ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঐতিহ্যবাহী মত্তের মঠ

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঐতিহ্যবাহী মত্তের মঠ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ৬:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৯

মানিকগঞ্জের ২শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মত্তের মঠ। জেলা সদর থেকে ৩/৪ কিলোমিটার দূরে মত্ত গ্রামে মঠটি অবস্থিত।

তবে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই মত্তের মঠ।

মঠের ৩শ গজের মধ্যেই রয়েছে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ নোবেল জয়ী ড. অর্মত্যসেনের বাড়ি। মঠের অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে মাঝে মাঝে বিদেশ থেকেও দর্শনার্থীরাও ভিড় জমায়।

স্থানীয় জনশ্রুতিতে রয়েছে, ২শ বছরেরও আগে এই গ্রামে হেমসেন নামে এক অত্যাচারী জমিদার ছিলেন। তার পরগনায় কেউ জুতা পায়ে, ছাতা মাথায় দিয়ে হাঁটতে পারত না। হেমসেন অত্যাচারী হলেও তিনি ছিলেন প্রচণ্ড পিতৃভক্ত। বাবার মৃত্যুর পর তার শেষ কৃত্যস্থলে মঠটি নির্মাণ করে তিনি স্থাপন করেন পিতৃভক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

নিটল দিঘীর পাড়ে পনের শতাংশ জমির উপর দুইশ ফুট উঁচু অপরূপ মঠটি নির্মাণে ইরাক থেকে কারিগর আনা হয়। মঠের ওপরে বসানো হয় ৫টি সোনার কলস, যা হেমসেন তার বাবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান স্থলে রেখে ছিলেন।

সুনিপুণ কারুকার্য আর সুউচ্চ মঠটি তৎকালীন অবিভক্ত পূর্ব বাংলার বিশাল স্থাপনা নিদর্শন হিসেবে দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। ১৩২৬ সালে আশ্বিন মাসের কোনো এক ঝড়ে মঠটির উপরের কলসসহ প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে নিটল দিঘীতে পড়ে যায়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মঠটিতে বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের আগমন লক্ষ্য করা যায়। ১৯৬৫-’৬৬ সালের দিকে আমেরিকার একদল পর্যটক এই মঠ (প্রথম হেলিকপ্টার অবতরণ) দেখতে এসে মেরামতের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু এলাকার খ্যাতনামা বিভিন্ন ব্যক্তির ধর্মীয় গোড়ামীর কারণে তা সম্ভব হয়নি।

১৯৭২ সালের দিকে চীনের একদল পর্যটক মঠটি দেখে এর নির্মাণশৈলী নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

সরকারিভাবে মঠটিকে সংরক্ষণ করে এর ঐহিত্য ধরে রাখার দাবি স্থানীয়দের।

এইচআর

 

ভিডিও: আরও পড়ুন

আরও