সাভারে সবজির বাম্পার ফলন, দাম পাচ্ছে না চাষিরা

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সাভারে সবজির বাম্পার ফলন, দাম পাচ্ছে না চাষিরা

সাভার প্রতিনিধি ৭:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

সাভারে সবজির বাম্পার ফলন, দাম পাচ্ছে না চাষিরা

ঢাকার সাভারে এবার শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে দাম পাচ্ছে না চাষিরা।

সরেজমিনে সাভারের বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লালশাক, মুলা, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাঁটাশাক, সিম, বেগুন, শসা, ঢেঁড়স, গাজর, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে।

তবে সবজি চাষিরা বলছেন, সবজির ফলন ভাল হলেও দাম পাচ্ছি না। ক্ষেতে পরিচর্যায় দিনমজুরের টাকা, সার, বীজ ও চাষাবাদের পর পরিবহন খরচসহ অন্যান্য খরচ মিলে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সাভারের হাড়িভাঙ্গা এলাকায় ১৫ শতক জমির পালং শাক ৯৫ হাজার টাকায় কিনেছেন ব্যবসায়ী ছলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ১১ জন দিনমজুর নিয়ে ক্ষেতের পালং শাক তুলতে হচ্ছে। প্রতি লেবারের হাজিরা ৬০০ টাকা। শাক তোলার পর যাত্রাবাড়ি পাইকারী আড়তে নিয়ে যেতে হবে। শনিবার সকালে বিক্রয়ের জন্য। পাইকারী দরে প্রতি আটি ১০ টাকা করে বিক্রি করা হবে। তবে বাজার বুঝে দাম আরও কমতেও পারে। তিনি বলেন, ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে যে শাক ক্রয় করেছি তা বিক্রির পর লাভ তো দূরের কথা চালান উঠাতেও হিমসিম খেতে হবে।

সাভারের গান্ধারিয়া, বেরাইদ ও রাজাঘাট এলাকা ঘুরেও প্রচুর সবজি ক্ষেত লক্ষ করা গেছে। তবে সকল চাষিদের একই কথা দাম পাচ্ছি না।

রাজাঘাট এলাকার মো. সামসুদ্দিন ১৩ পাখি জমিতে বেগুন, পালংশাক, লাল শাক, ফুলকপি, মূলা, লাউ ও পেঁপে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, দৈনিক ৬০০ টাকা হাজিরায় লেবার নিয়ে ক্ষেত পরিচর্যা করতে হয়। কিন্তু শাক-সবজি ক্ষেত থেকে তুলে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যেতে যে ব্যয় হবে তাতে বিক্রির পর খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হবে মনে করছেন তিনি।

রাজাঘাট এলাকার আলকাছ মিয়া ৫ পাখি জমিতে লাউ চাষ করেছেন। খুচরা বাজারের একটি লাউ ৭০ থেকে ৮০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু পাইকারী বাজারের আমাদের প্রকার ভেদে একেকটি লাউ ২০ থেকে ৪০টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে আমরা এতো কষ্ট করে চাষাবাদ করেও লাভের মুখ দেখতে পারি না।

সাভারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, প্রকৃত পক্ষে পাইকারী বাজারে সবজির দাম কম। কিন্তু আড়ৎ থেকে সবজি কেনার পর খাজনা, বিভিন্ন চাঁদা দেয়ার পর বাধ্য হয়ে বেশি টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

এসএ/এমকে

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও