দর্শক রুচি নিয়ে যা বলল নন্দিতা হল!

ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫

দর্শক রুচি নিয়ে যা বলল নন্দিতা হল!

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭

দর্শক রুচি নিয়ে যা বলল নন্দিতা হল!

‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ সিনেমার ট্রেলার দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। তাদের মতে, ২০১৭ সালে এসে এমন সিনেমা বানানোর মানে হয় না। তার উত্তর দিয়েছে সিলেটের নন্দিতা সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকে অফিসিয়াল পাতায় জানানো হয়, নিয়মিত দর্শক ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ বা ‘অহংকার’-এর মতো সিনেমাই দেখতে চান। যারা শুধু অনলাইনে সমালোচনা করেন, তারা ‘ডুব’ বা ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর ট্রেলার দেখেও চুপ থাকতে পারেন না।

সেখানে বলা হয়, “গত কোরবানির ঈদে 'অহংকার' সিনেমার ট্রেলার দেখেও এমন অনেকে বস্তাপচা/ফ্লপ ট্যাগ লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা ঈদে ‘অহংকার’ চালাবো দেখে অনেকে পেজের কমেন্টে আমাদের গালাগালি পর্যন্ত করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল হাইপ জাগানো অন্য সিনেমাটি হাইপের জোরে কয়েকদিন ভালো চললেও কিছুদিন পর এটার সেল ড্রপ শুরু হয় এবং দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ‘অহংকার’-এর হল বাড়া শুরু হয়। হ্যাঁ, ‘অহংকার’-এর মেকিং দুর্বল ছিল কিন্তু গল্প ভালো হওয়াতে (যদিও গতানুগতিক গল্প ছিল) দর্শক এটি গ্রহণ করেছে এবং এটি ভালো ব্যবসা করেছে। নন্দিতায় চলেছে টানা ৩ সপ্তাহ। সিনেমাটি ৫ম সপ্তাহে এসেও এই সপ্তাহে চলছে দেশের ৭০টি হলে।”

আরো বলা হয়, ‘এমন অনেক সিনেমা আছে যেগুলো ট্রেইলারে চমক দেখিয়েছে কিন্তু সিনেমা ভালো হয়নি। আবার অনেক সিনেমা আছে যেগুলোর ট্রেইলার আহামরি মনে না হলেও সিনেমা ভালো ব্যবসা করেছে।’

হল কর্তৃপক্ষের মতে, “অহংকার’ বা ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ সিনেমাগুলো তাদের উদ্দেশ্যই বানানো হয় যারা হলের রেগুলার দর্শক। যারা প্রতি শুক্রবার এলেই প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখতে আসেন। যেসব দর্শক বছরে বা দুই বছরে একবার সিনেমা হলে আসেন তাদের জন্য এই সিনেমা নয়।”

তাদের মতে, ‘যারা ফেসবুকে সমালোচনা করছেন তাদের দশভাগও যদি তাদের পছন্দের ভালো সিনেমাগুলো সিনেমা হলে এসে রেগুলার দেখতেন তবে ইন্ডাস্ট্রির চেহারাই বদলে যেতো। এই বছরেই অনেকগুলো ভালো সিনেমা (তাদের পছন্দের) রিলিজ পেয়েছে, কিন্তু সেগুলোতে তেমন দর্শক হয়নি।’

“এই ফেসবুক সমালোচকদের সন্তুষ্ট করা খুব কঠিন কাজ। তারা কমার্শিয়াল সিনেমার সমালোচনা তো করবেই, সাথে খুঁজে খুঁজে তাদের পছন্দের সিনেমারও খুঁত বের করবে। অলরেডি বলা শুরু হয়েছে ‘ডুব’-এর কালার গ্রেডিং ভালো হয়নি, ‘ডুব’-এ তিশার ডায়লগ ক্ষেতমার্কা, ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর ভিএফএক্সের কাজ ভালো হয়নি ইত্যাদি ইত্যাদি। সিনেমাগুলো রিলিজের পর দেখা যাবে ফেসবুক ভরে গেছে খালি খুঁত আর খুঁত ধরতে ধরতে। তাদের পছন্দের সিনেমাটি আনলেও যে তারা দেখতে আসবে সেই নিশ্চয়তা নাই। এই শ্রেনীর দর্শকদের উপর হল মালিকদের ভরসা তাই খুব কম।”

আরো বলা হয়, “কোয়ালিটি বিবেচনায় নিলে গত দুই ঈদ মিলে সবচেয়ে ভালো সিনেমা ছিল ‘রাজনীতি’। কিন্তু এটি মোটামুটি চলেছে, সিনেমাটি কোয়ালিটি বিবেচনায় যতটা ভালো ব্যবসা করার কথা সেভাবে ব্যবসা করতে পারেনি। এই ঈদের ‘সোনাবন্ধু’ সিনেমাটার গল্প ভালো ছিল। কিন্তু সেল খুব খারাপ গেছে। দর্শকের অভাবে নন্দিতায় টানা ৫ দিন নাইট শো বন্ধ ছিল। আপনি মানেন আর নাই মানেন এটাই সত্য যে আমাদের দেশে ভালো সিনেমার দর্শক নাই।

কলকাতার ‘বেলাশেষে’ ও ‘পোস্ত’ সিনেমা দুটি সেখানে শতাধিক হল পেয়েছিল। টানা চলেছিল ১০০ দিনের উপর। বাংলাদেশে এই সিনেমা দুটি হল পেয়েছিল ২০টার মতো, কোনরকমে চলেছিল ১ সপ্তাহ। কমলেশ্বরের ‘চাঁদের পাহাড়’ যদি কলকাতায় রিলিজ না হয়ে বাংলাদেশে রিলিজ পেতো তবে ২০ কোটি বাদ দেন, ২ কোটি উঠতো কিনা সন্দেহ।

এগুলোর কথা বাদ দিন। ইউটিউবে রিলিজের পর সাড়া জাগানো সিনেমা ‘অজ্ঞাতনামা’ বলাকা সিনেমা হলে এমন খারাপ সেল গিয়েছিল যে মাত্র ৫ জন দর্শক নিয়েও শো চালাতে হয়েছিল। এ রকম উদাহরণ চাইলে অনেক দেয়া যাবে।

আরেকটা কথা, প্লিজ সিনেমা দেখতে না আসার কারণ হিসেবে হলের পরিবেশের কথা বলবেন না। বলাকা, শ্যামলী, মধুমিতার পরিবেশ নিশ্চয়ই ভালো। তবুও যখন বলাকায় ৫ জন দর্শক নিয়ে শো চালাতে হয় তখন বুঝতে হবে সমস্যা পরিবেশে নয়, সমস্যা অন্য জায়গায়।

ফেসবুকের বেশিরভাগ দর্শক মূলত সিনেমার ইউটিউবের দর্শক। এরা অপেক্ষায় থাকে সিনেমাটা কখন ইউটিউবে আসবে আর ফ্রিতে নামিয়ে দেখবে। পাইরেসি হলে তো কথাই নেই। ‘আয়নাবাজি’ পাইরেসির আগের দিনেও যা সেল হয়েছিল পাইরেসি হওয়ার পর নন্দিতায় পরের সারা সপ্তাহে সেই সেলের অর্ধেকও হয়নি। আমাদের দেশে এখনো সেই শ্রেনীর দর্শক তৈরী হয়নি যে ঘরে পাইরেটেড প্রিন্ট রেখে হলে সিনেমা দেখতে আসবে। যেটা ভারতে অহরহ হয়। তাদের সিনেমা রিলিজের পরের দিনই হলপ্রিন্ট বের হয়ে যায়। কিন্তু তাতে সিনেমা হলে দর্শকের অভাব হয় না।”

মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ মুক্তি পাবে ২০ অক্টোবর। অভিনয় করেছেন ডিপজল, মৌসুমী, বাপ্পী ও মিম।

ডব্লিউএস