আজ হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

আজ হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০১৯

আজ হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ ১৯ জুলাই। বাংলাদেশের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন।

ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশে নানা অনুষ্ঠানে তার ভক্ত-শুভার্থীরা কামনা করেছিলেন তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। কিন্তু মানুষের সেই প্রার্থনা পূরণ হয়নি। তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুতে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। সেই শোক আজও কাটেনি ভক্ত-পাঠকদের হৃদয় থেকে। হুমায়ূন নেই, কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

দিবসটি উপলক্ষে কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে রয়েছে নানা আয়োজন। দিনটি উপলক্ষ্যে সকাল থেকে কোরআনখানি, হুমায়ূন আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল। এলাকার শিশুদের খাওয়ার আয়োজন রয়েছে আজ। প্রকাশকরা নুহাশপল্লীতে কথাশিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাবেন।

 

এ উপলক্ষে তার গ্রামের বাড়ি কেন্দুয়ার কুতুবপুরে নিজ হাতে গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহিদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে হুমায়ূনের অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া বিকালে কেন্দুয়া চর্চার সাহিত্যা আড্ডার আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সড়কে রিপোর্টাস ক্লাবে আলোচনা সভার হবে।

একই সময় হুমায়ুন আহমেদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠিত সভা হবে। নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের আয়োজনে সন্ধ্যায় আলোচনা সভার কথা রয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনকও বটে। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। জনপ্রিয়তার জগতে তিনি একক ও অনন্য।

হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের জুলাই মাসের ১৬ তারিখে তিনি চলে যান লাইফ সাপোর্টে। সেই অবস্থাতেই ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিউইয়র্ক থেকে ২০১২ সালের ২৩ জুন দেশে ফিরিয়ে আনা হয় হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ। ২৪ জুন তাকে সমাহিত করা হয় তার গড়ে তোলা গাজীপুরের নুহাশপল্লীর লিচুতলায়।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়ো। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোটো ভাই। সবার ছোটো ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা ও নয় নম্বর বিপদসংকেত, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ প্রভৃতি। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন। দেশের বাইরেও তাকে নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তার প্রমাণ, জাপান টেলিভিশন ‘এনএইচকে’ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছে ১৫ মিনিটের তথ্যচিত্র ‘হু ইজ হু ইন এশিয়া’।

ইসি/

 

ঢালিউড: আরও পড়ুন

আরও