কুকুরের কাছে ক্ষমা না চাওয়ায় চালককে হত্যা

ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫

কুকুরের কাছে ক্ষমা না চাওয়ায় চালককে হত্যা

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৮

কুকুরের কাছে ক্ষমা না চাওয়ায় চালককে হত্যা

গাড়ি ধাক্কা মেরেছিল পোষা কুকুরকে। তাই পোষ্যের কাছে ক্ষমা না চাওয়ায় চালককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার মধ্যরাতে ভারতের দক্ষিণ পশ্চিম দিল্লির উত্তম নগর এলাকার মোহন গার্ডেন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, নিহতের নাম বিজেন্দ্র রানা (৪৫)।

অভিযুক্ত অঙ্কিত, পরশ ও তাদের ভাড়াটিয়া দেব পলাতক রযেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার মধ্যরাতে মোহন গার্ডেন এলাকার বাসিন্দা দুই ভাই অঙ্কিত, পরশ ও  তাদের ভাড়াটিয়া দেব খোশগল্প করছিলেন। সঙ্গে ছিল অঙ্কিত-পরশদের পোষা কালো রঙের একটি ল্যাব্রাডার।

সেই সময় বিজেন্দ্র রানা নিজের টেম্পু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি আসতে দেখে ছুটে যায় সেই পোষা কুকুর। তাতে বিজেন্দ্রর টেম্পুতে কুকুরটির গায়ে সামান্য ধাক্কা লেগে যায়।

কুকুরের চিৎকার শুনে ছুটে এসে আসেন অঙ্কিতরা। বিজেন্দ্রকে চুল ধরে গাড়ি থেকে নামিয়ে কুকুরের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন তিন জন। কিন্তু বিজেন্দ্র রাজি না হয়ে উল্টে কুকুরকেই সাবধানে রাখতে বলেন। তিন জনের হাত থেকে কোনওরকমে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বাড়ির দিকে দৌড়ে পালাতে শুরু করেন।

প্রায় ৫০ মিটার দূরে গিয়ে তাকে ধরে ফেলেন তিন জন। টেনে হিঁচড়ে ঘটনাস্থলের কাছে নিয়ে আসেন। শুরু হয় মারধর। তার মধ্যেই তাকে পর পর বেশ কয়েকবার ছুরি ঢুকিয়ে দেন অভিযুক্তদের এক জন। পেটে স্ক্রু ড্রাইভার ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন বিজেন্দ্র। সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করতে থাকেন।

ভাইয়ের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন রাজেশ। তাকেও পর পর ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে বিজেন্দ্র ও রাজেশকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বিজেন্দ্রকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ঘটনাস্থলের কাছেই একটি সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিজেন্দ্রকে ছয় বার এবং রাজেশকে তিন বার ছুরি মারা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে গেছেন অভিযুক্তরা। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই মদ্যপ ছিল।

টিএটি/এসবি