উল্টো দিকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়েও ৯৯ বছরের জীবন নারীর

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

উল্টো দিকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়েও ৯৯ বছরের জীবন নারীর

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৯

উল্টো দিকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়েও ৯৯ বছরের জীবন নারীর

রোজ ম্যারি বেন্টলি ছিলেন একজন দক্ষ সাঁতারু, পাঁচ সন্তানের জননী এবং তার স্বামীর দোকানের সহকারী। নিরানব্বই বছর স্বাভাবিকভাবে বেঁচে ছিলেন তিনি।

কিন্তু তার মৃত্যুর পর মেডিকেলের ছাত্ররা আবিষ্কার করে বেন্টলির হৃৎপিণ্ড ছাড়া আর সব অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উল্টো জায়গায় রয়েছে।

বুধবার ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানায়। এ ঘটনাকে ‘চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্ময়’ বলে অভিহিত করছেন গবেষকরা।

বিরল এ শারীরিক অবস্থার কথা এ সপ্তাহে সম্মেলনে অ্যানাটমিস্ট বা শারীরস্থানবিদদের সম্মেলনে প্রথম জনসমক্ষে আনা হলে সবাই তাজ্জব বনে যান। বিজ্ঞানীরা অবাক হন বেন্টলি এত দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকায়। ‘সিটাস ইনভারসাস’ নামে পরিচিত এ অবস্থার মানুষের জীবন হৃদরোগসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়।

পোর্টল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানাটমি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্যামেরন ওয়াকারের ক্লাসে মৃতদেহ পরীক্ষার সময় বেন্টলির শরীরের এই অস্বাভাবিকতা প্রথম ধরা পড়ে। তারা দেখতে পান বেন্টলির অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেখানে থাকার কথা সেখানে নেই।

ওয়াকার জানান, তিনি প্রথমে কৌতূহলী এবং পরে চিকিৎসাবিদ্যার এই অত্যাশ্চর্য ঘটনাটি আরো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

পরে তিনি এ ধরনের মানুষ সাধারণত কতদিন বাঁচে তা নিয়ে গবেষণা করে জানতে পারেন আগে এ ধরনের ব্যক্তি ৭৩ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার রেকর্ড রয়েছে।

বেন্টলির পরিবার তার শরীরের এ অবস্থার কথা জানত না, তিনি নিজেও জানতেন না। এ ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা যায় গড়ে ২২ হাজার মানুষের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে।

বেন্টলি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন এবং বাতের ব্যথা ছাড়া তার আর কোনো শারীরিক কষ্ট ছিল না বলে জানান তার মেয়ে লুইস অ্যালি।

তবে বেন্টলির বয়স যখন পঞ্চাশের কোঠায় তখন তার অ্যাপেন্ডিক্স খুঁজে পাননি ডাক্তাররা। এর এক দশক পর তার গলব্লাডার অপসারণের সময় ডাক্তাররা দেখেন, সেটি যেদিকে থাকার কথা তার উল্টোদিকে রয়েছে।

অ্যালি বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ কোনো কথাও বলেনি। আমি অবাক হয়েছিলাম। আপনি হয়ত আশা করবেন যে কেউ কিছু বলবে এ বিষয়ে, কিন্তু তারা কিছু বলেনি।’

বেন্টলি যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন রাজ্যের একমাত্র হেলথ সেন্টারে তার মৃতদেহ দান করে যান।

অ্যালি আরো বলেন, তার মাম যদি জানতেন যে দেহদান করে যাওয়ায় মানুষ নতুন জিনিস জানতে পেরেছে তাহলে তিনি খুব খুশি হতেন।

অধ্যাপক ক্যামেরন ওয়াকার বলেন, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কেস। এর ফলে ভবিষ্যতে ডাক্তাররা অ্যানাটমিতে সামান্য ব্যাতিক্রম দেখলে তা আরো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

তিনি বলেন, ‘বাইরেরটা দেখে ভেতরে কী আছে আন্দাজ করবেন না। কারও যত্ন বা সেবার বিষয়ে কথা বলার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখবেন।’

এমআর/এইচআর