণ করা হত ক্যাসেটে। অডিও ক্যাসেট আকারের সেই ক্যাসেটে একটি ছবি সংরক্ষণ করতে সময় লাগত ২৩ সেকেন্ড। ছবি দেখার জন্য এর সঙ্গে একটি স্পেশাল কম্পিউটার ও টেপ রিডার ক্যামেরার সঙ্গে বিল্ট ইন ছিল। টেপ থেকে এটি দেখতেও ২৩ সেকেন্ড সময় লাগত।

৩. বিশ্বের প্রথম মোটর সাইকেল

বিশ্বের প্রথম মোটর সাইকেলটি নির্মাণ করেছিলেন জার্মানির ব্যাড ক্যান্সটাট শহরের বিজ্ঞানী গটলিব ডিমলার ও উইলহেলম মেব্যাচ। ১৮৯৪ সালের ২০ জানুয়ারি দুই সিলিন্ডার এর চার-স্ট্রোক ইঞ্জিনের এই মোটর সাইকেলটির পেটেন্ট অনুদিত হয়। মোটর সাইকেলটির অনুমোদিত পেটেন্ট এর ওজন ছিল মাত্র ৫০ কেজি। ১৪৮৯ সিসির বাইকটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ৪৫ কি.মি. প্রতি ঘণ্টা। ১৮৮৫ সালে নির্মিত এ বাহনটিকে মোটর সাইকেল না বলে ইঞ্জিন চালিত বাই সাইকেল বললেই যেন ঠিক হবে। যদিও উদ্ভাবকরা এটিকে ‘পরিভ্রমণের গাড়ি’ নামে ডাকতেই পছন্দ করতেন।

৪. বিশ্বের প্রথম গাড়ি

চার চাকার গাড়ির প্রচলন শুরু হওয়ার আগে ছিলো তিন চাকার গাড়ি। যে গাড়িটি আবিষ্কার করেন জার্মানির বিজ্ঞানী কার্ল বেঞ্জ। তিনি ১৮৮৬ সালে গাড়িটি তৈরি করেন। তার মার্সেডিস কোম্পানিই গাড়িটি তৈরি করেন। এই কার্ল বেঞ্জ’ই প্রথম বিশ্বে পরিচিত করিয়ে দেন যন্ত্রদানব (গাড়ি)কে। আরো জানা যায়, বিশ্বের প্রথম এই গাড়িটি ছিলো স্টিম ইঞ্জিন চালিত গাড়ি। যার চাকা ছিলো তিনটি। যা দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের রিকশার মতো। দুই সিটের এ গাড়িটির টপ স্পিড ছিলো ১৬ কিলোমিটার পার আওয়ার। গাড়িটি প্রথম চালিয়েছেন বেঞ্জ নিজেই। পরবর্তীতে স্বামীর অনুমোতি ছাড়াই চুরি করে প্রথম মহিলা চালক হিসেবে গাড়িটি চালিয়েছিলেন তার স্ত্রী বার্থা বেঞ্জ।

৫. বিশ্বের প্রাচীন রেস্টুরেন্ট

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন রেস্টুরেন্টটি অবস্থিত মাদ্রিদে। এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৭২৫ সালে। সেই থেকে এখনো চালু রেস্টুরেন্ট এটি। ‘বোটিন’ নামের রেস্টুরেন্টটির সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারের নাম ‘কোচিনিলো’। এটা শুকরের রোস্ট। আরো দেয়া হয় হারবাল খাবার ও রসুন। স্থানীয়রা খুবই পছন্দ করেন। এত পুরনো হওয়ার কারণে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলেই মনে হয় এটি কোনো জাদুঘর বুঝি। একসময় এটি সবরিনো ডি বোটিন নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে ‘রেস্তুরেন্তে বোটিন’ নামে বিখ্যাত হয়ে রয়েছে।

৬. প্রথম ম্যাগাজিন

‘দ্য জেন্টল ম্যান’ হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ম্যাগাজিন যা লন্ডন থেকে প্রকাশ পায়। ১৭৩১ সালে প্রকাশিত হয় একটি অ্যালবাম যাতে ‘ম্যাগাজিন’ শব্দটি প্রথম আলোচনায় আসে। অ্যাডওয়ার্ড কেভ নামের এক ভদ্র লোক ‘সিল ভেনাস আর্বান’ ছদ্ম নামে এটার সম্পাদনা করতেন। ১৯০৭ সালের সেপ্টেম্বরে দ্য জেন্টেল ম্যানের প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

৭. প্রথম অ্যালবাম কভার

আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে যখন মিউজিক অ্যালবাম বের হত, তখন সেগুলো ব্রাউন পেপার দিয়ে বানানো প্যাকেটে মুড়িয়ে বাজারজাত করা হত। ১৯৩৮ সালে আসে এর পরিবর্তন। সেই বছর মার্কিন গ্রাফিক ডিজাইনার অ্যালেক্স স্টেইন উইজ কলম্বিয়া রেকর্ড থেকে বের হওয়া রজার ও হার্টস নামের দুই শিল্পীর যৌথ মিউজিক রেকর্ডটির কভার বানান তিনি। সেটাই ছিল মোন মিউজিক রেকর্ডের প্রথম কভার।

৮. প্রথম এক্স-রে

জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী ভিলহেলম কনরাড রন্টগেন ১৮৯৫ সালের ২২ ডিসেম্বর ফটোগ্রাফিক প্লেটে সদ্য উদ্ভাবিত অজানা আলো, এক্স-রের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এমন সময় তার স্ত্রী আনা বার্থা সেখানে উপস্থিত হন। রন্টগেনও মনে মনে কাউকে আশা করছিলেন। তিনি চাইছিলেন নতুন এ অজানা আলো (এক্স-রে) যার ভেদনক্ষমতা আছে, সেটি মানব দেহের ভেতর দিয়ে গিয়ে ফটোগ্রাফিক প্লেটে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় তা পর্যবেক্ষণ করা। রন্টগেন তার স্ত্রীকে ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপরে হাত রাখতে বলেন। এরপর তিনি তড়িৎক্ষরণ নল থেকে ক্যাথোড রশ্মি নিক্ষেপ করেন। সেই রশ্মি বার্থার হাত ভেদ করে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া রেখে যায়। সেটাই ছিল বিশ্বের প্রথম এক্স-রে। এবং ফিজিক্স এ প্রথম নোবেল ও তিনি ই পান।

৯. প্রথম গগণ চুম্বি ভবন

১৮৮৫ সালে আমেরিকার ইলিনয় প্রদেশের শিকাগো শহরে নির্মাণ করা হয় ‘হোস ইন স্যুরেন্স ভবন’ কে বিশ্বের প্রথম গগণ চুম্বী ভবন বলে মনে করা হয়। ১০ তলা বিশিষ্ট ১৩৮ ফুট উচ্চতার এই ভবনটি ইস্পাত ও সিমেন্টের সমন্বয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। যা পরে দুটি তলা বাড়ানো হলে এর উচ্চতা দাঁড়ায় ১৮০ ফুট। ১৯৩১ সালে এটি ভেঙে ফেলা হয়।

১০. প্রথম গেইম

বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার গেইম প্রাথমিক ফর মেট ছিল ভিডিও গেইম,সে হিসেবে ক্যাথড রে টিউব অমিউজ মেন্ট ছিল ১৯৪৭ সালের ২৫ জানুয়ারী প্রথম পেটেন্ট কাইন্ড কম্পিউটার গেইম।তবে কম্পিউটারে নয় একটি এনালগ ডিভাইসের স্কিনে বিভিন্ন টার্গেট পয়েন্টে মিসাইল নিক্ষেপ করা নিয়েই প্লট করা হয়েছিল গেইমটির।

১১. প্রথম ওয়েবসাইট

European Organization for Nuclear Research, সংক্ষেপে সার্ন (CERN)-এর ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স লি ১৯৮৯ সালে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড ওয়েব তথা ইন্টারনেট উদ্ভাবন করেন। প্রথম ওয়েবসাইটটির ঠিকানা ছিল— (টেক্সট আকারে আসবে ভয়েস ওভার হবে লিঙ্ক টুকু) http://info.cern.ch/hypertext/WWW/TheProject.html এই অ্যাড্রেসে গেলে এখনও সেই প্রথম ওয়েবপেজটি দেখা যাবে।

সূত্র: npr.org

ইসি/

 

বিচিত্র জগত: আরও পড়ুন

আরও