চারবছরে পুঁজি ফেরত ১৭ ছবির!

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

চারবছরে পুঁজি ফেরত ১৭ ছবির!

আহমেদ জামান শিমুল ৫:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৫, ২০১৭

চারবছরে পুঁজি ফেরত ১৭ ছবির!

বাংলাদেশের সিনে ইন্ডাস্ট্রিতে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালে মুক্তি পেয়েছে ২৫৪টি ছবি। এর মধ্যে মাত্র ১৭টি পুঁজি ঘরে তুলেছে। এমনই চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন পরিচালিত এক গবেষণাপত্রে। জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে এফডিসিতে এক সেমিনারে তিনি গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন। সেখানে জানান, পুঁজি ফেরত পাওয়া ছবিগুলোকে ‘ব্যবসাসফল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

২০১৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ছবি মুক্তি পায় যথাক্রমে ৫২, ৭৮, ৬৬ ও ৫৮টি। এর মধ্যে ১৭টি ছবি ব্যবসাসফল হয়, যার ১৩টি একক প্রযোজনা ও ৪টি যৌথ প্রযোজনার।

২০১৩ সালে দেহরক্ষী, পোড়ামন, ভালোবাসা আজকাল, পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ও জটিল প্রেম পুঁজি তুলে আনে। পরের বছর অগ্নি, রাজত্ব, আমি শুধু চেয়েছি তোমায়, হিরো দ্য সুপার স্টার ও অনেক সাধের ময়না সফলতা পায়। ২০১৫ সালে রোমিও বনাম জুলিয়েট, লাভ ম্যারেজ ও রাজাবাবু টাকা তুলতে পারে। সর্বশেষ বছরে শিকারি, বাদশা দ্য ডন, শুটার ও আয়নাবাজির প্রযোজক লাভের মুখ দেখেন।

ড. জাহাঙ্গীরের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ চার বছরে গড়ে মুক্তি পায় ৬৩.৫টি ছবি। ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়েছে ৬.৬৯ শতাংশ। বাকি ৯৩.৩১ শতাংশ অর্থাৎ ২৩৭টি ছবির প্রযোজক পুঁজি ফেরত পাননি। এ সময়কালে ৯৭ জন পরিচালকের অভিষক হয়েছে— যথাক্রমে ১৭, ৩০, ৩১ ও ১৯ জন।

কেন এ ভয়াবহ চিত্র? বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশে ৪০০ এর মতো হল ছিল যেগুলো থেকে একজন প্রযোজক এক সপ্তাহে ২০-৩০ হাজার টাকা শেয়ার মানি পেতেন। কিন্তু হলগুলো বন্ধ হয়েছে আমরা ছবি দিতে পারছি না বলে। এমন না যে আমাদের এখানে ছবি হচ্ছে না। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? সমস্যা হচ্ছে, ডিজিটাল হওয়ার পর হলে ডিজিটাল প্রজেকশন মেশিন বসানো হয়েছে। যার ভাড়া ১২ হাজার করে। এছাড়া একজন রিপ্রেজেন্টিভ হলে যান টিকিটের হিসেব রাখতে, তার বেতন এবং পোস্টার-ব্যানার খরচ বাবদ ৫-৬ হাজার খরচ আছে। দিনশেষে প্রযোজকের হাতে আসবে সর্বোচ্চ ২-৩ হাজার টাকা। তাই হলগুলোকে প্রযোজকরা ইচ্ছে থাকলেও ছবি দিতে পারছেন না।’

আরো বলেন, ‘এখন যদি প্রযোজককে প্রজেক্টর ভাড়া দেওয়া না লাগত তাহলে এ ৪০০ হল থেকে ৩০-৪০ লাখ টাকা নিশ্চিত পেতেন।’

প্রযোজকদের নেতা খোরশেদ আলম খসরু প্রজেক্টর ভাড়া বন্ধ করে সরকারি উদ্যোগে সার্ভারের মাধ্যমে ছবি প্রদর্শনের উপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল প্রজেকশনের নামে ইলেকট্রনিক প্রজেকশন হচ্ছে। সরকারকে যেসব হল ভেঙে মার্কেট হচ্ছে সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে একটি করে মাল্টিপ্লেক্স তথা সিনেপ্লেক্স রাখতে হবে। ই-টিকিটিং চালু করতে হবে হল মালিকদের টিকিটের টাকা চুরি বন্ধে।’

পুঁজি ফেরত আনতে না পারলেও গবেষণাপত্রটিতে আলোচিত ছবির একটি তালিকা প্রকাশ হয়। ২০১৩ সালের ছবির মধ্যে রয়েছে মৃত্তিকা মায়া, অন্তর্ধান, টেলিভিশন, অনিশ্চিত যাত্রা, একই বৃত্তে, আয়না কাহিনী, কাজলের দিনরাত্রি, শুনতে কি পাও ও শিখন্ডি কথা। ২০১৪ সালে আকাশ কত দূরে, ৭১ এর মা-জননী, ৭১ এর ক্ষুদিরাম, মেঘমল্লার, নেক্কাবরের মহাপ্রয়াণ, দেশা দ্য লিডার, অনুক্রোশ, জীবন ঢুলি, বৃহন্নলা, প্রিয়া তুমি সুখী হও, অন্ধ নিরঙ্গম, জোনাকির আলো ও বৈষম্য। ২০১৫ সালে অনিল বাগচির একদিন, শোভনের স্বাধীনতা, সুরিনগর, জালালের গল্প, নদীজন, হরিযুপিয়া, পদ্মপাতার জল ও বাপজানের বায়োস্কোপ। সর্বশেষ বছরে রয়েছে অজ্ঞাতনামা, শঙ্খচিল, কৃষ্ণপক্ষ, ছিন্নমূল, বেলাশেষে ও আন্ডার কনস্ট্রাকশন।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলোচিত তালিকায় রাখা অনেক ছবিই একটির বেশি হলে মুক্তি পায়নি!

এজেডএস/ডব্লিউএস