শাকিব খানকে বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫

শাকিব খানকে বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ২:৪২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮

শাকিব খানকে বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গের সিএনজি অটোরিকশা চালক ইজাজুল মিয়ার দায়ের করা মামলা থেকে চিত্রনায়ক শাকিব খানের নাম বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. শাহ আলম। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা জাহানের আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সর্বশেষ ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘রাজনীতি’ সিনেমায় ইজাজুলের মোবাইল নম্বর ব্যবহৃত হওয়ায় মামলাটি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সিনেমাটির প্রযোজক আশফাক আহমেদ ও পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ওসি মো. শাহ আলম বলেন, ‘সিনেমায় যারা অভিনয় করেন তারা শুটিংয়ে পরিচালকের নির্দেশ মেনে চলেন। পরিচালক যে ডায়ালগ দিতে বলেন নায়ক-নায়িকারা সেই ডায়ালগ দেন। ডায়ালগের ব্যাপারে সাধারণত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিজের কোন মতামত নেই। আলোচ্য মামলায় নায়ক শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস দুজনই ভালোবাসা আদান-প্রদান করেছেন পরিচালকের নির্দেশে। মামলায় শাকিব খানকে আসামি করা হলেও অপু বিশ্বাসকে আসামি করা হয়নি। অপরাধী হলে দুজনই অপরাধী।’

তিনি মামলাটির ব্যাপারে আইন বিষয়ক অভিজ্ঞ অনেকের সাথে কথা বলেছেন। আইনের বিধান মেনে শাকিব খানকে অভিযোগ থেকে বাদ দিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘যেহেতু আলোচিত সিনেমায় বাদী ইজাজুল মিয়ার অনুমতি ব্যতীত তার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে এবং তার নম্বরে অনেক ফোন আসায় তার মানসম্মান হেয় হয়েছে সেজন্য মামলার অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৪ মাস তদন্ত শেষে ৩১ পাতার এই প্রতিবেদন তৈরি করেন। এই সময়ের মাঝে তিনি ৬ জনের ৬১ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এফডিসিসিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য উপাত্ত এবং মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়।

মামলার প্রধান আসামি নায়ক শাকিব খান ভারতে শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় হবিগঞ্জে আসেননি। তবে তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ হয়েছে। অপর দুই আসামি হবিগঞ্জে এসে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

ওসি মো. শাহ আলম জানান, মামলায় ৪২০ ধারার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ৫০০ ধারার অস্তিত্ব আছে। সেন্সর বোর্ড থেকে যেহেতু সিনেমাটি অনুমতি পেয়েছে তাই নায়ককে অভিযুক্ত করার সুযোগ নেই।

এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ জানান, মামলার আসামির তালিকা থেকে শাকিব খানকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নাই। এ ব্যাপারে প্রতিবেদনের উপর নারাজি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাদী ইজাজুল মিয়াও বলেন, ‘যেহেতু সিনেমায় শাকিব খান আমার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছে তাই তাকে বাদ দেওয়ায় ওই প্রতিবেদনের উপর আদালতে নারাজি দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৯ অক্টোবর হবিগঞ্জের আদালতে ৫০ লাখ টাকার মানহানির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন ইজাজুল মিয়া। এর আগে শাকিবভক্তদের মোবাইল ফোনে অতিষ্ঠ হয়ে ইজাজুল বানিয়াচং থানায় শাকিব খান, আশফাক আহমেদ ও বুলবুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়রি করেন।

ইজাজুল জানান, ‘রাজনীতি’ ছবিতে নায়িকা অপু বিশ্বাসকে যে মোবাইল নম্বরটি শাকিব দেন সেটি আসলে তার। সিনেমা মুক্তির পর শাকিবভক্তদের অনবরত কল আসতে থাকে। অপরিচিত মেয়েদের কাছ থেকে সারাদিন ফোন আসতে থাকায় স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত সন্দেহে স্ত্রী মিশু আক্তার বাপের বাড়িতে চলে যান ১৬ মাস বয়সী একমাত্র শিশু কন্যা ইমুকে নিয়ে।

অন্যদিকে, একের পর এক কল আসায় সিএনজির মালিক বাদল মিয়া ফোন করে সময় মতো ইজাজুলকে না পেয়ে তার চালকের চাকরি থেকে বাদ দেন। এর সূত্র ধরে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।

গত ৬ মার্চ বিচারক শম্পা জাহান ১৪ মার্চের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ডিবির ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ মানতে ডিবির ওসি মো. শাহ আলম নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

কেএটি/ডব্লিউএস