৪৬ বছর আগে জয়ার মা-বাবার দেখাও হয়নি!

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

৪৬ বছর আগে জয়ার মা-বাবার দেখাও হয়নি!

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৮

print
৪৬ বছর আগে জয়ার মা-বাবার দেখাও হয়নি!

জয়া আহসানের বয়স নিয়ে চর্চা নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি এ গুণী অভিনেত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আরেক চোট আলোচনা হয়ে গেল। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম প্রচার করেছে, ৪৬ বছর পূর্ণ করেছেন ঢাকা-কলকাতার নায়িকা।

এ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিলেন জয়া আহসান। সেখানে বলেন, ‘৪৬ বছর আগে আমার বাবা-মা’র বিয়ে তো দূরের কথা, দেখাও হয়নি।’

সাম্প্রতিক একটি সিনেমার প্রসঙ্গ ধরে কথা তোলেন জয়া— “বিরসা দাশগুপ্তের ‘ক্রিসক্রস’ চলচ্চিত্রের টিজার ও গান মুক্তি পেল। অপ্রত্যাশিত সাড়া পেয়েছি আমরা। ভালো হোক কিংবা মন্দ— আমার অভিনীত চলচ্চিত্র কিংবা আমার কাজ নিয়ে বেশিরভাগ চলচ্চিত্র দর্শকই গুরুত্বের সাথে মতামত দেন। কখনো আমার কাজ আমার ভক্তদের গর্ব বাড়িয়ে দেয়, কখনো আমি তাদের হতাশ করি।

তবে যারা আমার কাজ অপছন্দ করেন কিংবা যারা আমাকে অপছন্দ করেন, তাদের আমি অপছন্দ করি না। বরং তাদের ব্যাপারে আমি আরো অনেক বেশি যত্নশীল। গঠনমূলক সমালোচনাই তো একজন শিল্পীকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে দেয়। আমি আমার অভিনয় জীবনে বরাবরই সমালোচকদের দেখানো পথে চলবার চেষ্টা করেছি। তবে শুধুমাত্র ‘বলার জন্য বলা’ নেতিবাচক মন্তব্য কখনো আমার ভেতর প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে আমি নির্ভার।”

বয়স প্রসঙ্গে বলেন, “তবে ইদানিং ২/১ টি বিষয় আমাকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ইদানিং বেশ কয়েকজন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা/ উইকিপিডিয়ার তথ্যসূত্র টেনে আমার বয়স নিয়েও বেশ চর্চা করছেন। বলা হচ্ছে, আমার বয়স নাকি ৪৬! গুজব-গুঞ্জন আমি বরাবরই খাবরের লবণের মতো উপভোগ করে গিয়েছি। দু-একজন সমবয়সী কিংবা আমার চেয়ে বয়সে বড় শ্রদ্ধাভাজন সহকর্মী (বিশেষ করে বেশ কয়েকজন অভিনেত্রী) গণমাধ্যমে নিজেদের অধিকার মনে করে আমার বয়স (ভুল তথ্য) নিয়ে চর্চা করেছে-বিষয়টি মজার। তাই এতদিন উপভোগ করেই গিয়েছি। তবে খুব সম্ভবত আমার চুপ থাকাটাকে অনেকে ‘মৌনতা সম্মতির লক্ষণ’ হিসেবে ধরে নিয়েছেন। নিন্দুকেরাও ‘অস্ত্র’ হিসেবে আমার বয়সের ভুল তথ্য প্রচার করে আনন্দ পাচ্ছেন।

এ ক্ষেত্রে আমি প্রথম ও শেষবারের মত সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই: বয়স নয়। একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় হওয়া উচিত তার কাজে। ৪৬ কিংবা ৫৬ কিংবা তার চেয়েও বেশি বয়স হলেই অভিনেত্রীরা কাজের অযোগ্য কিংবা তারুণ্যদীপ্ত চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন না— এমন ধারণা বিশ্বের কোনো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিই পোষণ করেন না। তাই ব্যক্তি জয়া আহসানের যে বয়স, তা নিয়ে আমি এতটুকু বিচলিত নই। তবে ভুল তথ্য প্রচার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সবার উদ্দেশ্যে অনুরোধ করছি। বিশেষ করে আমার কাজ যারা পছন্দ করেন, দায়িত্বশীল যেসব সাংবাদিক আমাকে নিয়ে দু কলম লিখবার মতো যোগ্য মনে করেন, তারা ভবিষ্যতে বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে দেখবেন বলেই আশা করছি।”

জয়া শুধু বয়সই নয়, অন্যান্য ভুল তথ্য নিয়ে কথা বলেন। তার ভাষ্যে, ‘কারণ প্রকৃত সত্য হলো, ৪৬ বছর আগে আমার বাবা-মা’র বিয়ে তো দূরের কথা, দেখাও হয়নি। এতদিন বিষয়টি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছি। তবে ইদানিং বিষয়টি মাত্রাতিরিক্ত আকার ধারণ করায় পরিবার ও কাছের বন্ধুদের অনুরোধে লিখতে বাধ্য হয়েছি। সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, একজন শিল্পীর জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরবার আগে নূন্যতম একবার তার সাথে কথা বলা উচিত। কারণ শুধু বয়স ভুলের তথ্যই নয়, বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার আরো দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে (প্রকৃত তথ্য : আমরা দুই বোন ও এক ভাই)। বলা হয়, আমার বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় (প্রকৃত তথ্য : গোপালগঞ্জ)। শুধু তাই নয়, আমার বাবার নামও লেখা হয় আলী আহসান সিডনী (প্রকৃত তথ্য : অভিনেতা জিতু আহসানের বাবা প্রখ্যাত অভিনেতা সৈয়দ আলী আহসান সিডনী। আমার বাবা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এস মাসউদ)। রয়েছে আরো অনেক ভুল তথ্য। আশা করছি ভুল শুধরে ভবিষ্যতে আমরা প্রতিটি শিল্পী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা করব। কারণ ভক্তরা যেমন তার পছন্দের শিল্পী সম্পর্কে ভুল তথ্য কিংবা ভুল ব্যাখ্যা পড়তে পছন্দ করেন না, শিল্পীরাও প্রতি নিয়ত ভুল তথ্য দিয়ে ভক্তদের বিভ্রান্ত করতে চান না।”

বিভ্রান্তি এগিয়ে চলার জন্য সাংবাদিকদেরও অনুরোধ করেন তিনি।

চলতি বছরে পরপর বেশ কয়েকটি সিনেমায় কলকাতায় দেখা যাবে জয়াকে। আর সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মুক্তি পাবে ‘দেবী’। অনম বিশ্বাস পরিচালিত সরকারি অনুদানের সিনেমাটির সহ-প্রযোজকও জয়া।

ডব্লিউএস

 
.



আলোচিত সংবাদ